সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের পডকাস্টে বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর বিতর্কিত মন্তব্য—“আমার এক কথায় বাংলায় বিজেপির মস্তানরা নামবে।” ভিডিও প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা।
শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির জনসভার মঞ্চ থেকে মিঠুনকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশকে নিরপেক্ষ হতে বলুন, ৩০ মিনিটের মধ্যে খেলা শেষ করে দেব। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব কষ্ট দূর হবে। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি।” কিন্তু, ঠিক একদিন আগেই, শুক্রবার সিনিয়ার সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের ‘বাংলাস্ফিয়ার’ ইউটিউব পডকাস্টে অথিতি হয়ে এসেছিলেন মিঠুন। সেখানে সুমনবাবু তাঁকে বলেন, “বাংলার রাজনীতিতে দেখা গিয়েছে আল্টিমেটলি ভোট জেতায় সংগঠন, পুলিশ আর মস্তান। এই তিনের যে অক্ষশক্তি, একে ভাঙতে আপনার পরিকল্পনা কী?”
জবাবে মিঠুন বলেন, “সংগঠনের ক্ষেত্রে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি রাজ্যে বিজেপির এখন ৮৫ শতাংশ সংগঠিত। পুলিশ আমার হাতে নেই। আমি বারবার বলছি পুলিশকে যে আপনারা একেবারে নিউট্রাল হয়ে যান। থার্ড হল মস্তান। সেটা বিজেপির আছে। খালি পুলিশকে বলুন নিউট্রাল হয়ে যেতে খেলা দেখতে পাবেন।” তখন সুমনবাবু তাঁকে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি বম্বে থেকে মস্তান নিয়ে আসবে?” তখন মিঠুন বলেন, “ আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের বুকে দেখিয়ে দেব। আমার এক কথাতে হবে। কিন্তু, পুলিশ ধরে ঢুকিয়ে দেবে তার থেকে ভালো এখন চুপচাপ বসে বসে দেখো, যখন দরকার হবে...।” তিনি এরপরেই বলেন, “আমি চাই না আমাদের লিডাররা অ্যারেস্ট হোক। মস্তানরাও লিডার, তাদের পিছনে যারা থাকে, তারা বড় লিডার।” এরপর মিঠুন বিহার ও মহারাষ্ট্রে বিজেপির জয়ের উদাহরণ দেন।
প্রায় ৪৫ মিনিটের এই কথোপকথনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, বিজেপির সংগঠন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াই নিয়ে কথা বলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মিঠন এটাই বলতে চেয়েছেন যে বাংলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে বিজেপির কর্মীরা চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি দাবি করেন, দলের কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংগঠনশক্তি রয়েছে এবং তাঁদের মাঠে নামাতে খুব বেশি সময় লাগে না।
পডকাস্টে তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হন বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই দলের কর্মীদের প্রস্তুত থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিজেপি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
এই আলোচনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংগঠনের ভিত এবং জনসমর্থনের বিষয়েও কথা বলেন মিঠুন। অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা এই তারকা বর্তমানে বাংলায় বিজেপির অন্যতম প্রচারমুখ হিসেবে পরিচিত।
পডকাস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন