বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিক খুনের অভিযোগে টানা বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ তুলতে পুলিশের লাঠিচার্জ, র্যাফ মোতায়েন, রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।
![]() |
| এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি। |
কলকাতা : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় টানা দু’দিন ধরে চলা অশান্তি শনিবার চরম আকার নেয়। জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ তুলে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার এলাকায় নামানো হয় র্যাফ। গোটা এলাকা জুড়ে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। বেলডাঙায় আপাতত অবরোধ উঠে গেলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে ফের অবরোধ শুরু করেন। এর জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটে ভাঙচুর চালান এবং স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল পোস্ট ভেঙে দেন। ফলে অবরোধ উঠে গেলেও ট্রেন পরিষেবা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তেজিত জনতার হামলার মুখে পড়েন সাংবাদিকেরা।
পরিস্থিতি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, প্রথমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কোনওভাবেই তাতে রাজি না হওয়ায় শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে এলাকায় কোনও পথঅবরোধ নেই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ঘটনাস্থলে যান জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক সময় উত্তেজিত হয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এ ভাবে সমস্যার সমাধান হবে?” পরে তিনি এলাকা ছেড়ে যান।
ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করার অভিযোগ ঘিরেই শুক্রবার বেলডাঙায় বিক্ষোভের সূত্রপাত। সেদিন সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ চলে। অভিযোগ উঠেছিল, প্রথম দিনে পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ করেনি। শনিবার দুপুরে অবশ্য বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ নামিয়ে রেললাইন থেকে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের সরানো হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেউ যেন উস্কানিতে পা না দেন এবং বিজেপিকে ‘অক্সিজেন’ না দেন। তাঁর দাবি, বিজেপির মদত ও ইন্ধনেই বেলডাঙায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। অভিষেক বলেন, বাংলায় নতুন এক গদ্দার তৈরি হয়েছে। সে আর বিজেপির বাবুদের মদত এবং ইন্ধনে বেলডাঙার ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রেক্ষিতেই সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা - কেউ যেন কোনও উস্কানিতে পা না দেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, সকলকে একজোট হয়ে এই অত্যাচারি বিজেপিকে হারাতে হবে।
অন্যদিকে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাজ্য সরকার ও তৃণমূলকে নিশানা করে অভিযোগ তোলেন যে, পুলিশ শাসকদলের ক্যাডারে পরিণত হয়েছে এবং সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্ক কষে নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, “মুর্শিদাবাদ কি ভারতের মধ্যেই আছে?”
এদিকে জনতা উন্নয়ন পার্টির মুখপাত্র শাহিদুল হক মণ্ডল সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে দাবি করেন, এই ক্ষোভের মূল কারণ তৃণমূল সরকার ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা অসন্তোষ। তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের লোকজনই এই হিংসায় জড়িত এবং মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের বক্তব্য সংযত না হলে আগামী দিনে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন