বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাতা ও আর্থিক সহায়তাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির প্রতিশ্রুতির লড়াই তীব্র হল। ইস্তেহারে একাধিক নতুন ঘোষণা বিজেপির। তাহলে কি ভাতাই বঙ্গবাসীর ভবিতব্য? লিখছেন প্রণব সেন
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ ভাতা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদানকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এবার সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিল বিজেপি, তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে একাধিক আর্থিক অনুদান ও ভাতার ঘোষণা করে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বেই জানিয়েছিলেন যে, দলের ইস্তেহার রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরবে। প্রকাশিত ‘সঙ্কল্পপত্রে’ শিল্প, পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বাস্তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই প্রবণতা রাজ্যের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে সরাসরি আর্থিক সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ভাতা রাজনীতিতেই কি নির্ধারিত হবে বঙ্গ ভোটের ফল—এই প্রশ্নই এখন ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজ্যের নির্বাচনী আবহে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি আর্থিক সহায়তা নির্ভর একাধিক প্রকল্প চালু করে জনসংযোগ মজবুত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, অন্যদিকে সেই একই কৌশলকে আরও বিস্তৃত আকারে তুলে ধরে পাল্টা ময়দানে নেমেছে বিজেপি। ফলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বা পরিকাঠামোর মতো প্রচলিত ইস্যুগুলির পাশাপাশি নগদ ভাতা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিই যে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই সম্ভাবনাই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও সাম্প্রতিক সময়ে ‘যুবসাথী’র মতো প্রকল্প চালু করে নারী ও বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে লক্ষ্মী ভান্ডারে মাসিক ১৫০০ টাকা ও যুবসাথী প্রকল্পে মাধ্যমিক পাসের পরই বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডারে পান ১৭০০ টাকা। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি তাদের ইস্তেহারে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে প্রতিমাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ভাতা-নির্ভর প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
এছাড়াও কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়তা যুক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে বার্ষিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বিমার পরিমাণ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সুবিধা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ইস্তেহারে প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতিও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পরিশোধ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং কলকাতার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
নারী সুরক্ষা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, কৃষিক্ষেত্রে সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলিও ইস্তেহারের অংশ। বিজেপির দাবি, বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করে এই ইস্তেহার প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে একটি সর্বসমাবেশী উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা যায়।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে উন্নয়নের পাশাপাশি সরাসরি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি যে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ ভাতা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদানকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এবার সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিল বিজেপি, তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে একাধিক আর্থিক অনুদান ও ভাতার ঘোষণা করে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বেই জানিয়েছিলেন যে, দলের ইস্তেহার রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরবে। প্রকাশিত ‘সঙ্কল্পপত্রে’ শিল্প, পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বাস্তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিভিন্ন ভাতা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই প্রবণতা রাজ্যের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে সরাসরি আর্থিক সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ভাতা রাজনীতিতেই কি নির্ধারিত হবে বঙ্গ ভোটের ফল—এই প্রশ্নই এখন ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে রাজ্যের নির্বাচনী আবহে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি আর্থিক সহায়তা নির্ভর একাধিক প্রকল্প চালু করে জনসংযোগ মজবুত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, অন্যদিকে সেই একই কৌশলকে আরও বিস্তৃত আকারে তুলে ধরে পাল্টা ময়দানে নেমেছে বিজেপি। ফলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বা পরিকাঠামোর মতো প্রচলিত ইস্যুগুলির পাশাপাশি নগদ ভাতা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিই যে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই সম্ভাবনাই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও সাম্প্রতিক সময়ে ‘যুবসাথী’র মতো প্রকল্প চালু করে নারী ও বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে লক্ষ্মী ভান্ডারে মাসিক ১৫০০ টাকা ও যুবসাথী প্রকল্পে মাধ্যমিক পাসের পরই বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ১৫০০ টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডারে পান ১৭০০ টাকা। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি তাদের ইস্তেহারে সেই অঙ্ক বাড়িয়ে প্রতিমাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ভাতা-নির্ভর প্রতিশ্রুতির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
এছাড়াও কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়তা যুক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে বার্ষিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বিমার পরিমাণ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সুবিধা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ইস্তেহারে প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতিও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থান পেয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পরিশোধ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োগ, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং কলকাতার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
নারী সুরক্ষা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, কৃষিক্ষেত্রে সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলিও ইস্তেহারের অংশ। বিজেপির দাবি, বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করে এই ইস্তেহার প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে একটি সর্বসমাবেশী উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা যায়।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে উন্নয়নের পাশাপাশি সরাসরি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি যে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন