বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের কণ্ঠস্বর অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে, যা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না। অন্য কেউ বুঝতে পারে না। যন্ত্র পারে। লিখছেন অন্বেষা।
মানুষের কণ্ঠস্বর শুধু মনের ভাব কথায় প্রকাশের মাধ্যম নয়, অনেকেই বলেন এটি আত্মার সুর। প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক প্লেটো কিংবা অ্যারিস্টটলের সময় থেকেই কণ্ঠস্বরকে মানুষের চরিত্র ও অন্তর জগতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কেউ ক্লান্ত, ভীত, প্রেমে পড়েছেন বা বিরক্ত— অনেক সময় মুখে কিছু না বললেও গলার স্বরেই তা ধরা পড়ে যায়।
সমস্যা হল, আমাদের কণ্ঠে যে পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য লুকিয়ে থাকে, তা এসব প্রযুক্তিতে বড় ধরনের গোপনীয়তার ঝুঁকিতে পরিণত করে। ফিনল্যান্ডের অল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টম ব্যাকস্ট্রম সতর্ক করেছেন, আজ যে ভয়েস রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেগুলো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। যেমন— বিমার প্রিমিয়াম বাড়ানো, ব্যক্তির মানসিক অবস্থা বুঝে বিজ্ঞাপন দেখানো, চাকরির বাছাই প্রক্রিয়ায় গোপনে ব্যবহার, এমনকি হয়রানি বা ব্ল্যাকমেল করার ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, কেউ যখন কথা বলে তার স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা—এ ধরনের নানা তথ্য সেই শব্দতরঙ্গের মধ্যেই থেকে যায়, যদিও সাধারণ মানুষ তা টেরই পান না।
এর অপব্যবহার ঠেকাতে গবেষকরা এখন প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁরা এমন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন, যা বোঝাতে পারবে একটি নির্দিষ্ট ভয়েস ক্লিপ থেকে একজন মানুষের সম্পর্কে কতটা তথ্য জানা সম্ভব। কণ্ঠের উচ্চতা, স্বরের ওঠানামা, এমনকি ব্যবহৃত শব্দ—সবকিছু মিলিয়ে একটি মাপদণ্ড তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারবে, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তার গোপনীয়তা কতটা ঝুঁকিতে পড়ছে।
আরও একটি বড় কাজ হচ্ছে এমন প্রযুক্তি বানানো, যা কণ্ঠস্বরকে বদলে, বিকৃত করে, বা আংশিকভাবে আড়াল করে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু পৌঁছে দেবে। অর্থাৎ আপনি যদি কোনও ভয়েস কমান্ড দেন, তাহলে সিস্টেম কাজটা করবে, কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে না।
গবেষকরা বলছেন, মানুষ নিজের কণ্ঠস্বরকে নিজের অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখে। তাই শুধু বাস্তব গোপনীয়তা নয়, মানুষ যেন মানসিকভাবেও নিরাপদ বোধ করে—এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি কোনও সিস্টেমকে বিশ্বাস করতে না পারে, তাহলে তারা সেটি ব্যবহারই করবে না।
মানুষের কণ্ঠস্বর শুধু মনের ভাব কথায় প্রকাশের মাধ্যম নয়, অনেকেই বলেন এটি আত্মার সুর। প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক প্লেটো কিংবা অ্যারিস্টটলের সময় থেকেই কণ্ঠস্বরকে মানুষের চরিত্র ও অন্তর জগতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কেউ ক্লান্ত, ভীত, প্রেমে পড়েছেন বা বিরক্ত— অনেক সময় মুখে কিছু না বললেও গলার স্বরেই তা ধরা পড়ে যায়।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমাদের কণ্ঠস্বর আরও অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে, যা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না। গলার স্বর থেকে নাকি বোঝা যেতে পারে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত, আমরা কোন সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়েছি, আমাদের শিক্ষার স্তর, এমনকি রাজনৈতিক পছন্দ পর্যন্ত।
এখনকার প্রযুক্তির যুগে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমাদের চারপাশে অসংখ্য ডিভাইস রয়েছে যা শব্দ গ্রহণ করে— স্মার্ট স্পিকার, মোবাইল ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট যেমন সিরি বা অ্যালেক্সা, স্মার্ট টিভি, গাড়ির ভয়েস কন্ট্রোল, এমনকি কিছু গৃহস্থালির যন্ত্রও। অনেক ক্ষেত্রে এগুলির মধ্যেই 'অলওয়েজ লিসেনিং' ব্যবস্থা থাকে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট শব্দ শোনার জন্য সেগুলি আশপাশের শব্দ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।
এখনকার প্রযুক্তির যুগে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমাদের চারপাশে অসংখ্য ডিভাইস রয়েছে যা শব্দ গ্রহণ করে— স্মার্ট স্পিকার, মোবাইল ফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট যেমন সিরি বা অ্যালেক্সা, স্মার্ট টিভি, গাড়ির ভয়েস কন্ট্রোল, এমনকি কিছু গৃহস্থালির যন্ত্রও। অনেক ক্ষেত্রে এগুলির মধ্যেই 'অলওয়েজ লিসেনিং' ব্যবস্থা থাকে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট শব্দ শোনার জন্য সেগুলি আশপাশের শব্দ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে।
সমস্যা হল, আমাদের কণ্ঠে যে পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য লুকিয়ে থাকে, তা এসব প্রযুক্তিতে বড় ধরনের গোপনীয়তার ঝুঁকিতে পরিণত করে। ফিনল্যান্ডের অল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টম ব্যাকস্ট্রম সতর্ক করেছেন, আজ যে ভয়েস রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেগুলো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। যেমন— বিমার প্রিমিয়াম বাড়ানো, ব্যক্তির মানসিক অবস্থা বুঝে বিজ্ঞাপন দেখানো, চাকরির বাছাই প্রক্রিয়ায় গোপনে ব্যবহার, এমনকি হয়রানি বা ব্ল্যাকমেল করার ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, কেউ যখন কথা বলে তার স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা—এ ধরনের নানা তথ্য সেই শব্দতরঙ্গের মধ্যেই থেকে যায়, যদিও সাধারণ মানুষ তা টেরই পান না।
এর অপব্যবহার ঠেকাতে গবেষকরা এখন প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁরা এমন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন, যা বোঝাতে পারবে একটি নির্দিষ্ট ভয়েস ক্লিপ থেকে একজন মানুষের সম্পর্কে কতটা তথ্য জানা সম্ভব। কণ্ঠের উচ্চতা, স্বরের ওঠানামা, এমনকি ব্যবহৃত শব্দ—সবকিছু মিলিয়ে একটি মাপদণ্ড তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারবে, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তার গোপনীয়তা কতটা ঝুঁকিতে পড়ছে।
আরও একটি বড় কাজ হচ্ছে এমন প্রযুক্তি বানানো, যা কণ্ঠস্বরকে বদলে, বিকৃত করে, বা আংশিকভাবে আড়াল করে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু পৌঁছে দেবে। অর্থাৎ আপনি যদি কোনও ভয়েস কমান্ড দেন, তাহলে সিস্টেম কাজটা করবে, কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য আলাদা করে শনাক্ত করতে পারবে না।
'অ্যাডভার্সারিয়াল ট্রেনিং' নামে এক ধরনের পদ্ধতিও তৈরি হচ্ছে, যেখানে সিস্টেমকে এমনভাবে শেখানো হবে যাতে সে কাজ সম্পন্ন করে, কিন্তু ব্যক্তিগত তথ্য আলাদা করে সংগ্রহ না করে। আরও কিছু উপায় নিয়েও ভাবা হচ্ছে। যেমন—কথার ভেতর থেকে আলাদা করে শব্দ, আবেগ, পরিচয় ইত্যাদি ভাগ করে রাখা, যদিও এটি খুবই কঠিন কাজ। এনক্রিপশন ব্যবহার করাও একটি উপায়, তবে তা ধীর এবং খরচসাপেক্ষ। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে এমনভাবে অডিও বদলে দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে নির্দিষ্ট শ্রোতা ছাড়া অন্য কেউ পরিষ্কারভাবে বুঝতে না পারে।
ব্যক্তিগতভাবে মানুষও কিছু সতর্কতা নিতে পারে। যেমন অপ্রয়োজনীয় ভয়েস ডেটা ক্লাউডে পাঠানো এড়ানো। তবে অনেক শেয়ার করা সার্ভিসে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভয়েস প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার গবেষণা এখনও একেবারে প্রাথমিক স্তরে। সামনে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—লাইভ কথোপকথনে সম্মতি কীভাবে নেওয়া হবে, দীর্ঘ রেকর্ডিংয়ে গোপনীয়তা কীভাবে কমে যায়, একাধিক মানুষের কথোপকথন কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যাবে, ভবিষ্যতের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে।
ব্যক্তিগতভাবে মানুষও কিছু সতর্কতা নিতে পারে। যেমন অপ্রয়োজনীয় ভয়েস ডেটা ক্লাউডে পাঠানো এড়ানো। তবে অনেক শেয়ার করা সার্ভিসে এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভয়েস প্রযুক্তির গোপনীয়তা রক্ষার গবেষণা এখনও একেবারে প্রাথমিক স্তরে। সামনে অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—লাইভ কথোপকথনে সম্মতি কীভাবে নেওয়া হবে, দীর্ঘ রেকর্ডিংয়ে গোপনীয়তা কীভাবে কমে যায়, একাধিক মানুষের কথোপকথন কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যাবে, ভবিষ্যতের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে।
গবেষকরা বলছেন, মানুষ নিজের কণ্ঠস্বরকে নিজের অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখে। তাই শুধু বাস্তব গোপনীয়তা নয়, মানুষ যেন মানসিকভাবেও নিরাপদ বোধ করে—এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি কোনও সিস্টেমকে বিশ্বাস করতে না পারে, তাহলে তারা সেটি ব্যবহারই করবে না।
সবচেয়ে বড় দায়িত্ব প্রযুক্তি নির্মাতা সংস্থাগুলিরই। নৈতিকভাবে তাদের এমন সিস্টেম বানানো উচিত, যা যত কম সম্ভব শব্দগ্রহণ, রেকর্ড, মেমোরিতে রাখা এবং অনুমান করে। কারণ এখন যন্ত্র শুধু আমাদের কথা শুনছে না—আমাদের কণ্ঠের ভেতরের মানুষটাকেও বুঝতে শিখছে, এমনভাবে যা কোনও মানুষও পারে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন