অনেকে তো একেবারে সরাসরি বলেই দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ভুল নাম উচ্চারণ করে মা কালির অপমান করছেন।
কলকাতা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মালদহের জনসভায় ভাষণের শুরুতে আম, আমসত্ত্ব এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী মন্দির মনস্কামনা, হ্যান্টা কালী মন্দিরের নাম করেন। তিনি বলেন, “জয় মা মনস্কামনা, হ্যান্টা কালী। মালদহের পবিত্র ভূমিতে আমার অন্তর থেকে প্রণাম। আপনারা কেমন আছেন? মন ভাল হয়ে গেল।’’ এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় অংশের মানুষ প্রশ্ন করেন, হ্যান্টা কালি সম্পর্কে। প্রশ্ন করেন, এ কোন দেবীর নাম করলেন প্রধানমন্ত্রী, দেবী কি প্রধানমন্ত্রীর মনগড়া? অনেকে এমনও বলেন, মোদি হয়তো অন্য কিছু বলতে গিয়ে ‘ভাষাবিভ্রাটে’ হ্যান্টা কালির নাম করেছেন। প্রকতপক্ষে দেখা গিয়েছে, মালদহের বাইরে বহু বঙ্গবাসী হিন্দুও হ্যান্টাকালি দর্শন দূরে থাক, নামটি কখনও শোনেনি বা জানেন না।
মালদহ জেলা যেমন তার প্রাচীন ইতিহাস ও গৌড়-পাণ্ডুয়ার স্মৃতিচিহ্নের জন্য পরিচিত, তেমনই এই জেলার গ্রামবাংলার বুকে ছড়িয়ে আছে বহু লোকদেবতা ও শক্তিপীঠ, যেগুলি স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভয়, আশা আর ভক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। হ্যান্টা কালিমন্দির তেমনই এক গুরুত্বপূর্ণ ও ধর্মস্থান। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, অবস্থিত এই মন্দিরে প্রবেশ করলেই এক ধরনের নীরবতা ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি মানুষকে ঘিরে ধরে। ১৯৪৭ দলে মালদার পিডব্লিউডি মোড় এলাকায় তৈরি হয় এই হ্যান্টা কালী মন্দির। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকাবাসীর কাছে এই মন্দির অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
হ্যান্টা কালিমন্দির মূলত লোকবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক পীঠ। স্থানীয় মানুষের কাছে দেবী কালী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত বলে মনে করা হয়। বহু প্রজন্ম ধরে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠা ও ভক্তি নিয়ে মানত করলে দেবী ভক্তদের মনস্কামনা পূরণ করেন। রোগব্যাধি থেকে মুক্তি, পারিবারিক অশান্তির অবসান কিংবা হঠাৎ নেমে আসা বিপদ কাটানোর আশায় মানুষ এখানে আসে। শুধু মালদহ নয়, আশপাশের জেলা থেকেও ভক্তরা এই মন্দিরে দর্শনের জন্য হাজির হন। হ্যান্টা নামটির উৎপত্তি নিয়েও নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন এটি কোনও প্রাচীন স্থানের নাম, আবার কেউ মনে করেন দেবীর শক্তির সঙ্গেই এই নামের গভীর যোগ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকমুখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মন্দিরটি আকারে খুব বড় বা জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও এর গুরুত্ব ও প্রভাব অত্যন্ত গভীর। দেবীর মূর্তি সাধারণত প্রাচীন লোকশিল্পের ধাঁচে নির্মিত, যেখানে বাহ্যিক অলংকারের চেয়ে মুখাবয়বে শক্তি ও মাতৃত্বের প্রকাশ বেশি চোখে পড়ে। এখানকার পূজা-পদ্ধতিও অনেকটাই লোকাচারভিত্তিক। অমাবস্যা, কালীপুজো এবং বিশেষ তিথিতে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। ঢাকের শব্দ, ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর মানুষের প্রার্থনায় চারদিক মুখর হয়ে ওঠে। অতীতে বলি প্রথার প্রচলন ছিল বলে স্থানীয়রা জানান, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই তার রূপ বদলেছে।
বিশেষ উৎসবের দিনে হ্যান্টা কালিমন্দির যেন শুধুই একটি উপাসনালয় থাকে না, বরং তা এক সামাজিক মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ছোটখাটো মেলার মতো পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে প্রসাদের দোকান, অস্থায়ী বাজার আর মানুষের কথাবার্তায় পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই সময় মন্দির হয়ে ওঠে বিশ্বাসের পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
হ্যান্টা কালিমন্দির মালদহ জেলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু দেবী কালীর আরাধনার স্থান নয়, বরং মানুষের ভয়-ভরসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা বিশ্বাসের সাক্ষী। যারা গ্রামবাংলার ধর্মীয় ঐতিহ্য, লোকদেবতার সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাছ থেকে অনুভব করতে চান, তাদের কাছে হ্যান্টা কালিমন্দির নিঃসন্দেহে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
কলকাতা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মালদহের জনসভায় ভাষণের শুরুতে আম, আমসত্ত্ব এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী মন্দির মনস্কামনা, হ্যান্টা কালী মন্দিরের নাম করেন। তিনি বলেন, “জয় মা মনস্কামনা, হ্যান্টা কালী। মালদহের পবিত্র ভূমিতে আমার অন্তর থেকে প্রণাম। আপনারা কেমন আছেন? মন ভাল হয়ে গেল।’’ এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় অংশের মানুষ প্রশ্ন করেন, হ্যান্টা কালি সম্পর্কে। প্রশ্ন করেন, এ কোন দেবীর নাম করলেন প্রধানমন্ত্রী, দেবী কি প্রধানমন্ত্রীর মনগড়া? অনেকে এমনও বলেন, মোদি হয়তো অন্য কিছু বলতে গিয়ে ‘ভাষাবিভ্রাটে’ হ্যান্টা কালির নাম করেছেন। প্রকতপক্ষে দেখা গিয়েছে, মালদহের বাইরে বহু বঙ্গবাসী হিন্দুও হ্যান্টাকালি দর্শন দূরে থাক, নামটি কখনও শোনেনি বা জানেন না।
মালদহ জেলা যেমন তার প্রাচীন ইতিহাস ও গৌড়-পাণ্ডুয়ার স্মৃতিচিহ্নের জন্য পরিচিত, তেমনই এই জেলার গ্রামবাংলার বুকে ছড়িয়ে আছে বহু লোকদেবতা ও শক্তিপীঠ, যেগুলি স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ভয়, আশা আর ভক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। হ্যান্টা কালিমন্দির তেমনই এক গুরুত্বপূর্ণ ও ধর্মস্থান। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, অবস্থিত এই মন্দিরে প্রবেশ করলেই এক ধরনের নীরবতা ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি মানুষকে ঘিরে ধরে। ১৯৪৭ দলে মালদার পিডব্লিউডি মোড় এলাকায় তৈরি হয় এই হ্যান্টা কালী মন্দির। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকাবাসীর কাছে এই মন্দির অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
হ্যান্টা কালিমন্দির মূলত লোকবিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এক পীঠ। স্থানীয় মানুষের কাছে দেবী কালী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত বলে মনে করা হয়। বহু প্রজন্ম ধরে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠা ও ভক্তি নিয়ে মানত করলে দেবী ভক্তদের মনস্কামনা পূরণ করেন। রোগব্যাধি থেকে মুক্তি, পারিবারিক অশান্তির অবসান কিংবা হঠাৎ নেমে আসা বিপদ কাটানোর আশায় মানুষ এখানে আসে। শুধু মালদহ নয়, আশপাশের জেলা থেকেও ভক্তরা এই মন্দিরে দর্শনের জন্য হাজির হন। হ্যান্টা নামটির উৎপত্তি নিয়েও নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন এটি কোনও প্রাচীন স্থানের নাম, আবার কেউ মনে করেন দেবীর শক্তির সঙ্গেই এই নামের গভীর যোগ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকমুখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মন্দিরটি আকারে খুব বড় বা জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও এর গুরুত্ব ও প্রভাব অত্যন্ত গভীর। দেবীর মূর্তি সাধারণত প্রাচীন লোকশিল্পের ধাঁচে নির্মিত, যেখানে বাহ্যিক অলংকারের চেয়ে মুখাবয়বে শক্তি ও মাতৃত্বের প্রকাশ বেশি চোখে পড়ে। এখানকার পূজা-পদ্ধতিও অনেকটাই লোকাচারভিত্তিক। অমাবস্যা, কালীপুজো এবং বিশেষ তিথিতে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। ঢাকের শব্দ, ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর মানুষের প্রার্থনায় চারদিক মুখর হয়ে ওঠে। অতীতে বলি প্রথার প্রচলন ছিল বলে স্থানীয়রা জানান, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই তার রূপ বদলেছে।
বিশেষ উৎসবের দিনে হ্যান্টা কালিমন্দির যেন শুধুই একটি উপাসনালয় থাকে না, বরং তা এক সামাজিক মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ছোটখাটো মেলার মতো পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে প্রসাদের দোকান, অস্থায়ী বাজার আর মানুষের কথাবার্তায় পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই সময় মন্দির হয়ে ওঠে বিশ্বাসের পাশাপাশি গ্রামীণ সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
হ্যান্টা কালিমন্দির মালদহ জেলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু দেবী কালীর আরাধনার স্থান নয়, বরং মানুষের ভয়-ভরসা, আশা-আকাঙ্ক্ষা আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা বিশ্বাসের সাক্ষী। যারা গ্রামবাংলার ধর্মীয় ঐতিহ্য, লোকদেবতার সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে কাছ থেকে অনুভব করতে চান, তাদের কাছে হ্যান্টা কালিমন্দির নিঃসন্দেহে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন