দৈনন্দিন সরকারি কাজের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ভাষা হোক হিন্দি, শিমলায় হিন্দি দিবসে বার্তা

শিমলার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিতে হিন্দি দিবস পালিত হল। সরকারি কাজ, গবেষণা, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় হিন্দির ব্যবহার আরও বাড়ানোর উপর জোর দিলেন বক্তারা।

দৈনন্দিন সরকারি কাজের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ভাষা হোক হিন্দি, শিমলায় হিন্দি দিবসে বার্তা
শিমলা: দৈনন্দিন সরকারি কাজের পাশাপাশি জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, শিক্ষা এবং বৌদ্ধিক চর্চার ক্ষেত্রেও হিন্দিকে আরও কার্যকর ভাষা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হল শিমলায় আয়োজিত হিন্দি দিবসের অনুষ্ঠানে। সোমবার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডি (IIAS)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হিন্দি দিবসের তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি কাজকর্ম থেকে শুরু করে গবেষণা ও জ্ঞান আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে হিন্দির সহজ, সাবলীল এবং কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ফেলো ড. অনুরাধা রাতুরির পরিবেশনায় সরস্বতী বন্দনার মাধ্যমে। এরপর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর হিন্দি দিবসের বার্তা পাঠ করা হয়। বার্তায় যোশী হিন্দিকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতীয় পরিচয় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন। দৈনন্দিন কাজকর্মে সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হিন্দির ব্যবহার বাড়ানোর উপর তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্য পূরণে হিন্দি-সহ ভারতের বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইআইএএস-ও হিন্দি দিবস উদযাপনের পাশাপাশি নবি মুম্বইয়ে আয়োজিত ষষ্ঠ সর্বভারতীয় হিন্দি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিন্দির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সরকারি ভাষা নীতির বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাতীয় স্তরে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের এই অংশগ্রহণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা হিন্দির ব্যবহার নিয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। গ্রন্থাগার সহায়ক দীপক শর্মা এবং দফতর সহায়ক সুরেন্দ্র রামোলা সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে হিন্দির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন। ফেলো ড. তাহসিন মাজার, ড. সুমেষ্ঠা, সহযোগী ফেলো ড. কুমার বরুণ এবং জাতীয় ফেলো অধ্যাপক সচ্চিদানন্দ মহান্তি শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা এবং সমকালীন বৌদ্ধিক পরিসরে হিন্দির ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে ফেলো অধ্যাপক সঞ্জয় ভট্ট হিন্দির বৃহত্তর বৌদ্ধিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে, ভাষাকে শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। জ্ঞান, চিন্তা এবং বৌদ্ধিক আলোচনারও অন্যতম ভিত্তি ভাষা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দিকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার আরও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং পরিবর্তনশীল জ্ঞানভাণ্ডারের যুগে হিন্দির নতুন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তাদের মতে, সরকারি কাজের পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা, জ্ঞান সৃষ্টি এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে হিন্দির ব্যবহার আরও সহজ ও কার্যকর করে তোলা গেলে ভাষাটির পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আবাসিক চিকিৎসা আধিকারিক ড. মীনু আগরওয়াল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরকারি ভাষা বিভাগের সচিব ড. অখিলেশ পাঠক। আইআইএএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিন্দির প্রসার এবং অধ্যয়ন, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক কাজ ও জ্ঞান সৃষ্টির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভাষাটির ব্যবহার আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই হিন্দি দিবসের আয়োজন করা হয়েছে।



Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন