জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে যৌনাঙ্গে হাত সহপাঠীর, ধর্ষণ করে এক দুষ্কৃতী! বয়ান দুর্গাপুরের নির্যাতিতার

দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন নির্যাতিতা। হাসপাতালের প্রাথমিক বয়ান নয়, পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যই তুলে ধরলেন তিনি।

জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে যৌনাঙ্গে হাত সহপাঠীর, ধর্ষণ করে এক দুষ্কৃতী! বয়ান দুর্গাপুরের নির্যাতিতার

দুর্গাপুর : দুর্গাপুর ধর্ষণ কাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া প্রাথমিক বয়ান থেকে সরে এসে পুলিশের কাছে যে বক্তব্য জানিয়েছিলেন, শুক্রবার আদালতে সেই বয়ানই তুলে ধরলেন নির্যাতিতা ছাত্রী। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী এদিন আদালতে অভিযুক্ত সহপাঠী ও অন্যদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, কীভাবে তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, শরীরের কোথায় কোথায় হাত দেওয়া হয় এবং ঘটনার পর কী ঘটে—সবই বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্টভাবে জানান নির্যাতিতা। অভিযুক্ত পাঁচজনকে শনাক্ত করার সময় তিনি আদালতকে জানান, তাদের মধ্যে একজন তাঁকে ধর্ষণ করেছে।

শুক্রবার এডিজে স্পেশাল সেশন বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে ভরা আদালতে নয়, ক্লোজ ডোরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তদের আইনজীবী শেখর কুন্ডু ও সৌমেন মিত্র, তাঁদের সহকারীরা, বিশেষ সরকারি আইনজীবী ও বিভাস চট্টোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কাউকে এজলাসে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাইরে কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যেই চলে গোটা প্রক্রিয়া।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর রাতে। দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সহপাঠী ওয়াসেফ আলির সঙ্গে রাতের খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ সহপাঠী-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্যাতিতা একরকম বয়ান দিলেও পরে পুলিশের কাছে তিনি ভিন্ন বক্তব্য জানান, যা মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারক নির্যাতিতাকে প্রশ্ন করেন তিনি অভিযুক্ত ওয়াসেফ আলিকে চেনেন কি না। উত্তরে নির্যাতিতা জানান, সেদিন তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দেওয়া হয় এবং তাঁর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা হয়। এরপর কী হয়েছিল, তাও তিনি আদালতে জানান। পাঁচ অভিযুক্তকে শনাক্ত করার সময় একজনের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করেছে। নির্যাতিতার এই বক্তব্য শোনার সময় অভিযুক্তদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায় বলেই জানা গিয়েছে। আদালত সূত্রে আরও খবর, নির্যাতিতা সাবলীলভাবেই বিচারকের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

এদিন বিশেষ সরকারি আইনজীবীর তরফে আদালতে পেশ করা হয় নির্যাতিতার পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান, গোপন জবানবন্দি, এফআইআর এবং ছ’টি মেডিক্যাল রিপোর্ট। তবে শুক্রবার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি। শনিবার ফের নির্যাতিতার সাক্ষ্য গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। এখনও অভিযুক্তদের সওয়াল শুরু হয়নি, তবে সেই প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন