ভাইপো গ্যাং’ ২ কোটি টাকা দিয়ে খুন করিয়েছে, চন্দ্রনাথ রথ হত্যায় অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে ২ কোটি টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘ভাইপো গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তাঁর।

ভাইপো গ্যাং’ ২ কোটি টাকা দিয়ে খুন করিয়েছে, চন্দ্রনাথ রথ হত্যায় অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম : চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ‘ভাইপো গ্যাং’ রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রাক্তন সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে খুনের জন্য ভাড়াটে খুনিদের ২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মঙ্গলবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত এক রোড শোয়ে এই অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

নন্দীগ্রামের কর্মসূচিতে শুভেন্দু বলেন, চন্দ্রনাথ রথের সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ ছিল তিনি বিরোধী দলনেতাকে সাহায্য করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৬ মে কলকাতার কাছে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য আছে বলে উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, চন্দ্রনাথকে খুন করার জন্য ২ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল এবং সেই টাকা ভাড়াটে খুনিদের দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, ‘ভাইপো গ্যাং’-ই এই ঘটনার পিছনে রয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের বেশ কয়েকজনের কথোপকথনের কল রেকর্ডিংও তিনি শুনেছেন বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তবে মামলাটি বিচারাধীন হওয়ায় এই বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি বলে জানান।

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তের পর আদালতে অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছে সিবিআই। অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত এবং তিনি বিশ্বাস করেন, অভিযুক্তদের ফাঁসি হবে।

এদিকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর কারণেই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং দু’টি আসনেই জয়ী হন। পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত করে ওই আসনটি নিজের দখলে রাখেন শুভেন্দু। ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন