বঙ্গে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ করলেন অমিত শাহ। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা ও অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া অবস্থানের বার্তা।

বঙ্গে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের

কলকাতা : কলকাতায় আসন্ন ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন।

এদিন শাহ বলেন, দেশের সব নাগরিকের জন্য এক আইন প্রয়োগ করা কি তোষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে? তাঁর বক্তব্য, সব ধর্মের মানুষই ভারতের নাগরিক এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার থাকা উচিত। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, একজন নাগরিককে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া এবং অন্যজনকে সেই সুযোগ না দেওয়া কি ন্যায্য? তিনি স্পষ্ট করে জানান, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, সেখানেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে।

এদিন শাহ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সালে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে এবং ২০২১ সালে দুর্নীতির মাধ্যমে তারা পুনরায় সরকার গঠন করে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই দলের সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের যোগসাজশ রয়েছে।

ইস্তেহার প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন, এটি ‘সোনার বাংলা’ গড়ার একটি রূপরেখা। বিজেপির এই ইস্তেহারে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মহিলা ও বেকার যুবকের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যুবকদের জন্য ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি, দুর্নীতির কারণে যারা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের জন্য পাঁচ বছরের বয়সের ছাড় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প—যেমন পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, পিএম কুসুম যোজনা, পিএম উজ্জ্বলা যোজনা এবং খেলো ইন্ডিয়া—রাজ্যে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে ইস্তেহারে জানানো হয়েছে। এতে জনকল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং ক্রীড়া উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন