SIR নথি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে তৃণমূলের জয় বলে দাবি করে উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি বিধানসভা আসন জয়ের লক্ষ্যে প্রচারে ঝাঁপানোর বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ।
বারাসত : SIR নথি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে তৃণমূল কংগ্রেসের নৈতিক ও রাজনৈতিক জয় বলে তুলে ধরে রাজ্যজুড়ে আগ্রাসী প্রচারে নামার বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বারাসতের কাছারি ময়দানে আয়োজিত সভা থেকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ৩৩টি বিধানসভা আসনেই তৃণমূলকে জয়ী করার লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার ডাক দেন তিনি। সভা শেষে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে চা-চক্রে বসে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার রূপরেখাও ঠিক করেন অভিষেক। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বারাসত, বসিরহাট, বনগাঁ ও বারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়করা।
প্রসঙ্গত, এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ভোটার তালিকায় থাকা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং শুনানি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বিএলএ-২দের উপস্থিত থাকার অনুমতিও দিতে হবে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, এতদিন ধরে দল যে অভিযোগ তুলে আসছিল, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তারই স্বীকৃতি মিলেছে। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করে মঙ্গলবার থেকেই ব্লক ও শহর ধরে ধরে পথসভা, মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বনগাঁর নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, গত এক দশক ধরে বিজেপি শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। নির্বাচনের সময় টাকা দিলে তা নিতে বলেন তিনি, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় নোটবন্দি বা SIR-এর লাইনে দাঁড়িয়ে জোড়া ফুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে ফল ঘোষণার দিনে বিজেপি নেতাদের চোখে সরষে ফুল ফুটে ওঠে।
উত্তর ২৪ পরগণার রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হলেও পরে উপনির্বাচনে বাগদা তৃণমূলের দখলে আসে। লোকসভা ভোটে বনগাঁ আসনে বিজেপি জিতলেও ২০১৯ সালের তুলনায় তৃণমূলের ভোটের হার সাড়ে তিন শতাংশ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে অভিষেক বলেন, উত্তর ২৪ পরগণার হাতে রয়েছে ৩৩-০ করার সুযোগ, জেলার যত্রতত্র থাকা কয়েকটি ‘আবর্জনা’ সরিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই হবে।
এদিনের সভায় রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলির সাফল্যের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগণাতেই প্রায় ২২ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্যসাথী ও খাদ্যসাথী প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ, কন্যাশ্রী পেয়েছেন ৩১ লক্ষ তরুণী এবং কৃষকবন্ধু প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ কৃষক। উন্নয়ন ও আদালতের নির্দেশ—এই দুইকে হাতিয়ার করেই আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে ঝাঁপাতে তৈরি তৃণমূল, স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
![]() |
| বারাসতের কাছারি ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার। |
বারাসত : SIR নথি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে তৃণমূল কংগ্রেসের নৈতিক ও রাজনৈতিক জয় বলে তুলে ধরে রাজ্যজুড়ে আগ্রাসী প্রচারে নামার বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বারাসতের কাছারি ময়দানে আয়োজিত সভা থেকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ৩৩টি বিধানসভা আসনেই তৃণমূলকে জয়ী করার লক্ষ্যে কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার ডাক দেন তিনি। সভা শেষে জেলার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে চা-চক্রে বসে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার রূপরেখাও ঠিক করেন অভিষেক। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বারাসত, বসিরহাট, বনগাঁ ও বারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়করা।
প্রসঙ্গত, এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ভোটার তালিকায় থাকা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং শুনানি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বিএলএ-২দের উপস্থিত থাকার অনুমতিও দিতে হবে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, এতদিন ধরে দল যে অভিযোগ তুলে আসছিল, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তারই স্বীকৃতি মিলেছে। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করে মঙ্গলবার থেকেই ব্লক ও শহর ধরে ধরে পথসভা, মিছিল ও জনসংযোগ কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বনগাঁর নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, গত এক দশক ধরে বিজেপি শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। নির্বাচনের সময় টাকা দিলে তা নিতে বলেন তিনি, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় নোটবন্দি বা SIR-এর লাইনে দাঁড়িয়ে জোড়া ফুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে ফল ঘোষণার দিনে বিজেপি নেতাদের চোখে সরষে ফুল ফুটে ওঠে।
উত্তর ২৪ পরগণার রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে অভিষেক স্মরণ করিয়ে দেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হলেও পরে উপনির্বাচনে বাগদা তৃণমূলের দখলে আসে। লোকসভা ভোটে বনগাঁ আসনে বিজেপি জিতলেও ২০১৯ সালের তুলনায় তৃণমূলের ভোটের হার সাড়ে তিন শতাংশ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে অভিষেক বলেন, উত্তর ২৪ পরগণার হাতে রয়েছে ৩৩-০ করার সুযোগ, জেলার যত্রতত্র থাকা কয়েকটি ‘আবর্জনা’ সরিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই হবে।
এদিনের সভায় রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলির সাফল্যের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগণাতেই প্রায় ২২ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্যসাথী ও খাদ্যসাথী প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ, কন্যাশ্রী পেয়েছেন ৩১ লক্ষ তরুণী এবং কৃষকবন্ধু প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ কৃষক। উন্নয়ন ও আদালতের নির্দেশ—এই দুইকে হাতিয়ার করেই আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ে ঝাঁপাতে তৈরি তৃণমূল, স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন