৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মঞ্চ থেকে এসআইআর ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমর্ত্য সেন-সহ বিশিষ্টজনদের নোটিশ পাঠানো, হয়রানির অভিযোগ ও সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রসঙ্গও উঠে এল।
![]() |
| বৃহস্পতিবার বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের লেখা বই হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকে। |
কলকাতা : বৃহস্পতিবার ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মঞ্চ থেকে ফের এসআইআর নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোবেলজয়ী অর্থনীতীবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী-সহ বহু কৃতী ব্যক্তিত্বের কাছে এসআইআর নোটিশ পৌঁছনোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’র নামে সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। এই ইস্যুতে সকলকে সরব হওয়ার আর্জিও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ শব্দবন্ধকে সামনে রেখে ভোটারদের এসআইআর শুনানির নামে ডেকে এনে হেনস্থা করা হচ্ছে। বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেও সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন মমতা।
তাঁর কথায়, “লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি কোনওদিন এসআইআরে ছিল না। একমাত্র এই রাজ্যেই হচ্ছে, অন্য কোথাও হচ্ছে না। ডার্কলিস্ট, ফাইনাল লিস্ট বেরোনোর পর যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁরাই যাবেন।” পদবী সংক্রান্ত সামান্য ভুল বা তথাকথিত অসংগতির কারণে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলায় এসআইআর চলছে। ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানুষের হয়রানির কথাটাও মনে রাখতে হবে। শুনানিতে পাঁচ-ছ’ঘণ্টা করে লাইন দিতে হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে এই দীর্ঘসূত্রতা ও চাপ মানুষের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’র যুক্তি দেখিয়ে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই তালিকা প্রশাসনিক কার্যালয়ে টাঙানোর পাশাপাশি অনলাইনেও প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথমে ১.৩৬ কোটি ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি চিহ্নিত করা হয়েছিল, পরে তা সংশোধন করে সংখ্যা ৯৪ লক্ষ বলা হয়। এই সংশোধিত তালিকাই প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি শুনানিতে ভোটাররা যে নথি জমা দেবেন, তা গ্রহণ করে রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শুনানির সময় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ আসলে কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, “মা ও সন্তানের বয়সে ১৫ বছরের ফারাক কীভাবে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি হতে পারে? আমরা এমন দেশে বাস করি না, যেখানে বাল্যবিবাহ উঠে গিয়েছে।”
এই ধরনের একাধিক প্রশ্ন তুলে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, যাঁদের এই যুক্তিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের বিস্তারিত তালিকা পঞ্চায়েত অফিস ও ব্লক অফিসে টাঙাতে হবে। এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোরের মধ্যেই বইমেলার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন