নারীর প্লেজার, সম্মতি ও যৌন শিক্ষাকে সামনে এনে সমাজের ট্যাবু ভাঙছেন সীমা আনন্দ। সমর্থন ও সমালোচনার মাঝেও কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর।
দেবাশিস
আমরা প্রকাশ্যে যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা এবং সম্পর্কের কথা বললেই সমাজের একটা অংশ এখনও অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এই অস্বস্তির মধ্যেই আজকাল উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম– সীমা আনন্দ। এইসময়ে গুগলে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া ব্যক্তি তিনিই। ইউটিউব থেকে ফেসবুক– সর্বত্র ঘুরে-ফিরে আসছে তাঁর সাক্ষাৎকার, তাঁর লেখা বইয়ের প্রসঙ্গ। আসলে, চলতি মাসের শুরুর দিকে, সীমা আনন্দের একটি পডকাস্ট ইন্টারভিউ ভাইরাল হয়ে যায় এরপরেই তিনি এমনকী আটপৌঢ়ে বাঙালির আলোচনায় উঠে এসেছেন।
কে এই সীমা আনন্দ?
একজন লন্ডন-ভিত্তিক মিথোলজিস্ট, স্টোরিটেলার এবং যৌনতা-শিক্ষক, যিনি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলিকে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেন। তিনি কোনও সাধারণ লেখিকা বা বক্তা নন। তিনি কামসূত্রের মতো প্রাচীন টেক্সটগুলিকে ব্যবহার করে নারীদের যৌন ক্ষমতায়ন, আনন্দ (প্লেজার) এবং সম্মতির কথা বলেন, যা অনেকের কাছে উন্মুক্ততার প্রতীক, আবার কারও কাছে বিতর্কের উৎস। সীমার মতে, যৌনতা তো জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই এটিকে লুকিয়ে রাখার চেয়ে খোলাখুলি আলোচনা করাই শ্রেয়।
সীমা আনন্দের জন্ম ভারতে। তবে তাঁর কর্মজীবন লন্ডনে। তিনি প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, বিশেষ করে নারীদের গল্প এবং যৌনতা-সম্পর্কিত টেক্সট নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর প্রধান কাজ হলো কামসূত্র, রতিরহস্য এবং অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থগুলিকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর বই ‘The Arts of Seduction’ (যা ২০১৭ সালে প্রকাশিত) কামসূত্রের ভিত্তিতে লেখা। যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে প্রাচীন ভারতে যৌনতাকে শিল্প হিসেবে দেখা হতো। সেখানে যৌনতা শুধু শারীরিক আনন্দের জন্য ছিল না, বরং মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সংযোগের জন্য। বইটিতে তিনি লেখেন যে কামসূত্র কোনও পর্নোগ্রাফিক টেক্সট নয়, বরং এটি সম্পর্কের গভীরতা, সম্মতি এবং পারস্পরিক আনন্দের গাইড। প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক হিসেবে আপনি যদি এটি পড়েন, তাহলে বুঝবেন কীভাবে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিতে যৌনতাকে উদযাপন করা হতো, যেমন নারীদের অর্গাজমকে প্রাধান্য দেওয়া বা বিভিন্ন পজিশনের মাধ্যমে আনন্দ বৃদ্ধি। সীমা এই সবকিছুকে আধুনিক সমাজের সঙ্গে যুক্ত করেন, যেখানে যৌনতা এখনও অনেকের কাছে ট্যাবু।
সীমার কাজ শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। সীমা আনন্দ ইনস্টাগ্রামে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেখানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ১ মিলিয়নেরও বেশি। সেখানে তিনি ভিডিও পোস্ট করেন। সেইসব পোস্টে কামসূত্রের টিপস শেয়ার করেন, যেমন কীভাবে সম্পর্কে আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে রাখা যায়। সেইসঙ্গে নারীর যৌন স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা করেন। যেমন, তিনি বলেন যে প্রাচীন ভারতে পুরুষদেরকে তোতা পাখির সঙ্গে কথা বলতে শেখানো হতো। কারণ এটি তাদের যৌন সঙ্গীর সঙ্গে ভালো কমিউনিকেশন শেখাতো, যা আজকের ডেটিং অ্যাপের যুগে আরও প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাম্প্রতিক বই ‘Speak Easy’ (২০২৫ সালে প্রকাশিত)-তে আধুনিক ডেটিং, পলিঅ্যামরি, এআই-ভিত্তিক থেরাপি এবং ভারতের লোনলিনেস এপিডেমিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে যৌনতা এবং সম্পর্কের মধ্যে কমিউনিকেশনের অভাব সমস্যা তৈরি করে। তিনি দেখিয়েছেন যে সম্মতি একটি এককালীন শর্ত নয়, এটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া। এই সবকিছু তাঁকে একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর করে তুলেছে, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে, যেখানে তিনি লজ্জা এবং নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
কিন্তু কেন এই সময় তাঁকে নিয়ে বিতর্ক?
জানুয়ারিতে সীমা আনন্দ শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে অংশ নেন। যেখানে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা শেয়ার করেন। তিনি বলেন যে ৬৩ বছর বয়সে, একটি ১৫ বছরের ছেলে তাঁকে ‘filthiest language’ দিয়ে প্রপোজ করে। এটি ঘটে গত বছর। তাঁর এই কথাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে অস্বস্তিকর মনে করেন। তাঁদের মতে, একজন যৌন শিক্ষকের মুখ থেকে নাবালকের সঙ্গে যৌনতা-সম্পর্কিত আলোচনা অনুচিত। আবার কেউ বলছেন, এটি ডিজিটাল যুগের সমস্যা। যেখানে তরুণরা সীমা না মেনে অনলাইনে অপমানজনক মেসেজ পাঠায়। সীমা নিজে এটিকে একটা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেন যে কীভাবে যৌন শিক্ষার অভাব সমাজে সমস্যা তৈরি করছে। এই ইন্টারভিউয়ের পর, গুগলে তাঁর নাম সার্চ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জেন জি-এর মধ্যে, যারা তাঁর বয়স এবং কাজ নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন তাঁর ছবি AI দিয়ে মর্ফ করে অশ্লীল ছবি তৈরি করা হয় এবং অনলাইনে তা ছড়িয়ে পড়ে। সীমা এর বিরুদ্ধে সরব হন। বলেন, এটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং রেপিস্ট মেন্টালিটির প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে যৌনতা নিয়ে শিক্ষামূলক আলোচনা করা এবং অপমানজনক আচরণ এক নয়। এই ঘটনাগুলি সমাজের পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবেপ বহিঃপ্রকাশই। যখন একজন মহিলা যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন, তাঁকে টার্গেট করা হয়। কিন্তু সীমা আনন্দ এসবের সামনে থামেননি। তিনি বলেন, এই বিতর্কগুলি আসলে সমাজের অমীমাংসিত ভয়কে প্রকাশ করে। অনেকে তাঁকে সমর্থন করেন। তাঁরা বলছেন, সীমার মতো কণ্ঠস্বর দরকার যাতে যৌনতা নিয়ে লজ্জা ও সংশয় কমে এবং স্বাস্থ্যকর আলোচনা বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ থ্রেডগুলিতে অনেকে বলেছেন যে তাঁর কথা সমাজের ট্যাবু ভাঙছে। এটি নারীদের জন্য একটি স্বাধীনতা।
এই বিতর্কের মূলে রয়েছে আমাদের সমাজের যৌনতা নিয়ে দ্বন্দ্ব। ভারতে, যেখানে কামসূত্রের মতো গ্রন্থ রচিত হয়েছে, সেখানে যৌনতা এখনও গোপনীয়। সীমা আনন্দ এটিকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন যে যৌনতা প্রাকৃতিক। এটি নিয়ে কথা না বললে সমস্যা বাড়ে । যেমন অসম্মতি, অপমান বা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে, আপনি যদি তাঁর কনটেন্ট দেখেন, তাহলে বুঝবেন কীভাবে তিনি যৌনতাকে শুধু শারীরিক নয়, বরং আবেগ এবং মানসিক স্তরে দেখেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি পলিঅ্যামরি নিয়ে আলোচনা করেন। বলেন যে এটি একটি বিবর্তিত সম্পর্কের মডেল, যা সম্মতি এবং যোগাযোগের উপর নির্ভর করে। এছাড়া, তিনি কুইয়ার আইডেন্টিটি এবং জেন জি-র চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন, যা ভারতের মতো দেশে খুবই দরকারী।
দেবাশিস
আমরা প্রকাশ্যে যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা এবং সম্পর্কের কথা বললেই সমাজের একটা অংশ এখনও অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এই অস্বস্তির মধ্যেই আজকাল উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম– সীমা আনন্দ। এইসময়ে গুগলে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া ব্যক্তি তিনিই। ইউটিউব থেকে ফেসবুক– সর্বত্র ঘুরে-ফিরে আসছে তাঁর সাক্ষাৎকার, তাঁর লেখা বইয়ের প্রসঙ্গ। আসলে, চলতি মাসের শুরুর দিকে, সীমা আনন্দের একটি পডকাস্ট ইন্টারভিউ ভাইরাল হয়ে যায় এরপরেই তিনি এমনকী আটপৌঢ়ে বাঙালির আলোচনায় উঠে এসেছেন।
কে এই সীমা আনন্দ?
একজন লন্ডন-ভিত্তিক মিথোলজিস্ট, স্টোরিটেলার এবং যৌনতা-শিক্ষক, যিনি প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলিকে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেন। তিনি কোনও সাধারণ লেখিকা বা বক্তা নন। তিনি কামসূত্রের মতো প্রাচীন টেক্সটগুলিকে ব্যবহার করে নারীদের যৌন ক্ষমতায়ন, আনন্দ (প্লেজার) এবং সম্মতির কথা বলেন, যা অনেকের কাছে উন্মুক্ততার প্রতীক, আবার কারও কাছে বিতর্কের উৎস। সীমার মতে, যৌনতা তো জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই এটিকে লুকিয়ে রাখার চেয়ে খোলাখুলি আলোচনা করাই শ্রেয়।
সীমা আনন্দের জন্ম ভারতে। তবে তাঁর কর্মজীবন লন্ডনে। তিনি প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, বিশেষ করে নারীদের গল্প এবং যৌনতা-সম্পর্কিত টেক্সট নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর প্রধান কাজ হলো কামসূত্র, রতিরহস্য এবং অন্যান্য প্রাচীন গ্রন্থগুলিকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা। উদাহরণস্বরূপ, তাঁর বই ‘The Arts of Seduction’ (যা ২০১৭ সালে প্রকাশিত) কামসূত্রের ভিত্তিতে লেখা। যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে প্রাচীন ভারতে যৌনতাকে শিল্প হিসেবে দেখা হতো। সেখানে যৌনতা শুধু শারীরিক আনন্দের জন্য ছিল না, বরং মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সংযোগের জন্য। বইটিতে তিনি লেখেন যে কামসূত্র কোনও পর্নোগ্রাফিক টেক্সট নয়, বরং এটি সম্পর্কের গভীরতা, সম্মতি এবং পারস্পরিক আনন্দের গাইড। প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক হিসেবে আপনি যদি এটি পড়েন, তাহলে বুঝবেন কীভাবে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিতে যৌনতাকে উদযাপন করা হতো, যেমন নারীদের অর্গাজমকে প্রাধান্য দেওয়া বা বিভিন্ন পজিশনের মাধ্যমে আনন্দ বৃদ্ধি। সীমা এই সবকিছুকে আধুনিক সমাজের সঙ্গে যুক্ত করেন, যেখানে যৌনতা এখনও অনেকের কাছে ট্যাবু।
সীমার কাজ শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। সীমা আনন্দ ইনস্টাগ্রামে অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেখানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ১ মিলিয়নেরও বেশি। সেখানে তিনি ভিডিও পোস্ট করেন। সেইসব পোস্টে কামসূত্রের টিপস শেয়ার করেন, যেমন কীভাবে সম্পর্কে আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে রাখা যায়। সেইসঙ্গে নারীর যৌন স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা করেন। যেমন, তিনি বলেন যে প্রাচীন ভারতে পুরুষদেরকে তোতা পাখির সঙ্গে কথা বলতে শেখানো হতো। কারণ এটি তাদের যৌন সঙ্গীর সঙ্গে ভালো কমিউনিকেশন শেখাতো, যা আজকের ডেটিং অ্যাপের যুগে আরও প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাম্প্রতিক বই ‘Speak Easy’ (২০২৫ সালে প্রকাশিত)-তে আধুনিক ডেটিং, পলিঅ্যামরি, এআই-ভিত্তিক থেরাপি এবং ভারতের লোনলিনেস এপিডেমিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে যৌনতা এবং সম্পর্কের মধ্যে কমিউনিকেশনের অভাব সমস্যা তৈরি করে। তিনি দেখিয়েছেন যে সম্মতি একটি এককালীন শর্ত নয়, এটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া। এই সবকিছু তাঁকে একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর করে তুলেছে, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে, যেখানে তিনি লজ্জা এবং নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
কিন্তু কেন এই সময় তাঁকে নিয়ে বিতর্ক?
জানুয়ারিতে সীমা আনন্দ শুভঙ্কর মিশ্রের পডকাস্টে অংশ নেন। যেখানে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা শেয়ার করেন। তিনি বলেন যে ৬৩ বছর বয়সে, একটি ১৫ বছরের ছেলে তাঁকে ‘filthiest language’ দিয়ে প্রপোজ করে। এটি ঘটে গত বছর। তাঁর এই কথাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে অস্বস্তিকর মনে করেন। তাঁদের মতে, একজন যৌন শিক্ষকের মুখ থেকে নাবালকের সঙ্গে যৌনতা-সম্পর্কিত আলোচনা অনুচিত। আবার কেউ বলছেন, এটি ডিজিটাল যুগের সমস্যা। যেখানে তরুণরা সীমা না মেনে অনলাইনে অপমানজনক মেসেজ পাঠায়। সীমা নিজে এটিকে একটা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেন যে কীভাবে যৌন শিক্ষার অভাব সমাজে সমস্যা তৈরি করছে। এই ইন্টারভিউয়ের পর, গুগলে তাঁর নাম সার্চ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জেন জি-এর মধ্যে, যারা তাঁর বয়স এবং কাজ নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন তাঁর ছবি AI দিয়ে মর্ফ করে অশ্লীল ছবি তৈরি করা হয় এবং অনলাইনে তা ছড়িয়ে পড়ে। সীমা এর বিরুদ্ধে সরব হন। বলেন, এটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং রেপিস্ট মেন্টালিটির প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে যৌনতা নিয়ে শিক্ষামূলক আলোচনা করা এবং অপমানজনক আচরণ এক নয়। এই ঘটনাগুলি সমাজের পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবেপ বহিঃপ্রকাশই। যখন একজন মহিলা যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন, তাঁকে টার্গেট করা হয়। কিন্তু সীমা আনন্দ এসবের সামনে থামেননি। তিনি বলেন, এই বিতর্কগুলি আসলে সমাজের অমীমাংসিত ভয়কে প্রকাশ করে। অনেকে তাঁকে সমর্থন করেন। তাঁরা বলছেন, সীমার মতো কণ্ঠস্বর দরকার যাতে যৌনতা নিয়ে লজ্জা ও সংশয় কমে এবং স্বাস্থ্যকর আলোচনা বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ থ্রেডগুলিতে অনেকে বলেছেন যে তাঁর কথা সমাজের ট্যাবু ভাঙছে। এটি নারীদের জন্য একটি স্বাধীনতা।
এই বিতর্কের মূলে রয়েছে আমাদের সমাজের যৌনতা নিয়ে দ্বন্দ্ব। ভারতে, যেখানে কামসূত্রের মতো গ্রন্থ রচিত হয়েছে, সেখানে যৌনতা এখনও গোপনীয়। সীমা আনন্দ এটিকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বলেন যে যৌনতা প্রাকৃতিক। এটি নিয়ে কথা না বললে সমস্যা বাড়ে । যেমন অসম্মতি, অপমান বা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে, আপনি যদি তাঁর কনটেন্ট দেখেন, তাহলে বুঝবেন কীভাবে তিনি যৌনতাকে শুধু শারীরিক নয়, বরং আবেগ এবং মানসিক স্তরে দেখেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি পলিঅ্যামরি নিয়ে আলোচনা করেন। বলেন যে এটি একটি বিবর্তিত সম্পর্কের মডেল, যা সম্মতি এবং যোগাযোগের উপর নির্ভর করে। এছাড়া, তিনি কুইয়ার আইডেন্টিটি এবং জেন জি-র চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন, যা ভারতের মতো দেশে খুবই দরকারী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন