বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ঐক্যের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম, অতিবাম ও বিভিন্ন বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুললেন তিনি।
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তিনি শুধু নির্বাচনী লড়াই হিসেবে নয়, গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর কথায়, রাজ্যজুড়ে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপি বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা।
মমতার এই আহ্বান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিরোধিতার পর বাম ও অতিবাম শক্তির প্রতি তাঁর এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কটাক্ষের সুরে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তবুও বিজেপির উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
কালীঘাটের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর বাড়ির অনুষ্ঠান ঘিরেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডেকরেটরদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান আয়োজনের নানা ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নিজেদের উদ্যোগেই সমস্ত ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর লাগাতার আক্রমণ চলছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটছে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেত্রীর।
ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মমতা। সেই তহবিলের মাধ্যমে আক্রান্তদের আর্থিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আইনি বিষয়গুলির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনাও টানেন মমতা। তাঁর দাবি, বাম সরকারের পতনের পর তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি হতে দেননি। অথচ এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি তাঁর ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।
নির্বাচনী ফল নিয়েও ফের প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তৃণমূল পরাজিত হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সেই সত্য সামনে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের একাধিক বিজেপি বিরোধী নেতা ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। ভোটের নিরিখেও বিজেপি এগিয়ে থাকলেও বাম ও কংগ্রেসের ভোটের একটি বড় অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্ন তুলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে মমতার এই ঐক্যের আহ্বান আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উদয় বাংলা : রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের দিনেই রাজনৈতিক পাল্টা বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ঐক্যের ডাক দেন। বাম, অতিবাম, জাতীয় দল, ছাত্র-যুব সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তিনি শুধু নির্বাচনী লড়াই হিসেবে নয়, গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর কথায়, রাজ্যজুড়ে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপি বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা।
মমতার এই আহ্বান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিরোধিতার পর বাম ও অতিবাম শক্তির প্রতি তাঁর এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কটাক্ষের সুরে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তবুও বিজেপির উত্থানের প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
কালীঘাটের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর বাড়ির অনুষ্ঠান ঘিরেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডেকরেটরদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান আয়োজনের নানা ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নিজেদের উদ্যোগেই সমস্ত ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর লাগাতার আক্রমণ চলছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটছে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেত্রীর।
ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মমতা। সেই তহবিলের মাধ্যমে আক্রান্তদের আর্থিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আইনি বিষয়গুলির দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনাও টানেন মমতা। তাঁর দাবি, বাম সরকারের পতনের পর তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি হতে দেননি। অথচ এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি তাঁর ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।
নির্বাচনী ফল নিয়েও ফের প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তৃণমূল পরাজিত হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সেই সত্য সামনে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের একাধিক বিজেপি বিরোধী নেতা ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। ভোটের নিরিখেও বিজেপি এগিয়ে থাকলেও বাম ও কংগ্রেসের ভোটের একটি বড় অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্ন তুলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে মমতার এই ঐক্যের আহ্বান আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন