লোকসভায় পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭, বৃদ্ধি ও আর্থিক শৃঙ্খলার ভারসাম্যে জোর

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় পেশ করলেন ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান, উৎপাদন বৃদ্ধি ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব।

লোকসভায় পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭, বৃদ্ধি ও আর্থিক শৃঙ্খলার ভারসাম্যে জোর

রবিবার লোকসভায় ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সংসদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি আগামী বছরের জন্য সরকারের আয়–ব্যয়ের অগ্রাধিকার তুলে ধরে এমন এক আর্থিক রূপরেখা পেশ করেন, যার লক্ষ্য একদিকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং অন্যদিকে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা।

বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রেক্ষাপটে ভারতের অর্থনৈতিক গতি শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেন। বাজেটে ডিজিটাল ও ভৌত অবকাঠামো বিস্তার, উদ্ভাবনকে উৎসাহ এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই বাজেটের অন্যতম প্রধান দিক ছিল কৌশলগত উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় বরাদ্দের পাশাপাশি আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা। আর্থিক ঘাটতির পূর্বাভাস এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি চালু রাখা যায়, কিন্তু সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত না হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজস্ব বণ্টনের বিদ্যমান কাঠামো বজায় রেখে সহযোগিতামূলক ফেডারাল কাঠামোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

বাজেটে প্রতিযোগিতা ক্ষমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বায়োটেকনোলজি, ক্রীড়া ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বিশেষ প্রকল্প চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা যুব সমাজ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে বলে সরকার মনে করছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলিকে সহায়তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়ার ফলে পরিবহণ, জ্বালানি ও নগর উন্নয়ন খাত বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই খাতগুলিকেই ভারতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

নির্মলা সীতারামনের টানা নবম বাজেট পেশ এই ভাষণ। তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা যেমন স্পষ্ট, তেমনই উদীয়মান চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও মিলেছে। সংস্কারমুখী পদক্ষেপ ও স্থিতিশীলতাকেন্দ্রিক নীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

এদিকে বিস্তারিত বাজেট নথি প্রকাশের পর অর্থনীতিবিদ, শিল্পপতি ও রাজনৈতিক মহলে বিশদ বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যখন এই বাজেটের প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পড়তে পারে, তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হবে।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন