কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনুপ্রবেশ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া অভিযোগ তুললেন তিনি।
উদয় বাংলা : কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভা থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের শাসনকালে লাগামছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের বহু এলাকায় জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে।
ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, বহু জায়গায় জনসংখ্যার চরিত্র পাল্টে গিয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তৃণমূল বাধা দিচ্ছে, কারণ তারা তাদের ভোটব্যাঙ্ক নয়।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে যাতে অবৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। তাঁর অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিদের নাম পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে রাজি নয় শাসক দল। সরকারি তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ। এর ফলে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৪ কোটির কিছু বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় রাখা হয়েছে, যাদের যোগ্যতা আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মোদির অভিযোগ, ভোটের সুবিধা পেতেই তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দিয়েছে এবং এর ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার ‘রুটি, বেটি এবং মাটি’ বিপদের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে অপরাধী ও দুষ্কৃতীদের সমর্থনেই তৃণমূল সরকার চলছে এবং কাটমানি ও তোলাবাজিই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তৃণমূল আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এভাবে আক্রমণ করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বার্তা দিতে গিয়ে মোদি বলেন, তৃণমূল সরকারের দিন শেষের পথে এবং তাদের ‘গুণ্ডাগিরির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে’। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিতে প্রশাসন চলবে এবং প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক সন্ত্রাসে জড়িতদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষকে ভয় দেখায় বা ভোটে প্রভাব খাটায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, আইনই তখন অপরাধীদের ভয় দেখাবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা হবে জেলেই।
রাজ্যে ভয়ের রাজনীতি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, ভোটার, বিরোধী দল এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও ভয় দেখানো হচ্ছে। কেউ তৃণমূলকে ভোট না দিলে তাকে ‘বাঙালি নয়’ বলা হয় বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মানুষের কাছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বাংলার আত্মাকে রক্ষার লড়াই এবং ভয় ও কাটমানির রাজনীতি থেকে মুক্তির লড়াই। শনিবারের এই সমাবেশ ছিল ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রকাশিত নতুন তালিকার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বড় রাজনৈতিক সভা, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
উদয় বাংলা : কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভা থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা করতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের শাসনকালে লাগামছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের বহু এলাকায় জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে।
ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, বহু জায়গায় জনসংখ্যার চরিত্র পাল্টে গিয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তৃণমূল বাধা দিচ্ছে, কারণ তারা তাদের ভোটব্যাঙ্ক নয়।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে যাতে অবৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। তাঁর অভিযোগ, মৃত ব্যক্তিদের নাম পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে রাজি নয় শাসক দল। সরকারি তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ। এর ফলে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৪ কোটির কিছু বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় রাখা হয়েছে, যাদের যোগ্যতা আইনি যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মোদির অভিযোগ, ভোটের সুবিধা পেতেই তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দিয়েছে এবং এর ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার ‘রুটি, বেটি এবং মাটি’ বিপদের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে অপরাধী ও দুষ্কৃতীদের সমর্থনেই তৃণমূল সরকার চলছে এবং কাটমানি ও তোলাবাজিই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তৃণমূল আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এভাবে আক্রমণ করা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বার্তা দিতে গিয়ে মোদি বলেন, তৃণমূল সরকারের দিন শেষের পথে এবং তাদের ‘গুণ্ডাগিরির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে’। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর নীতিতে প্রশাসন চলবে এবং প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক সন্ত্রাসে জড়িতদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষকে ভয় দেখায় বা ভোটে প্রভাব খাটায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, আইনই তখন অপরাধীদের ভয় দেখাবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা হবে জেলেই।
রাজ্যে ভয়ের রাজনীতি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, ভোটার, বিরোধী দল এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও ভয় দেখানো হচ্ছে। কেউ তৃণমূলকে ভোট না দিলে তাকে ‘বাঙালি নয়’ বলা হয় বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মানুষের কাছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বাংলার আত্মাকে রক্ষার লড়াই এবং ভয় ও কাটমানির রাজনীতি থেকে মুক্তির লড়াই। শনিবারের এই সমাবেশ ছিল ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রকাশিত নতুন তালিকার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বড় রাজনৈতিক সভা, যা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন