‘পঞ্চবিদ্যা’ নৃত্যপ্রদর্শনী ঘিরে বিতর্ক সোস্যাল মিডিয়ায়। শিল্পী রাত্রি দাস দিলেন সৃজনশীলতার স্বাধীনতার পক্ষে বার্তা। মতভেদ সত্ত্বেও শিল্পচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচন কি?
মহানগরী কলকাতার মঞ্চে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চবিদ্যা’ শীর্ষক নৃত্যপ্রদর্শনীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শিল্পের স্বাধীনতা ও নতুন সৃজনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল শিল্পী গোষ্ঠী রেনবো ড্যান্স ট্রুপ, যারা বরাবরই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ভাবনার প্রয়োগে বিশ্বাসী। বস্তুত, কলকাতা মুক্তচিন্তার শহর। আর এই পর্বে বেশিরভাগ মানুষ শিল্পীর সৃজনশীলতার পক্ষেই রায় দিয়েছেন।
‘পঞ্চবিদ্যা’ মূলত পাঁচটি ভারতীয় লোকনৃত্যের উপাদানকে আধুনিক কোরিওগ্রাফির সঙ্গে মিলিয়ে এক অভিনব থিমেটিক উপস্থাপনা। তবে এই আধুনিকতা এবং পরীক্ষামূলক প্রয়াসের কিছু অংশ দর্শকদের একাংশের কাছে অচেনা ও বিতর্কিত মনে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মত উঠে এসেছে—কেউ প্রশ্ন তুলেছেন লোকনৃত্যের স্বকীয়তা নিয়ে, আবার কেউ বলেছেন, সময়ের সঙ্গে শিল্পের রূপান্তর অনিবার্য।
এই বিতর্কের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—শিল্প কখনও স্থির নয়, বরং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। সমাজের ভাবনা, সময়ের ছাপ এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভব—সব মিলিয়ে শিল্প নতুন ভাষা খুঁজে নেয়। সেই জায়গা থেকেই ‘পঞ্চবিদ্যা’কে অনেকেই দেখছেন এক সাহসী প্রয়াস হিসেবে, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলের একাংশও মনে করছে, শিল্পীদের স্বাধীনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে দর্শকের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই শিল্পচর্চাকে সমৃদ্ধ করে। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতভেদ যেন সংলাপের পথ খুলে দেয়—এমনটাই মত অনেকের।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর প্রধান শিল্পপরিচালক রাত্রি দাস তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিল্পকে বিচার করার আগে তার অন্তর্নিহিত ভাবনা ও প্রেক্ষাপট বোঝা প্রয়োজন। মঅনুষের মধ্যেই ঈশ্বরের অবস্থান, আর সেই মানবিক সত্তার প্রকাশই শিল্পের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া বা প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নতুন ভাবনার শিল্পচর্চাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। বিতর্ককে তিনি দেখছেন সমাজের এক প্রতিফলন হিসেবে, যেখানে বিভিন্ন মতামত সহাবস্থান করে। তাঁর কথায়, শিল্প কখনও সবার কাছে একইভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে—এটাই স্বাভাবিক, আর এই ভিন্নতাই শিল্পকে জীবন্ত রাখে।
তাঁর কথায়, 'অনেক তো হলো...যুক্তি, তর্ক, ট্রোলিং, ভাইরাল...সবাই কিন্তু সিলিকন নিয়ে পাবলিসিটি পেলো...কিন্তু বিষয়টা হলো, যারা খুব উত্তেজিত—মানে যারা প্রত্যেকের পোস্টে গিয়ে বড় বড় রামায়ণ, মহাভারত লিখছেন—অবশ্যই তাদের মা কালীর উন্মুক্ত বক্ষ নিয়ে এত সমস্যা... সত্যি, সেটা দেখে ওঠা আমার উচিত ছিল... কারণ সমাজে এত ভোগবিলাসী মানুষ আছে সেটা ভুলেই গিয়েছিলাম...। দেখুন, আমি বা আমরা কেউ কিন্তু আপনাদের কোনওভাবে ছোট করিনি... যদি মায়ের রূপ সহ্য করতে না পারেন, সেটা আপনাদের ব্যর্থতা... আর হ্যাঁ, আমি দেবী নই, মানুষ... আমি কালীও নই, আমি মানুষ...। কিন্তু মানেন তো, মানুষের মধ্যেই ভগবান বিরাজ করেন...
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত কোনও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ‘পঞ্চবিদ্যা’র কিছু অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তবে শিল্পী মহলের একাংশের মতে, এই আলোচনাই প্রমাণ করে যে শিল্প এখনও মানুষের আবেগকে নাড়া দিতে সক্ষম।
সব মিলিয়ে ‘পঞ্চবিদ্যা’ বিতর্ক শুধু একটি প্রদর্শনীকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়—এটি আজকের সমাজে শিল্পের স্বাধীনতা, সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। মতভেদ থাকলেও, এই সংলাপই হয়তো আগামী দিনের শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক করে তুলবে।
মহানগরী কলকাতার মঞ্চে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চবিদ্যা’ শীর্ষক নৃত্যপ্রদর্শনীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শিল্পের স্বাধীনতা ও নতুন সৃজনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল শিল্পী গোষ্ঠী রেনবো ড্যান্স ট্রুপ, যারা বরাবরই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ভাবনার প্রয়োগে বিশ্বাসী। বস্তুত, কলকাতা মুক্তচিন্তার শহর। আর এই পর্বে বেশিরভাগ মানুষ শিল্পীর সৃজনশীলতার পক্ষেই রায় দিয়েছেন।
‘পঞ্চবিদ্যা’ মূলত পাঁচটি ভারতীয় লোকনৃত্যের উপাদানকে আধুনিক কোরিওগ্রাফির সঙ্গে মিলিয়ে এক অভিনব থিমেটিক উপস্থাপনা। তবে এই আধুনিকতা এবং পরীক্ষামূলক প্রয়াসের কিছু অংশ দর্শকদের একাংশের কাছে অচেনা ও বিতর্কিত মনে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মত উঠে এসেছে—কেউ প্রশ্ন তুলেছেন লোকনৃত্যের স্বকীয়তা নিয়ে, আবার কেউ বলেছেন, সময়ের সঙ্গে শিল্পের রূপান্তর অনিবার্য।
এই বিতর্কের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—শিল্প কখনও স্থির নয়, বরং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। সমাজের ভাবনা, সময়ের ছাপ এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভব—সব মিলিয়ে শিল্প নতুন ভাষা খুঁজে নেয়। সেই জায়গা থেকেই ‘পঞ্চবিদ্যা’কে অনেকেই দেখছেন এক সাহসী প্রয়াস হিসেবে, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলের একাংশও মনে করছে, শিল্পীদের স্বাধীনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে দর্শকের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল থাকাও গুরুত্বপূর্ণ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই শিল্পচর্চাকে সমৃদ্ধ করে। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতভেদ যেন সংলাপের পথ খুলে দেয়—এমনটাই মত অনেকের।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর প্রধান শিল্পপরিচালক রাত্রি দাস তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিল্পকে বিচার করার আগে তার অন্তর্নিহিত ভাবনা ও প্রেক্ষাপট বোঝা প্রয়োজন। মঅনুষের মধ্যেই ঈশ্বরের অবস্থান, আর সেই মানবিক সত্তার প্রকাশই শিল্পের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া বা প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নতুন ভাবনার শিল্পচর্চাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। বিতর্ককে তিনি দেখছেন সমাজের এক প্রতিফলন হিসেবে, যেখানে বিভিন্ন মতামত সহাবস্থান করে। তাঁর কথায়, শিল্প কখনও সবার কাছে একইভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে—এটাই স্বাভাবিক, আর এই ভিন্নতাই শিল্পকে জীবন্ত রাখে।
তাঁর কথায়, 'অনেক তো হলো...যুক্তি, তর্ক, ট্রোলিং, ভাইরাল...সবাই কিন্তু সিলিকন নিয়ে পাবলিসিটি পেলো...কিন্তু বিষয়টা হলো, যারা খুব উত্তেজিত—মানে যারা প্রত্যেকের পোস্টে গিয়ে বড় বড় রামায়ণ, মহাভারত লিখছেন—অবশ্যই তাদের মা কালীর উন্মুক্ত বক্ষ নিয়ে এত সমস্যা... সত্যি, সেটা দেখে ওঠা আমার উচিত ছিল... কারণ সমাজে এত ভোগবিলাসী মানুষ আছে সেটা ভুলেই গিয়েছিলাম...। দেখুন, আমি বা আমরা কেউ কিন্তু আপনাদের কোনওভাবে ছোট করিনি... যদি মায়ের রূপ সহ্য করতে না পারেন, সেটা আপনাদের ব্যর্থতা... আর হ্যাঁ, আমি দেবী নই, মানুষ... আমি কালীও নই, আমি মানুষ...। কিন্তু মানেন তো, মানুষের মধ্যেই ভগবান বিরাজ করেন...
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত কোনও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ‘পঞ্চবিদ্যা’র কিছু অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তবে শিল্পী মহলের একাংশের মতে, এই আলোচনাই প্রমাণ করে যে শিল্প এখনও মানুষের আবেগকে নাড়া দিতে সক্ষম।
সব মিলিয়ে ‘পঞ্চবিদ্যা’ বিতর্ক শুধু একটি প্রদর্শনীকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়—এটি আজকের সমাজে শিল্পের স্বাধীনতা, সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। মতভেদ থাকলেও, এই সংলাপই হয়তো আগামী দিনের শিল্পচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক করে তুলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন