তবে নরেন্দ্র মোদির জর্ডন, ইথিওপিয়া ও ওমান সফরের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্যের উপর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জর্ডন, ইথিওপিয়া ও ওমান সফর একদিকে যেমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টা, তেমনই ক্রমশ লেনদেনকেন্দ্রিক হয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনটি দেশই গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত—যে মঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ করে আসছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে সেই দাবিকে বাস্তব কৌশলে রূপ দেওয়ার চেষ্টাই চোখে পড়ে।
ওমান সফরে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) নিঃসন্দেহে সফরের সবচেয়ে বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–ওমান বাণিজ্য যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, সেখানে এই চুক্তি কেবল দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথও প্রশস্ত করবে। শক্তি, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের প্রশ্নে ওমান ভারতের জন্য একটি কৌশলগত অংশীদার—বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের নিরিখে।
জর্ডনে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও সফরের কূটনৈতিক তাৎপর্য ছিল অনেক গভীর। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তবে জর্ডন সফরের মূল প্রেক্ষাপট ছিল পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, গাজা সংকট এবং তার সরাসরি প্রভাব হিসেবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। যৌথ বিবৃতিতে করিডরের উল্লেখ না থাকা এই বাস্তবতারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে, জর্ডনে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি প্রশ্নে ভারতের ঐতিহ্যগত অবস্থানের পুনরুচ্চারণ এমন এক সময়ে তাৎপর্যপূর্ণ, যখন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ইজরায়েলে গিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা চালাচ্ছেন। এই দ্বৈত কূটনীতি ভারতের ভারসাম্য রক্ষার কৌশলকে তুলে ধরলেও, তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ইথিওপিয়া সফর ছিল আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিশা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দপ্তর হওয়ার পাশাপাশি BRICS-এর নতুন সদস্য হিসেবে ইথিওপিয়ার গুরুত্ব বেড়েছে। ২০২৬ সালে BRICS-এর চেয়ারম্যানশিপ হাতে নেওয়ার আগে ভারতের পক্ষে ইথিওপিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। বাণিজ্য, জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তি সহযোগিতার পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত আফ্রিকা–ভারত সম্মেলন আয়োজনের আলোচনা ভারতের আফ্রিকা নীতিকে নতুন গতি দিতে পারে।
তবে এই পুরো সফরের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্যের উপর। গাজা সংকট নিয়ে ওমান ও জর্ডনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তা যদি ইসরায়েলের সঙ্গেও একই স্পষ্টতায় তুলে ধরা না হয়, তাহলে ভারতের নীতিগত অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে এই সামঞ্জস্য আরও জরুরি।
মোদির এই তিন-দেশ সফর তাই কেবল সৌজন্য বা কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের প্রদর্শনী নয়; এটি গ্লোবাল সাউথে ভারতের নেতৃত্ব, নীতিগত দৃঢ়তা এবং বহুমুখী স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার একটি কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রতীকী বার্তার বাইরে গিয়ে ধারাবাহিক ও স্পষ্ট কূটনৈতিক পদক্ষেপই শেষ কথা বলবে।
ওমান সফরে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) নিঃসন্দেহে সফরের সবচেয়ে বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–ওমান বাণিজ্য যেখানে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, সেখানে এই চুক্তি কেবল দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথও প্রশস্ত করবে। শক্তি, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের প্রশ্নে ওমান ভারতের জন্য একটি কৌশলগত অংশীদার—বিশেষত পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের নিরিখে।
জর্ডনে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও সফরের কূটনৈতিক তাৎপর্য ছিল অনেক গভীর। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তবে জর্ডন সফরের মূল প্রেক্ষাপট ছিল পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, গাজা সংকট এবং তার সরাসরি প্রভাব হিসেবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। যৌথ বিবৃতিতে করিডরের উল্লেখ না থাকা এই বাস্তবতারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে, জর্ডনে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি প্রশ্নে ভারতের ঐতিহ্যগত অবস্থানের পুনরুচ্চারণ এমন এক সময়ে তাৎপর্যপূর্ণ, যখন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ইজরায়েলে গিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা চালাচ্ছেন। এই দ্বৈত কূটনীতি ভারতের ভারসাম্য রক্ষার কৌশলকে তুলে ধরলেও, তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ইথিওপিয়া সফর ছিল আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিশা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দপ্তর হওয়ার পাশাপাশি BRICS-এর নতুন সদস্য হিসেবে ইথিওপিয়ার গুরুত্ব বেড়েছে। ২০২৬ সালে BRICS-এর চেয়ারম্যানশিপ হাতে নেওয়ার আগে ভারতের পক্ষে ইথিওপিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ। বাণিজ্য, জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তি সহযোগিতার পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত আফ্রিকা–ভারত সম্মেলন আয়োজনের আলোচনা ভারতের আফ্রিকা নীতিকে নতুন গতি দিতে পারে।
তবে এই পুরো সফরের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কথার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্যের উপর। গাজা সংকট নিয়ে ওমান ও জর্ডনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তা যদি ইসরায়েলের সঙ্গেও একই স্পষ্টতায় তুলে ধরা না হয়, তাহলে ভারতের নীতিগত অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিশেষত প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে এই সামঞ্জস্য আরও জরুরি।
মোদির এই তিন-দেশ সফর তাই কেবল সৌজন্য বা কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের প্রদর্শনী নয়; এটি গ্লোবাল সাউথে ভারতের নেতৃত্ব, নীতিগত দৃঢ়তা এবং বহুমুখী স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার একটি কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রতীকী বার্তার বাইরে গিয়ে ধারাবাহিক ও স্পষ্ট কূটনৈতিক পদক্ষেপই শেষ কথা বলবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন