আরাবল্লি পর্বতমালার সংজ্ঞা বদলের প্রভাব শুধু উত্তর ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সিদ্ধান্তের নীতিগত দৃষ্টান্তে কি পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, পরিকাঠামো ও পরিবেশ নীতিতে প্রভাবিত হতে পারে? লিখছেন সৈকত
দেশের প্রাচীনতম পর্বতমালাগুলির একটি আরাবল্লি। সাম্প্রতিক কালে আরাবল্লি পর্বতমালার সংজ্ঞা বদলানো নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে রাজস্থান, হরিয়ানা বা দিল্লি সংলগ্ন এলাকার বিষয় বলে মনে হলেও এর প্রভাবের পরিধি অনেক বিস্তৃত। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার নীতিগত ও প্রশাসনিক অভিঘাত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিকেও স্পর্শ করতে পারে।
আরাবল্লির ক্ষেত্রে মূল বিতর্কটি হচ্ছে—কোন জমিকে ‘পর্বত’ বা ‘বনভূমি’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোন জমিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা যাবে। যদি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিবেশ সংক্রান্ত সংজ্ঞা শিথিল করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রয়োগের রাস্তা খুলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের লেটারাইট অঞ্চল কিংবা ডুয়ার্স ও তরাই এলাকার বন সংলগ্ন জমি নিয়ে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই নীতিগত পরিবর্তনের একটি বড় দিক হল শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে। পরিবেশ ছাড়পত্র পেতে সময় কমলে বা আইনি জটিলতা শিথিল হলে শিল্প করিডর, রেল-সড়ক সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে। বিশেষ করে আসানসোল–রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চল বা পশ্চিমাঞ্চলের খনিজভিত্তিক এলাকাগুলিতে এর পরোক্ষ সুফল মিলতে পারে।
একই সঙ্গে খনন ও নির্মাণ শিল্পের ক্ষেত্রেও রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আরাবল্লি সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন যদি খনিজ বা নির্মাণসামগ্রী উত্তোলনের নিয়মে নমনীয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সুবিধার পাল্লার অন্য দিকেও ওজন কম নয়। পরিবেশ সংজ্ঞা শিথিল করার নজির ধরে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল অঞ্চল বা পাহাড়ি ও অরণ্যঘেরা এলাকাগুলির ওপর চাপ বাড়তে পারে। জলস্তর হ্রাস, মাটির ক্ষয় এবং জলবায়ু ঝুঁকি পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন নয়। স্বল্পমেয়াদে উন্নয়নের সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ক্ষতির মূল্য রাজ্যকেই দিতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আরাবল্লি পর্বতমালার সংজ্ঞা বদলের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি না ছুঁলেও নীতিগতভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার কোন পথ বেছে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে—এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য সুযোগ হয়ে উঠবে, না কি সতর্কবার্তা।
দেশের প্রাচীনতম পর্বতমালাগুলির একটি আরাবল্লি। সাম্প্রতিক কালে আরাবল্লি পর্বতমালার সংজ্ঞা বদলানো নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আপাতদৃষ্টিতে রাজস্থান, হরিয়ানা বা দিল্লি সংলগ্ন এলাকার বিষয় বলে মনে হলেও এর প্রভাবের পরিধি অনেক বিস্তৃত। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার নীতিগত ও প্রশাসনিক অভিঘাত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিকেও স্পর্শ করতে পারে।
আরাবল্লির ক্ষেত্রে মূল বিতর্কটি হচ্ছে—কোন জমিকে ‘পর্বত’ বা ‘বনভূমি’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোন জমিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা যাবে। যদি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিবেশ সংক্রান্ত সংজ্ঞা শিথিল করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রয়োগের রাস্তা খুলে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামের লেটারাইট অঞ্চল কিংবা ডুয়ার্স ও তরাই এলাকার বন সংলগ্ন জমি নিয়ে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই নীতিগত পরিবর্তনের একটি বড় দিক হল শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে। পরিবেশ ছাড়পত্র পেতে সময় কমলে বা আইনি জটিলতা শিথিল হলে শিল্প করিডর, রেল-সড়ক সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে। বিশেষ করে আসানসোল–রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চল বা পশ্চিমাঞ্চলের খনিজভিত্তিক এলাকাগুলিতে এর পরোক্ষ সুফল মিলতে পারে।
একই সঙ্গে খনন ও নির্মাণ শিল্পের ক্ষেত্রেও রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আরাবল্লি সংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন যদি খনিজ বা নির্মাণসামগ্রী উত্তোলনের নিয়মে নমনীয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই সুবিধার পাল্লার অন্য দিকেও ওজন কম নয়। পরিবেশ সংজ্ঞা শিথিল করার নজির ধরে ভবিষ্যতে সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল অঞ্চল বা পাহাড়ি ও অরণ্যঘেরা এলাকাগুলির ওপর চাপ বাড়তে পারে। জলস্তর হ্রাস, মাটির ক্ষয় এবং জলবায়ু ঝুঁকি পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন নয়। স্বল্পমেয়াদে উন্নয়নের সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ক্ষতির মূল্য রাজ্যকেই দিতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আরাবল্লি পর্বতমালার সংজ্ঞা বদলের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি না ছুঁলেও নীতিগতভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকার কোন পথ বেছে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে—এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য সুযোগ হয়ে উঠবে, না কি সতর্কবার্তা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন