ক্ষমতায় এসেই প্রশাসনিক গতি বাড়াতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি দপ্তরে শূন্যপদের হিসেব তলব থেকে আয়ুষ্মান ভারত চালু, নতুন মেডিকেল কলেজ ও জন ঔষধি কেন্দ্র— একাধিক বড় ঘোষণায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের দ্রুত কাজের বার্তা স্পষ্ট।
উদয় বাংলা : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক কাঠামোয় দ্রুত গতি আনতে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। ক্ষমতায় এসেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মূল বার্তা হয়ে উঠেছে— দেরি নয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও দ্রুত বাস্তবায়ন। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণা সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শনকেই আরও স্পষ্ট করে দিল। সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিনের কর্মী সংকট মেটানো থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এবং সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা— সব মিলিয়ে নতুন সরকার যে গতির উপর জোর দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলিতে কত শূন্যপদ রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত দপ্তরকে সেই তালিকা জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ জারি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মী সংকট প্রকট আকার নিয়েছিল। বহু জায়গায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মেয়াদ বাড়িয়ে কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগ কার্যত থমকে গিয়েছিল আইনি জটিলতায়।
তৃণমূল সরকারের আমলে বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ও মামলা প্রশাসনিক কাঠামোয় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের জেরে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। তার ফলে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য— প্রায় সব ক্ষেত্রেই শূন্যপদ বাড়তে থাকে। নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনকে সচল করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে সরকারি দপ্তরে ‘আঠেরো মাসে বছর’ চলবে না। কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় মেনে পরিষেবা দিতে হবে এবং কাজের সংস্কৃতিতে বদল আনাই হবে সরকারের লক্ষ্য।
একইসঙ্গে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তনের রূপরেখা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণমাত্রায় চালু হতে চলেছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ দেশজুড়ে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। রাজনৈতিকভাবে এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।
নতুন সরকারের কৌশল হল সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বয়ের রাজনীতি তুলে ধরা। সেই কারণেই পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের বড় অংশকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার একদিকে কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যয় কমাতেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় দুরারোগ্য রোগের ওষুধে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আরও ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জন ঔযধী কেন্দ্র
খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সস্তায় জেনেরিক ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যখাতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপর চিকিৎসার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঘোষণা হল প্রত্যেক জেলায় অন্তত একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এতদিন জটিল চিকিৎসার জন্য কলকাতাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর নির্ভরতা ছিল প্রবল। নতুন রোড ম্যাপ অনুযায়ী জেলা স্তরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করা গেলে গ্রামীণ এলাকার মানুষও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারেন। একইসঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলিতে কত শূন্যপদ রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসেব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত দপ্তরকে সেই তালিকা জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ জারি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মী সংকট প্রকট আকার নিয়েছিল। বহু জায়গায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মেয়াদ বাড়িয়ে কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগ কার্যত থমকে গিয়েছিল আইনি জটিলতায়।
তৃণমূল সরকারের আমলে বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ও মামলা প্রশাসনিক কাঠামোয় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের জেরে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যায়। তার ফলে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য— প্রায় সব ক্ষেত্রেই শূন্যপদ বাড়তে থাকে। নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনকে সচল করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে সরকারি দপ্তরে ‘আঠেরো মাসে বছর’ চলবে না। কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় মেনে পরিষেবা দিতে হবে এবং কাজের সংস্কৃতিতে বদল আনাই হবে সরকারের লক্ষ্য।
একইসঙ্গে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তনের রূপরেখা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণমাত্রায় চালু হতে চলেছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ দেশজুড়ে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। রাজনৈতিকভাবে এই ঘোষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।
নতুন সরকারের কৌশল হল সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বয়ের রাজনীতি তুলে ধরা। সেই কারণেই পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের বড় অংশকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার একদিকে কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আস্থা তৈরির চেষ্টা করছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যয় কমাতেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় দুরারোগ্য রোগের ওষুধে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আরও ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জন ঔযধী কেন্দ্র
খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সস্তায় জেনেরিক ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যখাতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপর চিকিৎসার আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঘোষণা হল প্রত্যেক জেলায় অন্তত একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এতদিন জটিল চিকিৎসার জন্য কলকাতাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর নির্ভরতা ছিল প্রবল। নতুন রোড ম্যাপ অনুযায়ী জেলা স্তরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করা গেলে গ্রামীণ এলাকার মানুষও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেতে পারেন। একইসঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন