মুর্শিদাবাদের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ, সরকার গঠনে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ দাবি হুমায়ুন কবিরের

আইএসএফ জোটে এলে তাদের জন্য দুটি এবং সিপিএমের জন্য চারটি আসন রাখা হয়েছে। হরিহরপাড়ায় জনতা উন্নয়ন পার্টির সভা থেকে জোটবার্তা হুমায়ুনের।

মুর্শিদাবাদের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ, সরকার গঠনে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ দাবি হুমায়ুন কবিরের
হরিহরপাড়া বিধানসভা ‘জনতা উন্নয়ন পার্টির’ ডাকে প্রতিবাদ সভায় দলের চেয়ারম‌্যান হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার। ফটো: সোশ্যাল মিডিয়া

ডোমকল (মুর্শিদাবাদ) : আগামী দিনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন এবং কোন দফতরের মন্ত্রীর চেয়ারে মুসলিমরা বসবেন, তা তিনিই ঠিক করবেন, এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদে আয়োজিত দলের সভা থেকে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রায় পঞ্চান্ন মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

এদিন, হুমায়ুন কবির বলেন, আসন্ন নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূলের আর একক আধিপত্য থাকবে না। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, তৃণমূল চাইলে ২৯৪টি আসনে লড়াই করুক—শুভেন্দু অধিকারী বেশি আসন পান, নাকি সরকারি টাকায় পাঁচ-ছয়টি মন্দির বানিয়ে বসে থাকা নেতারা বেশি আসন এনে দিতে পারেন, সেটাই দেখা যাবে। নিজের দলের সাংগঠনিক শক্তি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথমে ১৩৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা বেড়ে ১৮২টি হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৯০টি আসনে মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, যদি তাঁদের দল থেকে ১০০ জন বিধায়ক জেতেন, তবে সরকার গঠনের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ তাঁদের হাতেই থাকবে। জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে এই আশা করা যায় কি না—যার জবাবে সভাস্থল থেকে হাততালির মাধ্যমে সমর্থন মেলে।

তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, তৃণমূলে যাওয়াটা তাঁর জীবনের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর ইদের নামাজে অংশগ্রহণ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং মাদ্রাসা অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন। এসআইআর প্রসঙ্গে মুসলিমদের শুনানিতে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি এবং পাশাপাশি কেন্দ্রের ওয়াকফ আইন নিয়েও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করেন।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে ডাকা সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই সভা থেকেই বিরোধী জোটের রূপরেখা স্পষ্ট হবে। জোট রাজনীতি নিয়ে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় পাঁচটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আইএসএফ জোটে এলে তাদের জন্য দুটি এবং সিপিএমের জন্য চারটি আসন রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি, যদিও কে কোথায় লড়বে তা পরে ঠিক হবে।

হরিহরপাড়ার এই সভাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কি নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে—এই প্রশ্নই এখন পাড়ার মঞ্চ থেকে চায়ের দোকান পর্যন্ত ঘুরপাক খাচ্ছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন