অজানা আশা

কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের জীবন যেমন উজ্জ্বল, তেমনই ভরপুর বহু চমকপ্রদ গল্পে। এখানে তাঁর জীবনের কয়েকটি অল্প-জানা দিক তুলে ধরা হল।

উদয় বাংলা - অজানা আশা

১৬ বছরেই ঘর ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে

মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারকে না জানিয়েই আশা বিয়ে করেন গণপতরাও ভোঁসলেকে, যিনি তখন তাঁর থেকে অনেকটাই বড় ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের কারণে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি এবং দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয়।

প্রথমদিকে ‘বি-গ্রেড’ ছবির গায়িকা হিসেবে পরিচিতি

ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মূলধারার বড় ছবিতে সুযোগ পেতেন না। অনেক সময়ই তথাকথিত ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেড ছবির গান গাইতে হত তাঁকে। কিন্তু সেখান থেকেই নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন আশা।

ও পি নাইয়ারের সঙ্গে কাজেই বড় ব্রেক

১৯৫০-এর দশকে ও পি নাইয়ারের সঙ্গে কাজ করেই তিনি প্রথম বড় সাফল্য পান। মজার বিষয়, ওই সময় নাইয়ার লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কাজ করতেন না—ফলে আশা ভোঁসলের জন্য একটি আলাদা জায়গা তৈরি হয়।

আর ডি বর্মনের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে

সঙ্গীত পরিচালক আর ডি বর্মনের সঙ্গে কাজ করতে করতেই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ে করেন। এই জুটি ভারতীয় সঙ্গীতে বহু পরীক্ষামূলক ও আধুনিক ধারার গান উপহার দেয়।

দুর্দান্ত রাঁধুনি হিসেবেও খ্যাতি

অনেকেই জানেন না, তিনি একজন অসাধারণ রাঁধুনি। দুবাই ও কুয়েতে তাঁর নামে ‘Asha’s’ নামে রেস্তোরাঁ চেনও রয়েছে, যেখানে তাঁর রেসিপি অনুসরণ করে খাবার পরিবেশন করা হয়।

২০টিরও বেশি ভাষায় গান

হিন্দি ও বাংলার বাইরে তিনি ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়েছেন—যার মধ্যে রাশিয়ান, ইংরেজি এমনকি মালয়ালম ও অসমিয়াও রয়েছে।

পপ ও রিমিক্সেও সফল

৯০-এর দশকে তিনি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পপ ও রিমিক্স অ্যালবামেও কাজ করেন। ‘জানম সামঝা করো’ অ্যালবামটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।

অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছেও ছিল

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি অভিনয় করার কথাও ভেবেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত গানই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান পরিচয়।

গান রেকর্ডের রেকর্ড

তাঁর কাজের গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে, একদিনে একাধিক স্টুডিওতে গিয়ে অনেকগুলো গান রেকর্ড করার নজির রয়েছে তাঁর।

নিজের কণ্ঠকে বারবার বদলানোর ক্ষমতা

তিনি নিজেই বলেছিলেন, এক ধরনের গান গাইতে গাইতে বিরক্ত হয়ে যান—তাই ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের স্টাইল বদলাতেন। কাবারেট থেকে গজল—এই বহুমুখীতাই তাঁকে আলাদা করেছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন