৯২ বছর বয়সে প্রয়াত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। বহু ভাষায় হাজারো গান, ও পি নাইয়ার ও আর ডি বর্মনের সঙ্গে ঐতিহাসিক কাজ—ভারতীয় সঙ্গীতের এক যুগের অবসান। লিখছেন দেবাশিস
১৯৫০-এর দশকে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরে গিয়েছিল। সেই সময় হিন্দি চলচ্চিত্রে নারীকণ্ঠ মানেই প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য লতা মঙ্গেশকরের। প্রযোজক-পরিচালকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লতার কণ্ঠকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখতেন। কিন্তু সুরকার ও পি নাইয়ার একেবারেই আলাদা পথে হাঁটেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে তিনি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তাঁর সুরারোপিত গানে নতুন কণ্ঠের প্রয়োজন তৈরি হয়—আর সেখানেই ‘আবিষ্কার’ হয় নতুন কণ্ঠ। রাতারাতি প্রচারের পাদপ্রদীপে আসে একটি নাম– আশা ভোঁসলে। সে ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শুরুর দিকে আশা ভোঁসলেকে মূলধারার গায়িকা হিসেবে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হত না। কিন্তু নাইয়ার তাঁর কণ্ঠে অন্যরকম সম্ভাবনা খুঁজে পান—বিশেষ করে খোলা গলা, ঝরঝরে উচ্চারণ এবং এক ধরনের দুষ্টু, প্রাণবন্ত ভঙ্গি, যা তৎকালীন গাম্ভীর্যপূর্ণ গায়নশৈলীর থেকে আলাদা ছিল।
এই জুটির প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৫৬ সালের ছবি সিআইডি-র মাধ্যমে। এরপর ‘নয়া দওড়’ (১৯৫৭) ছবিতে ‘মাঙ্গ কে সাথ তুমহারা’ এবং ‘উড়ে যব যব জুলফেঁ তেরি’-র মতো গান বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এই গানগুলিতে আশা ভোঁসলের কণ্ঠে যে উচ্ছ্বাস, প্রাণশক্তি এবং ছন্দময়তা শোনা যায়, তা তাঁকে দ্রুতই আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
ও পি নাইয়ারের সুরে আশা ভোঁসলে হয়ে ওঠেন শহুরে, আধুনিক, কখনও কাবারেট-ধাঁচের গানের প্রথম সারির কণ্ঠ। ‘হাওড়া ব্রিজ’ (১৯৫৮)-এর ‘আইয়ে মেহেরবান’ গানটি তাঁর ক্যারিয়ারের একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই গানেই স্পষ্ট হয়, তিনি কেবল বিকল্প নন, বরং নিজস্ব স্টাইলের এক স্বতন্ত্র শিল্পী।
এই জুটি প্রায় এক দশক ধরে অসংখ্য হিট গান উপহার দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তই অনিচ্ছাকৃতভাবে আশা ভোঁসলের জন্য একটি বিশাল পরিসর তৈরি করে দেয়, যেখানে তিনি নিজের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। ফলস্বরূপ, ১৯৬০-এর দশকে পৌঁছতে পৌঁছতে আশা ভোঁসলে আর ‘দ্বিতীয় পছন্দ’ নন—তিনি নিজেই এক স্বতন্ত্র ধারার প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। এরপর বাকিটা ইতিহাস।
ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক সেই উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। রবিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে, যদিও শনিবার সন্ধ্যাতেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অসুস্থতার কথা তিনি প্রথমে এক গৃহকর্মীকে জানান। এরপরই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাঁকে দ্রুত মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও পরবর্তীতে তাঁর নাতনি জ়নাই ভোঁসলে সামাজিক মাধ্যমে জানান, শিল্পী অত্যন্ত ক্লান্ত এবং ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরিবার তখন সকলের কাছে গোপনীয়তা রক্ষার আবেদন জানায়।
শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনায় সামিল হয়েছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনুপম খের, সঞ্জয় কাপুর এবং অশোক পণ্ডিত-সহ অনেকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না—রবিবারই প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
শিল্পীর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলের বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানিয়েছেন, একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “মহান সঙ্গীতপ্রতিভা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন।” পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন, বাংলাতেও শিল্পীর বিপুল জনপ্রিয়তার কথা এবং ২০১৮ সালে তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করার মুহূর্ত।
সাত দশকেরও বেশি দীর্ঘ কর্মজীবনে আশা ভোঁসলে গেয়েছেন হাজার হাজার গান—হিন্দি থেকে বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি-সহ অসংখ্য ভাষায়। ও পি নাইয়ার ও আর ডি বর্মনে সঙ্গে তাঁর সৃষ্টিশীল যুগলবন্দি ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে এনে দিয়েছিল এক নতুন মাত্রা।
‘পিয়া তু আব তো আ জা’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘আগে ভি জানে না তু’, ‘জওয়ানি জানে মন’—তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে অসংখ্য কালজয়ী গান। বহুমুখী গায়কী, আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ এবং অনায়াস ভঙ্গিতে ধারার পর ধারা অতিক্রম করার ক্ষমতা তাঁকে করে তুলেছিল অনন্য।
তাঁর প্রাপ্তির তালিকাও সমানভাবে সমৃদ্ধ। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার থেকে শুরু করে পদ্মভূষন—দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, হারিয়ে গেল এক সঙ্গীতযুগ। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর সুর, তাঁর অসামান্য বৈচিত্র্য—চিরকাল বেঁচে থাকবে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে।
ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে কিছু নাম সময়কে অতিক্রম করে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই তালিকায় অমোঘভাবে উচ্চারিত হয় আশা ভোঁসলের নাম। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত তাঁর সঙ্গীতজীবন বৈচিত্র্য, সাহসী পরীক্ষা এবং অসামান্য কণ্ঠনৈপুণ্যের জন্য অনন্য।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তিনি প্রখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মেছিলেন—তাঁর পিতা ছিলেন শাস্ত্রীয় গায়ক পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর, এবং তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকর ভারতীয় সঙ্গীতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি সহ একাধিক ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। বাংলায়ও তাঁর অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে, যা আজও সমানভাবে শ্রোতাদের মন জয় করে।
আশা ভোঁসলের কণ্ঠ কেবল সুর নয়, এক যুগের অনুভূতি বহন করে। প্রেম, বেদনা, উচ্ছ্বাস, দুষ্টুমি—মানবমনের প্রায় প্রতিটি আবেগই তাঁর কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে।
ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তিনি এক চলমান প্রতিষ্ঠান—যাঁকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার আবেগ ও স্মৃতি।
১৯৫০-এর দশকে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরে গিয়েছিল। সেই সময় হিন্দি চলচ্চিত্রে নারীকণ্ঠ মানেই প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য লতা মঙ্গেশকরের। প্রযোজক-পরিচালকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লতার কণ্ঠকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখতেন। কিন্তু সুরকার ও পি নাইয়ার একেবারেই আলাদা পথে হাঁটেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে তিনি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তাঁর সুরারোপিত গানে নতুন কণ্ঠের প্রয়োজন তৈরি হয়—আর সেখানেই ‘আবিষ্কার’ হয় নতুন কণ্ঠ। রাতারাতি প্রচারের পাদপ্রদীপে আসে একটি নাম– আশা ভোঁসলে। সে ছিল ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শুরুর দিকে আশা ভোঁসলেকে মূলধারার গায়িকা হিসেবে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হত না। কিন্তু নাইয়ার তাঁর কণ্ঠে অন্যরকম সম্ভাবনা খুঁজে পান—বিশেষ করে খোলা গলা, ঝরঝরে উচ্চারণ এবং এক ধরনের দুষ্টু, প্রাণবন্ত ভঙ্গি, যা তৎকালীন গাম্ভীর্যপূর্ণ গায়নশৈলীর থেকে আলাদা ছিল।
এই জুটির প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৫৬ সালের ছবি সিআইডি-র মাধ্যমে। এরপর ‘নয়া দওড়’ (১৯৫৭) ছবিতে ‘মাঙ্গ কে সাথ তুমহারা’ এবং ‘উড়ে যব যব জুলফেঁ তেরি’-র মতো গান বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এই গানগুলিতে আশা ভোঁসলের কণ্ঠে যে উচ্ছ্বাস, প্রাণশক্তি এবং ছন্দময়তা শোনা যায়, তা তাঁকে দ্রুতই আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
ও পি নাইয়ারের সুরে আশা ভোঁসলে হয়ে ওঠেন শহুরে, আধুনিক, কখনও কাবারেট-ধাঁচের গানের প্রথম সারির কণ্ঠ। ‘হাওড়া ব্রিজ’ (১৯৫৮)-এর ‘আইয়ে মেহেরবান’ গানটি তাঁর ক্যারিয়ারের একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই গানেই স্পষ্ট হয়, তিনি কেবল বিকল্প নন, বরং নিজস্ব স্টাইলের এক স্বতন্ত্র শিল্পী।
এই জুটি প্রায় এক দশক ধরে অসংখ্য হিট গান উপহার দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্তই অনিচ্ছাকৃতভাবে আশা ভোঁসলের জন্য একটি বিশাল পরিসর তৈরি করে দেয়, যেখানে তিনি নিজের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। ফলস্বরূপ, ১৯৬০-এর দশকে পৌঁছতে পৌঁছতে আশা ভোঁসলে আর ‘দ্বিতীয় পছন্দ’ নন—তিনি নিজেই এক স্বতন্ত্র ধারার প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। এরপর বাকিটা ইতিহাস।
ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক সেই উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। রবিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে, যদিও শনিবার সন্ধ্যাতেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। নিজের অসুস্থতার কথা তিনি প্রথমে এক গৃহকর্মীকে জানান। এরপরই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাঁকে দ্রুত মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও পরবর্তীতে তাঁর নাতনি জ়নাই ভোঁসলে সামাজিক মাধ্যমে জানান, শিল্পী অত্যন্ত ক্লান্ত এবং ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরিবার তখন সকলের কাছে গোপনীয়তা রক্ষার আবেদন জানায়।
শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনায় সামিল হয়েছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনুপম খের, সঞ্জয় কাপুর এবং অশোক পণ্ডিত-সহ অনেকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না—রবিবারই প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
শিল্পীর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলের বাসভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বিকেল ৪টেয় শিবাজী পার্কে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানিয়েছেন, একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “মহান সঙ্গীতপ্রতিভা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর ভাবে শোকাহত। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন।” পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন, বাংলাতেও শিল্পীর বিপুল জনপ্রিয়তার কথা এবং ২০১৮ সালে তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করার মুহূর্ত।
সাত দশকেরও বেশি দীর্ঘ কর্মজীবনে আশা ভোঁসলে গেয়েছেন হাজার হাজার গান—হিন্দি থেকে বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি-সহ অসংখ্য ভাষায়। ও পি নাইয়ার ও আর ডি বর্মনে সঙ্গে তাঁর সৃষ্টিশীল যুগলবন্দি ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে এনে দিয়েছিল এক নতুন মাত্রা।
‘পিয়া তু আব তো আ জা’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’, ‘আগে ভি জানে না তু’, ‘জওয়ানি জানে মন’—তাঁর কণ্ঠে অমর হয়ে আছে অসংখ্য কালজয়ী গান। বহুমুখী গায়কী, আবেগের সূক্ষ্ম প্রকাশ এবং অনায়াস ভঙ্গিতে ধারার পর ধারা অতিক্রম করার ক্ষমতা তাঁকে করে তুলেছিল অনন্য।
তাঁর প্রাপ্তির তালিকাও সমানভাবে সমৃদ্ধ। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার থেকে শুরু করে পদ্মভূষন—দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, হারিয়ে গেল এক সঙ্গীতযুগ। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর সুর, তাঁর অসামান্য বৈচিত্র্য—চিরকাল বেঁচে থাকবে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে।
ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে কিছু নাম সময়কে অতিক্রম করে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই তালিকায় অমোঘভাবে উচ্চারিত হয় আশা ভোঁসলের নাম। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত তাঁর সঙ্গীতজীবন বৈচিত্র্য, সাহসী পরীক্ষা এবং অসামান্য কণ্ঠনৈপুণ্যের জন্য অনন্য।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তিনি প্রখ্যাত সংগীত পরিবারে জন্মেছিলেন—তাঁর পিতা ছিলেন শাস্ত্রীয় গায়ক পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর, এবং তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকর ভারতীয় সঙ্গীতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি সহ একাধিক ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। বাংলায়ও তাঁর অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে, যা আজও সমানভাবে শ্রোতাদের মন জয় করে।
আশা ভোঁসলের কণ্ঠ কেবল সুর নয়, এক যুগের অনুভূতি বহন করে। প্রেম, বেদনা, উচ্ছ্বাস, দুষ্টুমি—মানবমনের প্রায় প্রতিটি আবেগই তাঁর কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে।
ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে তিনি এক চলমান প্রতিষ্ঠান—যাঁকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার আবেগ ও স্মৃতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন