OTT সিরিজের উত্থানে কেন টিভি সিরিয়াল ক্রমশ দর্শক হারাচ্ছে? বদলে যাওয়া দর্শক, গল্প বলার ধরণ ও প্রযুক্তির প্রভাব কেমন?
গত এক দশকে ভারতীয় বিনোদনজগতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্ক্রিন বদলের মাধ্যমে। এক সময় যে টেলিভিশন ছিল পরিবারের ‘ইনডোর এন্টারটেইনমেন্ট’-এর একমাত্র ভরসা, এখন সেই অবস্থান ক্রমশই দখল করে নিচ্ছে OTT প্ল্যাটফর্ম। মোবাইল ফোনে এক ক্লিকেই খুলে যাচ্ছে অগণিত সিরিজ, সিনেমা, ডকুফিল্ম। ফলে টিভি সিরিয়ালের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে চোখের সামনে। কেন এমন হল? কারণ খুঁজলে উঠে আসে বদলে যাওয়া দর্শক, সময় এবং গল্প বলার ধরনের সমান্তরাল এক রূপান্তরের ইতিহাস।
একসময় প্রাইম টাইমে পুরো পরিবারকে বসিয়ে রাখত টিভি সিরিয়াল। ধারাবাহিকতা, নাটকীয় মোচড়, চরিত্রের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তা হয়ে উঠত দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আজকের দর্শক সেই স্থিরতা ধরে রাখার মতো সময় পাচ্ছে না। কর্মব্যস্ত শহুরে জীবন, অনিয়মিত কাজের সময়, দ্রুত বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল—সব মিলিয়ে মানুষ এখন আর নির্দিষ্ট সময়ে টিভির পর্দায় আটকে থাকতে চায় না। তার বদলে OTT-র ‘অন ডিমান্ড’ সুবিধা, ইচ্ছে মতো বিরতি, পর পর এপিসোড দেখার সুযোগ—এসবই মিলেমিশে নতুন দর্শকস্বর্গ তৈরি করেছে।
টিভির গল্প বলার প্যাটার্নও পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ। বহু ধারাবাহিক একই ক্লিশে কাহিনি, অবাস্তব নাটক, অসীম টানাটানি ও TRP-নির্ভর প্লট টুইস্টে এতটাই জর্জরিত যে আধুনিক দর্শক সেখানে নতুনত্ব খুঁজে পাচ্ছে না। বাস্তবসম্মত চরিত্র, বহুমাত্রিক সংকট, প্রাসঙ্গিক সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—OTT সেই সমস্ত ক্ষেত্রেই সাহসী, বৈচিত্র্যময় এবং পরীক্ষামূলক। ফলে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে মধ্যবয়সীরা পর্যন্ত টিভির ঘরোয়া আবহ ছেড়ে ঝুঁকছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।
OTT প্ল্যাটফর্মের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সেন্সরহীন সৃজনশীল স্বাধীনতা। সমাজের জটিল বিষয়, সম্পর্কের সূক্ষ্ম রসায়ন, যৌনতা, সহিংসতা—সবই আরও বাস্তব, আরও খোলামেলা ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। এর ফলে এমন গল্প তৈরি হচ্ছে যা টিভির নিয়ন্ত্রিত ফরম্যাটে কখনও সম্ভব নয়। দর্শকের কাছে বিনোদন এখন শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়; চিন্তা, প্রশ্ন, আবেগ—সবকিছুর সংমিশ্রণে এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। OTT সেই অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, টেলিভিশনের বাণিজ্যিক কাঠামোও তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপননির্ভর চ্যানেলগুলো TRP-র জন্য নির্দিষ্ট ধাঁচা থেকে বেরোতে পারে না। নারী–পুরুষের চেনা চরিত্র, পরিবারকেন্দ্রিক নাটক, পুরনো নৈতিকতা—এই পুনরাবৃত্তি টিভিকে অবশেষে একঘেয়ে করে তুলেছে। যদিও এখনও গ্রামাঞ্চল ও বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে টিভির রমরমা আছে, কিন্তু শহুরে বাজার—যেখান থেকে ট্রেন্ড তৈরি হয়—সেখানকার রুচি পুরোপুরি বদলে গেছে।
OTT-এর উত্থান টিভি সিরিয়ালের যুগকে পুরোপুরি শেষ করে দিচ্ছে কি? না, বরং এটি দেখাচ্ছে যে মাধ্যম বদলাচ্ছে, গল্প বদলাচ্ছে, দর্শকের প্রত্যাশাও বদলাচ্ছে। যে শিল্প পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, তার টিকে থাকার সম্ভাবনাও বেশি। ভারতীয় টিভিকে এখন সেই কঠিন পুনরুত্থানের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে—গল্পে নতুনত্ব, ফরম্যাটে সাহসিকতা, আর দর্শকের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মধ্যেই বাঁচার পথ।
আজকের বাস্তবতা একটাই—ইনডোর এন্টারটেইনমেন্টের পুরনো সংজ্ঞা ভেঙে গেছে। টিভি আর ‘হল ঘরের কোণে দাঁড়ানো পরিবার নিয়ন্ত্রিত বিনোদন’ নয়; মোবাইল স্ক্রিনে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দই এখন বিনোদনের নিয়ন্ত্রক শক্তি। তাই OTT-এর দাপটে টিভি কোণঠাসা—এ অনিবার্য, কারণ সময়ের সঙ্গে গল্প বদলালে তবেই বিনোদন বেঁচে থাকে।
গত এক দশকে ভারতীয় বিনোদনজগতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্ক্রিন বদলের মাধ্যমে। এক সময় যে টেলিভিশন ছিল পরিবারের ‘ইনডোর এন্টারটেইনমেন্ট’-এর একমাত্র ভরসা, এখন সেই অবস্থান ক্রমশই দখল করে নিচ্ছে OTT প্ল্যাটফর্ম। মোবাইল ফোনে এক ক্লিকেই খুলে যাচ্ছে অগণিত সিরিজ, সিনেমা, ডকুফিল্ম। ফলে টিভি সিরিয়ালের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে চোখের সামনে। কেন এমন হল? কারণ খুঁজলে উঠে আসে বদলে যাওয়া দর্শক, সময় এবং গল্প বলার ধরনের সমান্তরাল এক রূপান্তরের ইতিহাস।
একসময় প্রাইম টাইমে পুরো পরিবারকে বসিয়ে রাখত টিভি সিরিয়াল। ধারাবাহিকতা, নাটকীয় মোচড়, চরিত্রের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তা হয়ে উঠত দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আজকের দর্শক সেই স্থিরতা ধরে রাখার মতো সময় পাচ্ছে না। কর্মব্যস্ত শহুরে জীবন, অনিয়মিত কাজের সময়, দ্রুত বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল—সব মিলিয়ে মানুষ এখন আর নির্দিষ্ট সময়ে টিভির পর্দায় আটকে থাকতে চায় না। তার বদলে OTT-র ‘অন ডিমান্ড’ সুবিধা, ইচ্ছে মতো বিরতি, পর পর এপিসোড দেখার সুযোগ—এসবই মিলেমিশে নতুন দর্শকস্বর্গ তৈরি করেছে।
টিভির গল্প বলার প্যাটার্নও পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ। বহু ধারাবাহিক একই ক্লিশে কাহিনি, অবাস্তব নাটক, অসীম টানাটানি ও TRP-নির্ভর প্লট টুইস্টে এতটাই জর্জরিত যে আধুনিক দর্শক সেখানে নতুনত্ব খুঁজে পাচ্ছে না। বাস্তবসম্মত চরিত্র, বহুমাত্রিক সংকট, প্রাসঙ্গিক সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—OTT সেই সমস্ত ক্ষেত্রেই সাহসী, বৈচিত্র্যময় এবং পরীক্ষামূলক। ফলে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে মধ্যবয়সীরা পর্যন্ত টিভির ঘরোয়া আবহ ছেড়ে ঝুঁকছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে।
OTT প্ল্যাটফর্মের আরেক গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সেন্সরহীন সৃজনশীল স্বাধীনতা। সমাজের জটিল বিষয়, সম্পর্কের সূক্ষ্ম রসায়ন, যৌনতা, সহিংসতা—সবই আরও বাস্তব, আরও খোলামেলা ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। এর ফলে এমন গল্প তৈরি হচ্ছে যা টিভির নিয়ন্ত্রিত ফরম্যাটে কখনও সম্ভব নয়। দর্শকের কাছে বিনোদন এখন শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়; চিন্তা, প্রশ্ন, আবেগ—সবকিছুর সংমিশ্রণে এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। OTT সেই অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, টেলিভিশনের বাণিজ্যিক কাঠামোও তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপননির্ভর চ্যানেলগুলো TRP-র জন্য নির্দিষ্ট ধাঁচা থেকে বেরোতে পারে না। নারী–পুরুষের চেনা চরিত্র, পরিবারকেন্দ্রিক নাটক, পুরনো নৈতিকতা—এই পুনরাবৃত্তি টিভিকে অবশেষে একঘেয়ে করে তুলেছে। যদিও এখনও গ্রামাঞ্চল ও বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে টিভির রমরমা আছে, কিন্তু শহুরে বাজার—যেখান থেকে ট্রেন্ড তৈরি হয়—সেখানকার রুচি পুরোপুরি বদলে গেছে।
OTT-এর উত্থান টিভি সিরিয়ালের যুগকে পুরোপুরি শেষ করে দিচ্ছে কি? না, বরং এটি দেখাচ্ছে যে মাধ্যম বদলাচ্ছে, গল্প বদলাচ্ছে, দর্শকের প্রত্যাশাও বদলাচ্ছে। যে শিল্প পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, তার টিকে থাকার সম্ভাবনাও বেশি। ভারতীয় টিভিকে এখন সেই কঠিন পুনরুত্থানের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে—গল্পে নতুনত্ব, ফরম্যাটে সাহসিকতা, আর দর্শকের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মধ্যেই বাঁচার পথ।
আজকের বাস্তবতা একটাই—ইনডোর এন্টারটেইনমেন্টের পুরনো সংজ্ঞা ভেঙে গেছে। টিভি আর ‘হল ঘরের কোণে দাঁড়ানো পরিবার নিয়ন্ত্রিত বিনোদন’ নয়; মোবাইল স্ক্রিনে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দই এখন বিনোদনের নিয়ন্ত্রক শক্তি। তাই OTT-এর দাপটে টিভি কোণঠাসা—এ অনিবার্য, কারণ সময়ের সঙ্গে গল্প বদলালে তবেই বিনোদন বেঁচে থাকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন