’৭১-এর কলকাতার প্রেক্ষাপটে নতুন সিরিজ ‘জ‌্যাজ সিটি’, ১৯ মার্চ থেকে সনি লিভ-এ

’৭১-এর কলকাতার পটভূমিতে তৈরি নতুন ওয়েব সিরিজ ‘জ‌্যাজ সিটি’ ১৯ মার্চ থেকে সনি লিভ-এ মুক্তি পাচ্ছে। সৌমিক সেন পরিচালিত এই সিরিজে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভো ও সৌরসেনী মৈত্র।

’৭১-এর কলকাতার প্রেক্ষাপটে নতুন সিরিজ ‘জ‌্যাজ সিটি’, ১৯ মার্চ থেকে সনি লিভ-এ

উদয় বাংলা : কলকাতার ইতিহাস, সঙ্গীত ও রাজনীতির এক উত্তাল সময়কে পটভূমি করে তৈরি হয়েছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘জ‌্যাজ সিটি’। ১৯৭১ সালের কলকাতা—যে সময় ভাষা, পরিচয় এবং এক নতুন জাতির জন্মের উত্তাল আবহ শহরকে নাড়িয়ে দিচ্ছিল—সেই সময়ের এক জ্যাজ ক্লাবকে কেন্দ্র করেই এগোবে এই গল্প। দশ পর্বের সিরিজটি ১৯ মার্চ থেকে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সনি লিভ-এ মুক্তি পেতে চলেছে। সিরিজটির পরিচালনা করেছেন পরিচালক সৌমিক সেন, আর প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন অভিনেতা আরফিন শুভ অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্র। প্রযোজনায় রয়েছে অর্পিতা চট্টোপাধ‌্যায়ের স্টুডিও ৯। সিরিজটির ঘোষণা উপলক্ষে সম্প্রতি কলকাতার দ‌্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন হোটেলে উপস্থিত হয়েছিলেন সিরিজের কলাকুশলীরা।

পরিচালক সৌমিক সেন বলেন, এই সিরিজ তৈরির পিছনে তাঁর প্রায় সাত বছরের শ্রম রয়েছে। তাঁর কথায়, তিনি যে সিরিজ ‘জুবিলি’-র সহলেখক ছিলেন, সেটিও তৈরি করতে প্রায় সাত বছর সময় লেগেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর নিজের কাছেই প্রশ্ন করেছিলেন—তিনি কি ‘জুবিলি’-কে ছাপিয়ে যেতে পারবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জন্ম নেয় ‘জ্যাজ সিটি’। সৌমিকের মতে, এটিই তাঁর সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ শিখর। ইতিহাসকে গভীরভাবে অধ্যয়ন করে তাকে বিনোদনের সঙ্গে মিশিয়ে একটি গল্প তৈরি করা সহজ নয়, কিন্তু ‘জ্যাজ সিটি’-তে তিনি সেই চেষ্টাই করেছেন। তাঁর কাছে এই সিরিজ ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কলকাতা শহরেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা। পার্ক স্ট্রিট, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ—এই শহরের নানা স্মৃতি থেকেই এই সিরিজের ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অভিনেতা আরিফিন শুভ জানিয়েছেন, এই সিরিজে অভিনয় করা তাঁর জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। এখানে তাঁকে এমন কয়েকটি ভাষায় আবেগ প্রকাশ করতে হয়েছে, যেগুলো তাঁর মাতৃভাষা নয়। তাছাড়া পরিচালক সৌমিক সেনের কাজের ধরনও আলাদা—তিনি শুটিংয়ের সময় খুব কমই ‘কাট’ বলেন। ফলে একটানা অনেক পৃষ্ঠা সংলাপ অভিনয় করে যেতে হতো। আরিফিনের মতে, প্রায় ২০ বছরের অভিনয়জীবনে তিনি নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন, কিন্তু ‘জ্যাজ সিটি’-তে তাঁর চরিত্র জিমি রায়ের মতো এত স্তরযুক্ত চরিত্র আগে কখনও করেননি।

অন্যদিকে সৌরসেনী মৈত্র জানিয়েছেন, এই সিরিজের ভাবনা সাত বছর আগে সৌমিক সেনের মাথায় আসে এবং তিনি শুরু থেকেই শীলা বসুর চরিত্রে তাঁকে ভরসা করেছিলেন। পরিচালক যখন বলেন যে ‘জ্যাজ সিটি’ তাঁর সৃজনশীলতার শিখর, তখন এই প্রকল্পের অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি পরিচালকের সঙ্গে বহু আলোচনা করেছেন। কখনও গান পাঠানো হয়েছে, কখনও আবার অদ্ভুত সব আঁকিবুঁকি—যা তাঁর অভিনয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শীলা চরিত্রটির নানা স্তর রয়েছে—তিনি যেমন সহানুভূতিশীল ও সংযত, তেমনি চারপাশে কী ঘটছে সে সম্পর্কেও সচেতন।

সিরিজটির বিশাল পরিসর এবং দৃশ্য নির্মাণের ধরনও অভিনেতাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। অনেক দৃশ্যে একসঙ্গে বহু শিল্পী অভিনয় করেছেন এবং খুব কম টেকেই দৃশ্য শেষ করা হয়েছে। অভিনেতাদের মধ্যে মজার ছলে কথাও চলত—যদি খুব ভাগ্য ভালো থাকে, তাহলে হয়তো দুটি টেক পাওয়া যাবে। তবে এই কঠোর শুটিং প্রক্রিয়ার মধ্যেও পরিচালক শিল্পীদের নিজের মতো করে অভিনয় করার স্বাধীনতা দিয়েছেন।

সৌমিক সেন বলেন, গল্প বলার ধরন বদলেছে, অভিনয়ের ধরনও বদলেছে। এখন অভিনেতারা কেবল অভিনয় করেন না, তারা চরিত্রকে অনুভব করেন এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাকে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর মতে, ‘জ্যাজ সিটি’ শুধু বড় মাপের একটি পিরিয়ড ড্রামা নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, সংগ্রাম এবং ইতিহাসের এক বাস্তব ও মানবিক প্রতিচ্ছবি।

১৯ মার্চ থেকে সনি লিভ-এ মুক্তি পেলে দর্শকই ঠিক করবেন এই গল্প কতটা তাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন