প্যানটি ছাড়া থাকা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? চিকিৎসকদের কথা শুনে বদলে যেতে পারে অভ্যাস!

প্যানটি না পরা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? মহিলাদের জন্য চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, সুবিধা ও সতর্কতা এক নজরে জানুন। লিখছেন দিব্যা খাস্তগীর

উদয় বাংলা - প্যানটি ছাড়া থাকা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? চিকিৎসকদের কথা শুনে বদলে যেতে পারে অভ্যাস!
এআই জেনারেটেড ইমেজ

বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও আরামের বিষয়ে সচেতনতা যত বাড়ছে, ততই মহিলাদের মধ্যে একটি প্রশ্ন উঠে আসছে—সবসময় প্যানটি বা অন্তর্বাস পরা কি জরুরি? জানলে অবাক হবেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন গাইনোকোলজিস্ট ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় প্যানটি পরা বাধ্যতামূলক নয়; বরং কিছু ক্ষেত্রে তা না পরাও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। আগে প্রচলিত ধারণা ছিল, প‌্যানটি পরে থাকা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। কারণ, এরফলে সংক্রমণ এড়ানো যায়।

চিকিৎসকদের মতে, মহিলাদের অন্তরঙ্গ অংশ স্বাভাবিকভাবে একটি সংবেদনশীল এলাকা, যেখানে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সারাদিন টাইট বা সিন্থেটিক কাপড়ের প্যানটি পরলে সেই আর্দ্রতা সহজে শুকোতে পারে না। তাই অনেক ডাক্তার পরামর্শ দেন, অন্তত দিনের কিছু সময় বা বিশেষ করে রাতে প্যানটি ছাড়া থাকা যেতে পারে, যাতে ওই অংশে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং ত্বক শুকনো থাকে।

চিকিৎসকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, অনেক মহিলার ক্ষেত্রে প্যানটির ইলাস্টিক বা কাপড়ের কারণে ত্বকে ঘর্ষণ হয়, যার ফলে র‍্যাশ, চুলকানি বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এই ধরনের সমস্যা থাকলে প্যানটি কিছু সময়ের জন্য না পরা বা ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নেওয়া উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।

রাতের ঘুমের সময় প‌্যানটি না পরা নিয়েও চিকিৎসকদের একটি স্পষ্ট মত রয়েছে। তাঁদের মতে, ঘুমের সময় শরীর বিশ্রামে থাকে, তাই তখন অন্তরঙ্গ অংশে বাতাস চলাচল বাড়ানো ভালো। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে এবং ত্বক সুস্থ থাকে। অনেক গাইনোকোলজিস্ট তাই পরামর্শ দেন, রাতে ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

তবে চিকিৎসকরা সতর্কও করছেন—সব পরিস্থিতিতে প্যানটি না পরা ঠিক নয়। বাইরে বেরোনোর সময় বা টাইট পোশাক যেমন জিন্স, লেগিংস ইত্যাদি পরলে প‌্যানটি না থাকলে সরাসরি ঘর্ষণ হতে পারে এবং অস্বস্তি বা ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ অন্তর্বাস না পরলে বাইরের ধুলো বা জীবাণুর সংস্পর্শ কিছুটা বাড়তে পারে।

চিকিৎসকদের স্পষ্ট বার্তা, প্যানটি পরা বা না পরা—দুটোই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক কাপড় নির্বাচন (বিশেষ করে সুতি) এবং শরীরের আরামকে গুরুত্ব দেওয়া। পরিস্থিতি বুঝে এই অভ্যাসে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন