বলা হয়ে থাকে, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ধর্মগ্রন্থের চেয়েও অধিক; এটি নেতৃত্বের বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতির নৈতিক কাঠামো, সংকটময় সিদ্ধান্তগ্রহণের মনস্তত্ব, আর রাজনৈতিক ন্যায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক রূপরেখা। লিখছেন পাণ্ডব সরকার
সভ্যতার ইতিহাসে রাজনীতি বলতে বোঝায় কতগুলি বুনিয়াদি প্রশ্ন— ন্যায় কোথায়, কর্তব্য কী, ক্ষমতার বৈধতা কতদূর, শাসন কোন নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, আর সংকটের মুহূর্তে নেতৃত্ব কেমন সিদ্ধান্ত নেবে। এই সমস্ত প্রশ্নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ, সুসংহত ও দার্শনিক উত্তর যে গ্রন্থে মেলে, তা হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গীতার পরিচয় বহু পুরানো। কিন্তু এর রাজনৈতিক প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন বিশ্লেষণও সাম্প্রতিক নয়। ভারতীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শন, সামরিক কৌশলবিদ্যা, নৈতিক নেতৃত্বতত্ত্ব— সব ক্ষেত্রেই গীতার প্রাসঙ্গিকতা এত গভীর যে তাকে বিশ্বের প্রধান রাজনৈতিক গ্রন্থ বলা স্বাভাবিকই।
গীতার সূচনা যে পরিস্থিতিতে, সেটি রাজনীতির সবচেয়ে জটিল বাস্তবতার প্রতীক। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ কোনও ধর্মীয় ঘটনাপ্রবাহ নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম। অর্জুন এখানে শুধু যোদ্ধা নন, তিনি একজন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী, যাঁর সামনে প্রশ্ন, তিনি কি রাষ্ট্ররক্ষার যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হবেন, নাকি আত্মীয়তার কারণে ন্যায়ের পথ থেকে সরে যাবেন। তাঁর সঙ্কট মূলত রাজনৈতিক, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কি সর্বদা রক্তপাত ডেকে আনে? রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নেতাকে কি কখনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেই হয়? গীতায় কৃষ্ণ যে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন তা পুরোপুরি রাজনৈতিক দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত— ন্যায়বিচারের জন্য রাষ্ট্ররক্ষা করা শুধু কর্তব্য নয়, এটি ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতাও।
গীতা এখানে আধুনিক ‘Just War Theory’ বা ন্যায়যুদ্ধের তত্ত্বের প্রাচীনতম ভিত্তি স্থাপন করেছে। কৃষ্ণের স্পষ্ট ঘোষণা, ক্ষত্রিয়ের (অর্থাৎ রাষ্ট্ররক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির) প্রথম কর্তব্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা। ব্যক্তিগত আবেগ, পারিবারিক সম্পর্ক বা ভয়ের কাছে রাষ্ট্রদায়িত্ব নত হতে পারে না। এই অবস্থান আজকের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ক্ষমতার সর্বোচ্চ নৈতিক ভিত্তি হিসেবে ন্যায়কে তুলে ধরে। একই মূল্যবোধ আমরা গীতাতে দেখি বহু সহস্রাব্দ আগে।
গীতার রাজনীতির আরও গভীর স্তর আছে তার নেতৃত্বদর্শনে। কৃষ্ণ যে ‘স্থিতপ্রজ্ঞ’ নেতার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন— যিনি সুখ-দুঃখে বিচলিত হন না, লাভ-ক্ষতিতে সমভাবে স্থিত, ক্রোধ-ভয়-লোভের উপরে, সংকটে স্থির এবং সিদ্ধান্তে দৃঢ়— এই নেতৃত্ব চরিত্র আধুনিক রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে নেতৃত্বের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বহু প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ে গীতা পাঠ্য, বিশেষত হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল, MIT Sloan এবং LSE-তে গীতা নেতৃত্বচিন্তা ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জন্য ব্যবহৃত হয়। কারণ গীতা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ মনকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় প্রকৌশল হিসেবে দেখায়।
এই গ্রন্থের রাজনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার কর্ম–অকর্ম–বিকর্ম তত্ত্বে। গীতায় বলা হয়েছে, দেখতে যা কর্ম, তা অনেক সময় অকর্ম হতে পারে; আবার যা অকর্ম মনে হয়, তা বাস্তবে কর্মের গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। রাষ্ট্রনায়ককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার পরিণামের দূরদর্শী মূল্যায়ন করতে হয়— এটি আধুনিক নীতিনির্ধারণের মূল নীতি। ‘যোগঃ কর্মসু কৌশলম্’—এই গীতাসূক্তিটি প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংজ্ঞাগুলির একটি; যোগ মানে কেবল আধ্যাত্মিক অনুশীলন নয়, বরং কৌশলগত ব্যবস্থাপনা, সক্ষম কর্মসম্পাদন, বিচক্ষণ নেতৃত্ব।
কীভাবে শত্রু এবং মিত্রকে পৃথক করবে রাষ্ট্র, কীভাবে লাভ-লোকসান বিচার করবেন নেতা, ক্ষমতা কখন ন্যায়সঙ্গত এবং কখন নয়— গীতায় এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলে। সিদ্ধান্তগ্রহণের বাস্তবতা কখনও কালো-সাদা নয়; এখানে ধূসর অঞ্চল সবচেয়ে বেশি। গীতা এই ধূসর অঞ্চলের মধ্যে থেকে ন্যায়ের পথ নির্দেশ করে। সেই কারণেই রাজনৈতিক দর্শনে গীতাকে অনেকেই ‘Ethical Leadership Text’ বলেন।
বিশ্ব রাজনীতিতেও গীতার প্রভাব গভীর। মহাত্মা গান্ধী তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে গীতাকে মনস্তাত্ত্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা জেলে গীতাকে নেতৃত্বের বই হিসেবে পড়তেন। এ.পি.জে. আবদুল কালাম গীতাকে নেতৃত্ব ও নীতির সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রন্থ বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রেসিডেন্ট— কেনেডি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত—গীতা অধ্যয়ন করেছেন নেতৃত্বের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য।
গীতার রাজনীতি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র— এই তিন স্তরে বিস্তৃত। ব্যক্তিগত স্তরে এটি নেতার স্বভাব নির্মাণ করে; সামাজিক স্তরে ন্যায়, কর্তব্য ও সামাজিক শৃঙ্খলার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে; আর রাষ্ট্রীয় স্তরে ক্ষমতা, কৌশল, রণনীতি ও সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে। এই তিনটি মিলেই আধুনিক রাজনৈতিক বিজ্ঞান গঠিত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, গীতা রাজনীতিকে রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই থেকে আধ্যাত্মিক উচ্চতায় উন্নীত করেছে। ক্ষমতা এখানে স্বার্থপরতার হাতিয়ার নয়; এটি ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব। গীতা রাজনীতিকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে কর্তব্যকেন্দ্রিকতায় স্থানান্তর করেছে—এটাই তাকে আজও বিশ্বের সর্বাধিক গম্ভীর রাজনৈতিক গ্রন্থগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
অতএব, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ধর্মগ্রন্থের চেয়ে অধিকতর; এটি নেতৃত্বের বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতির নৈতিক কাঠামো, সংকটময় সিদ্ধান্তগ্রহণের মনস্তত্ব, আর রাজনৈতিক ন্যায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক রূপরেখা। বিশ্বের যত রাজনৈতিক টেক্সটের কথা বলা হয়—প্লেটোর রিপাবলিক, অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স, ম্যাকিয়াভেলির দ্য প্রিন্স—গীতা তাদের সঙ্গে সমান তাত্ত্বিক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে, এবং বহু ক্ষেত্রে তাদের চেয়েও বিস্তৃত ও গভীর।
এই কারণেই, ইতিহাসের বিচারেই, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিশ্বের প্রধান রাজনৈতিক গ্রন্থ—এ শুধু আধ্যাত্মিক অনুভূতি নয়, বাস্তব সত্য।
গীতার সূচনা যে পরিস্থিতিতে, সেটি রাজনীতির সবচেয়ে জটিল বাস্তবতার প্রতীক। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ কোনও ধর্মীয় ঘটনাপ্রবাহ নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম। অর্জুন এখানে শুধু যোদ্ধা নন, তিনি একজন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী, যাঁর সামনে প্রশ্ন, তিনি কি রাষ্ট্ররক্ষার যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হবেন, নাকি আত্মীয়তার কারণে ন্যায়ের পথ থেকে সরে যাবেন। তাঁর সঙ্কট মূলত রাজনৈতিক, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো কি সর্বদা রক্তপাত ডেকে আনে? রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নেতাকে কি কখনও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেই হয়? গীতায় কৃষ্ণ যে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন তা পুরোপুরি রাজনৈতিক দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত— ন্যায়বিচারের জন্য রাষ্ট্ররক্ষা করা শুধু কর্তব্য নয়, এটি ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতাও।
গীতা এখানে আধুনিক ‘Just War Theory’ বা ন্যায়যুদ্ধের তত্ত্বের প্রাচীনতম ভিত্তি স্থাপন করেছে। কৃষ্ণের স্পষ্ট ঘোষণা, ক্ষত্রিয়ের (অর্থাৎ রাষ্ট্ররক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির) প্রথম কর্তব্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা। ব্যক্তিগত আবেগ, পারিবারিক সম্পর্ক বা ভয়ের কাছে রাষ্ট্রদায়িত্ব নত হতে পারে না। এই অবস্থান আজকের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ক্ষমতার সর্বোচ্চ নৈতিক ভিত্তি হিসেবে ন্যায়কে তুলে ধরে। একই মূল্যবোধ আমরা গীতাতে দেখি বহু সহস্রাব্দ আগে।
গীতার রাজনীতির আরও গভীর স্তর আছে তার নেতৃত্বদর্শনে। কৃষ্ণ যে ‘স্থিতপ্রজ্ঞ’ নেতার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন— যিনি সুখ-দুঃখে বিচলিত হন না, লাভ-ক্ষতিতে সমভাবে স্থিত, ক্রোধ-ভয়-লোভের উপরে, সংকটে স্থির এবং সিদ্ধান্তে দৃঢ়— এই নেতৃত্ব চরিত্র আধুনিক রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে নেতৃত্বের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বহু প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ে গীতা পাঠ্য, বিশেষত হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল, MIT Sloan এবং LSE-তে গীতা নেতৃত্বচিন্তা ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের জন্য ব্যবহৃত হয়। কারণ গীতা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ মনকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় প্রকৌশল হিসেবে দেখায়।
এই গ্রন্থের রাজনৈতিক ও কৌশলগত মাত্রা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার কর্ম–অকর্ম–বিকর্ম তত্ত্বে। গীতায় বলা হয়েছে, দেখতে যা কর্ম, তা অনেক সময় অকর্ম হতে পারে; আবার যা অকর্ম মনে হয়, তা বাস্তবে কর্মের গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। রাষ্ট্রনায়ককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার পরিণামের দূরদর্শী মূল্যায়ন করতে হয়— এটি আধুনিক নীতিনির্ধারণের মূল নীতি। ‘যোগঃ কর্মসু কৌশলম্’—এই গীতাসূক্তিটি প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংজ্ঞাগুলির একটি; যোগ মানে কেবল আধ্যাত্মিক অনুশীলন নয়, বরং কৌশলগত ব্যবস্থাপনা, সক্ষম কর্মসম্পাদন, বিচক্ষণ নেতৃত্ব।
কীভাবে শত্রু এবং মিত্রকে পৃথক করবে রাষ্ট্র, কীভাবে লাভ-লোকসান বিচার করবেন নেতা, ক্ষমতা কখন ন্যায়সঙ্গত এবং কখন নয়— গীতায় এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলে। সিদ্ধান্তগ্রহণের বাস্তবতা কখনও কালো-সাদা নয়; এখানে ধূসর অঞ্চল সবচেয়ে বেশি। গীতা এই ধূসর অঞ্চলের মধ্যে থেকে ন্যায়ের পথ নির্দেশ করে। সেই কারণেই রাজনৈতিক দর্শনে গীতাকে অনেকেই ‘Ethical Leadership Text’ বলেন।
বিশ্ব রাজনীতিতেও গীতার প্রভাব গভীর। মহাত্মা গান্ধী তার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে গীতাকে মনস্তাত্ত্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা জেলে গীতাকে নেতৃত্বের বই হিসেবে পড়তেন। এ.পি.জে. আবদুল কালাম গীতাকে নেতৃত্ব ও নীতির সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রন্থ বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বহু প্রেসিডেন্ট— কেনেডি থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত—গীতা অধ্যয়ন করেছেন নেতৃত্বের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য।
গীতার রাজনীতি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র— এই তিন স্তরে বিস্তৃত। ব্যক্তিগত স্তরে এটি নেতার স্বভাব নির্মাণ করে; সামাজিক স্তরে ন্যায়, কর্তব্য ও সামাজিক শৃঙ্খলার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে; আর রাষ্ট্রীয় স্তরে ক্ষমতা, কৌশল, রণনীতি ও সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে। এই তিনটি মিলেই আধুনিক রাজনৈতিক বিজ্ঞান গঠিত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, গীতা রাজনীতিকে রক্তাক্ত ক্ষমতার লড়াই থেকে আধ্যাত্মিক উচ্চতায় উন্নীত করেছে। ক্ষমতা এখানে স্বার্থপরতার হাতিয়ার নয়; এটি ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব। গীতা রাজনীতিকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে কর্তব্যকেন্দ্রিকতায় স্থানান্তর করেছে—এটাই তাকে আজও বিশ্বের সর্বাধিক গম্ভীর রাজনৈতিক গ্রন্থগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।
অতএব, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ধর্মগ্রন্থের চেয়ে অধিকতর; এটি নেতৃত্বের বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতির নৈতিক কাঠামো, সংকটময় সিদ্ধান্তগ্রহণের মনস্তত্ব, আর রাজনৈতিক ন্যায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক রূপরেখা। বিশ্বের যত রাজনৈতিক টেক্সটের কথা বলা হয়—প্লেটোর রিপাবলিক, অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স, ম্যাকিয়াভেলির দ্য প্রিন্স—গীতা তাদের সঙ্গে সমান তাত্ত্বিক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে, এবং বহু ক্ষেত্রে তাদের চেয়েও বিস্তৃত ও গভীর।
এই কারণেই, ইতিহাসের বিচারেই, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিশ্বের প্রধান রাজনৈতিক গ্রন্থ—এ শুধু আধ্যাত্মিক অনুভূতি নয়, বাস্তব সত্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন