মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা। কলকাতা ও শহরতলীতে বেড়েছে ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার ও কনভেকশন ওভেনের চাহিদা, জানাচ্ছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
উদয় বাংলা : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এবং United States ও Iran-এর সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারই রেশ এসে পড়েছে Kolkata এবং তার আশপাশের শহরতলীর রান্নাঘরেও। রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় আচমকাই শহরের বাজারে বেড়েছে ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার ও কনভেকশন ওভেনের চাহিদা।
শহরের বড় ইলেকট্রনিক্স বাজারগুলিতে গত কয়েকদিনে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা হিসেবে ইন্ডাকশন কুকার কিনে রাখছেন। দোকানদারদের দাবি, সাধারণ সময়ে যেখানে দিনে পাঁচ থেকে সাতটি ইন্ডাকশন কুকার বিক্রি হত, সেখানে এখন অনেক দোকানেই প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শহরের গড়িয়াহাট এলাকার এক ইলেকট্রনিক্স দোকানের মালিক সুব্রত দে বলেন, “গত এক সপ্তাহে ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অনেকেই এসে সরাসরি বলছেন, যদি গ্যাসের দাম আরও বাড়ে বা সাপ্লাইয়ে সমস্যা হয়, তাহলে অন্তত একটা বিকল্প ব্যবস্থা বাড়িতে রাখতে চান।”
শুধু ইন্ডাকশন কুকারই নয়, একইসঙ্গে বেড়েছে এয়ার ফ্রায়ার ও কনভেকশন ওভেনের চাহিদাও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের মধ্যে এই ধরনের বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ বেশি। হাতিবাগানের এক ইলেকট্রনিক্স শোরুমের ম্যানেজার অরিন্দম মিত্র জানান, “এয়ার ফ্রায়ার আর কনভেকশন ওভেনের বিক্রি গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। অনেকেই এখন ভাবছেন, গ্যাসের ব্যবহার একটু কমিয়ে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করা যায় কি না।”
ক্রেতাদের মধ্যেও এই উদ্বেগ স্পষ্ট। যাদবপুরের বাসিন্দা মৌসুমি সেন, যিনি সম্প্রতি একটি ইন্ডাকশন কুকার কিনেছেন, বলেন, “খবরের কাগজে পড়ছি মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তার প্রভাব যদি গ্যাসের দামে পড়ে, তাহলে সমস্যা হবে। তাই আগে থেকেই একটা ইন্ডাকশন কুকার কিনে রাখলাম।”
একই অভিজ্ঞতার কথা বললেন বরানগরের বাসিন্দা রিমা চক্রবর্তী। তিনি একটি এয়ার ফ্রায়ার কিনতে এসে বলেন, “গ্যাসের দাম তো আগেই অনেক বেড়েছে। আবার যদি বাড়ে, তাহলে কিছু রান্না অন্তত এয়ার ফ্রায়ারে করা যাবে ভেবেই কিনলাম।”
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, বারাসত, সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, বেহালা, সোনারপুর ও বারুইপুরের মতো শহরতলীর বাজারগুলিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শহরতলীর বেশ কিছু দোকানদার জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে বহু ক্রেতা ফোন করে ইন্ডাকশন কুকার বা এয়ার ফ্রায়ারের স্টক আছে কি না তা জানতে চাইছেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো মডেলের স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি নয়, ভোক্তা বাজারেও পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে এলপিজির দামেও। ফলে সাধারণ মানুষ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। বিদ্যুৎনির্ভর রান্নার সরঞ্জামের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, আতঙ্কের জেরে আপাতত চাহিদা বাড়লেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তবে আপাতত কলকাতা ও তার আশপাশে ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার এবং কনভেকশন ওভেনের বিক্রি যে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, তারই একটি স্পষ্ট ছবি এখন দেখা যাচ্ছে শহরের ইলেকট্রনিক্স বাজারে।
![]() |
| এআই জেনারেটেড ইমেজ। |
উদয় বাংলা : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এবং United States ও Iran-এর সম্ভাব্য সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারই রেশ এসে পড়েছে Kolkata এবং তার আশপাশের শহরতলীর রান্নাঘরেও। রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় আচমকাই শহরের বাজারে বেড়েছে ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার ও কনভেকশন ওভেনের চাহিদা।
শহরের বড় ইলেকট্রনিক্স বাজারগুলিতে গত কয়েকদিনে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা হিসেবে ইন্ডাকশন কুকার কিনে রাখছেন। দোকানদারদের দাবি, সাধারণ সময়ে যেখানে দিনে পাঁচ থেকে সাতটি ইন্ডাকশন কুকার বিক্রি হত, সেখানে এখন অনেক দোকানেই প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শহরের গড়িয়াহাট এলাকার এক ইলেকট্রনিক্স দোকানের মালিক সুব্রত দে বলেন, “গত এক সপ্তাহে ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অনেকেই এসে সরাসরি বলছেন, যদি গ্যাসের দাম আরও বাড়ে বা সাপ্লাইয়ে সমস্যা হয়, তাহলে অন্তত একটা বিকল্প ব্যবস্থা বাড়িতে রাখতে চান।”
শুধু ইন্ডাকশন কুকারই নয়, একইসঙ্গে বেড়েছে এয়ার ফ্রায়ার ও কনভেকশন ওভেনের চাহিদাও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের মধ্যে এই ধরনের বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ বেশি। হাতিবাগানের এক ইলেকট্রনিক্স শোরুমের ম্যানেজার অরিন্দম মিত্র জানান, “এয়ার ফ্রায়ার আর কনভেকশন ওভেনের বিক্রি গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ বেড়েছে। অনেকেই এখন ভাবছেন, গ্যাসের ব্যবহার একটু কমিয়ে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করা যায় কি না।”
ক্রেতাদের মধ্যেও এই উদ্বেগ স্পষ্ট। যাদবপুরের বাসিন্দা মৌসুমি সেন, যিনি সম্প্রতি একটি ইন্ডাকশন কুকার কিনেছেন, বলেন, “খবরের কাগজে পড়ছি মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তার প্রভাব যদি গ্যাসের দামে পড়ে, তাহলে সমস্যা হবে। তাই আগে থেকেই একটা ইন্ডাকশন কুকার কিনে রাখলাম।”
একই অভিজ্ঞতার কথা বললেন বরানগরের বাসিন্দা রিমা চক্রবর্তী। তিনি একটি এয়ার ফ্রায়ার কিনতে এসে বলেন, “গ্যাসের দাম তো আগেই অনেক বেড়েছে। আবার যদি বাড়ে, তাহলে কিছু রান্না অন্তত এয়ার ফ্রায়ারে করা যাবে ভেবেই কিনলাম।”
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, বারাসত, সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, বেহালা, সোনারপুর ও বারুইপুরের মতো শহরতলীর বাজারগুলিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শহরতলীর বেশ কিছু দোকানদার জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে বহু ক্রেতা ফোন করে ইন্ডাকশন কুকার বা এয়ার ফ্রায়ারের স্টক আছে কি না তা জানতে চাইছেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো মডেলের স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি নয়, ভোক্তা বাজারেও পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে এলপিজির দামেও। ফলে সাধারণ মানুষ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। বিদ্যুৎনির্ভর রান্নার সরঞ্জামের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সেই প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, আতঙ্কের জেরে আপাতত চাহিদা বাড়লেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তবে আপাতত কলকাতা ও তার আশপাশে ইন্ডাকশন কুকার, এয়ার ফ্রায়ার এবং কনভেকশন ওভেনের বিক্রি যে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, তারই একটি স্পষ্ট ছবি এখন দেখা যাচ্ছে শহরের ইলেকট্রনিক্স বাজারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন