পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাজেটকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন; রাজ্যের উন্নয়ন ও বরাদ্দে কেন্দ্রকে দায়ী করে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলেছেন।
কলকাতা : কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “ওরা বাংলায় বঞ্চনা করেছে, রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না, তাই ভোট পাবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই বাজেট হচ্ছে গারবেজ অফ লাই (মিথ্যার জঞ্জাল)। গোটা দেশে একটাই কর কাঠামো—জিএসটি। বাংলার থেকে সব টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, রাজ্যকে একটাও টাকা দিচ্ছে না। যে টাকার কথা বলা হয়েছে, সব আমাদের টাকা।” বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ডানকুনি এবং গুজরাতের সুরতের মধ্যে নতুন ফ্রেট করিডর গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন—এ প্রসঙ্গে মমতা দাবি করেন, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকাকালেই ডানকুনি করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি, কিন্তু কাজ থমকে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন, তাঁর সরকার গত রাজ্য বাজেটে ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির পরিকল্পনার কথা জানায়; এতে ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার এবং অন্যান্য করিডর অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমরাই জঙ্গলমহলের জন্য কাজ করেছি, পুরুলিয়ার জন্য আলাদা ফ্রেট করিডর তৈরি করেছি; ইতোমধ্যে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।” কেন্দ্রীয় বাজেটে শিলিগুড়ি–বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডরের কথা উল্লেখে মমতা এটিকে মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র ‘ডিজ়নিল্যান্ড’ বানানোর চেষ্টাও বলে কটাক্ষ করেন।
কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলেও অভিহিত করেন মমতা, উল্লেখ করে বলেন, “বাজেটে শুধু কথার ফুলঝুরি; বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্ট পতন বাজেট বণিকমহলকে হতাশ করেছে।
বাজেট ঘোষণার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় বাজেটকে তীব্র সমালোচনায় সরব হন। তিনি বলেন, ৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার জন্য কিছু ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর মতে এটি ‘দিশাহীন, ভিত্তিহীন এবং লক্ষ্যহীন’ বাজেট। অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, এবং কেউ ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় অর্থ পেয়েছেন প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন।
তিনি বলেন, “বাংলায় ওরা হারছে, তাই বিমাতৃসুলভ মনোভাব নিয়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে চাইছে।” অভিষেকের মন্তব্য অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।
তৃণমূল শিবির মনে করছে, কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ উল্লেখ না থাকায় বরাদ্দ নিয়ে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ তাদের কাছে এক নতুন রাজনৈতিক তলভূমি তৈরি করতে পারে। রবিবার মমতা ও অভিষেক একসঙ্গে সেই পটভূমিকে সামনে নিয়ে শান দিয়েছেন।
![]() |
| ফাইল ছবি। |
কলকাতা : কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই, সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, “ওরা বাংলায় বঞ্চনা করেছে, রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না, তাই ভোট পাবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এই বাজেট হচ্ছে গারবেজ অফ লাই (মিথ্যার জঞ্জাল)। গোটা দেশে একটাই কর কাঠামো—জিএসটি। বাংলার থেকে সব টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, রাজ্যকে একটাও টাকা দিচ্ছে না। যে টাকার কথা বলা হয়েছে, সব আমাদের টাকা।” বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ডানকুনি এবং গুজরাতের সুরতের মধ্যে নতুন ফ্রেট করিডর গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন—এ প্রসঙ্গে মমতা দাবি করেন, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকাকালেই ডানকুনি করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি, কিন্তু কাজ থমকে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন, তাঁর সরকার গত রাজ্য বাজেটে ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির পরিকল্পনার কথা জানায়; এতে ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার এবং অন্যান্য করিডর অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমরাই জঙ্গলমহলের জন্য কাজ করেছি, পুরুলিয়ার জন্য আলাদা ফ্রেট করিডর তৈরি করেছি; ইতোমধ্যে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।” কেন্দ্রীয় বাজেটে শিলিগুড়ি–বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডরের কথা উল্লেখে মমতা এটিকে মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র ‘ডিজ়নিল্যান্ড’ বানানোর চেষ্টাও বলে কটাক্ষ করেন।
কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলেও অভিহিত করেন মমতা, উল্লেখ করে বলেন, “বাজেটে শুধু কথার ফুলঝুরি; বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্ট পতন বাজেট বণিকমহলকে হতাশ করেছে।
বাজেট ঘোষণার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় বাজেটকে তীব্র সমালোচনায় সরব হন। তিনি বলেন, ৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার জন্য কিছু ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর মতে এটি ‘দিশাহীন, ভিত্তিহীন এবং লক্ষ্যহীন’ বাজেট। অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, এবং কেউ ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রীয় অর্থ পেয়েছেন প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন।
তিনি বলেন, “বাংলায় ওরা হারছে, তাই বিমাতৃসুলভ মনোভাব নিয়ে মানুষকে শিক্ষা দিতে চাইছে।” অভিষেকের মন্তব্য অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেবে।
তৃণমূল শিবির মনে করছে, কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ উল্লেখ না থাকায় বরাদ্দ নিয়ে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ তাদের কাছে এক নতুন রাজনৈতিক তলভূমি তৈরি করতে পারে। রবিবার মমতা ও অভিষেক একসঙ্গে সেই পটভূমিকে সামনে নিয়ে শান দিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন