মাথা ঠান্ডা রাখুন: মোদিকে কটাক্ষ অভিষেকের

দক্ষিণবঙ্গে প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে ‘মাথা ঠান্ডা রাখুন’ বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম, সাগর ও পানিহাটির সভায় কেন্দ্র ও বিজেপিকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ।

মাথা ঠান্ডা রাখুন: মোদিকে কটাক্ষ অভিষেকের

উদয় বাংলা : দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে একাধিক জনসভা থেকে তীব্র সুরে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম, সাগর ও পানিহাটির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির ভূমিকা।

সাগরের সভা থেকে সরাসরি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আপনার বয়স আমার দ্বিগুণ, বাংলায় খুব গরম পড়ছে, আপনি দয়া করে মাথাটা ঠান্ডা রাখুন।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলাকে সত্যিই ভালোবাসলে কেন্দ্রের বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা দ্রুত রাজ্যের মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের পাল্টা, “আপনি শান্ত হন, মাথা ঠান্ডা রাখুন।” তাঁর অভিযোগ, এসআইআর থেকে শুরু করে আদালত, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন—সবকিছু ব্যবহার করেও বিজেপি বাংলায় রাজনৈতিক সুবিধা করতে পারছে না। তিনি বলেন, কেন্দ্র চাইলে এখনই মহিলাদের, যুবকদের ও মৎস্যজীবীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারে, ভোটের পরে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কোনও মানে নেই।

এমনকি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি শাসিত কোনও একটি রাজ্যে যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প চালু করে প্রতিটি মহিলাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তাঁর কথায়, “দিল্লির নেড়িকুত্তা হয়ে থাকার থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হয়ে মরা অনেক ভালো।”

নন্দীগ্রামের সভাতেও অভিষেক বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, তৃণমূলের কোনও গুন্ডা নেই, বরং এলাকার বড় অপরাধীরা এখন বিজেপিতে আশ্রয় নিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ নিয়ে ভয় না পেয়ে প্রতিবাদে নামার বার্তাও দেন তিনি।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ভোটের আগে এলাকায় পাহারা দিতে হবে, যাতে কেউ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। তাঁর দাবি, মানুষ একজোট হলে নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন। প্রসঙ্গত, এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

অন্যদিকে পানিহাটির সভায় ‘অপরাজিতা বিল’ ইস্যু তুলে বিজেপিকে চাপে রাখার কৌশল নেন অভিষেক। ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এই বিল পাশ করানোর দাবি তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।

পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের শালীনতা বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক লড়াই হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ যেন না করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণাত্মক প্রচার এবং মোদিকে উদ্দেশ্য করে ‘মাথা ঠান্ডা’ রাখার বার্তা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন