নীতীশকে প্রশংসায় ভরিয়ে ‘এক্স’ পোস্ট, শত্রুঘ্ন সিন্‌হাকে নিয়ে বিড়ম্বনায় তৃণমূল

বিজেপির জোট শরিক জেডিইউ-এর এই জয়কে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে শত্রুঘ্ন তাঁর পোস্টে লেখেন—বিহারবাসী যে সরকার পাওয়ার যোগ্য, তারা সেটাই পেয়েছে।

নীতীশকে প্রশংসায় ভরিয়ে ‘এক্স’ পোস্ট, শত্রুঘ্ন সিন্‌হাকে নিয়ে বিড়ম্বনায় তৃণমূল
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের পাশে শত্রুঘ্ন সিন্‌হা। ফাইল ছবি

কলকাতা: বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপর দলের সাংসদের মন্তব্যে অস্বস্তি বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে। আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্‌হার একটি ‘এক্স’ পোস্ট ঘিরে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে শোরগোল। ফল ঘোষণার দিনই তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন, যেখানে নীতীশকে একের পর এক প্রশংসাসূচক বিশেষণে ভূষিত করায় তৃণমূলের অনেকেই বিস্মিত ও অস্বস্তি বোধ করছেন। দলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বলে সূত্রের খবর। একান্ত আলোচনায় তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে ‘বিহারী বাবু’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শুক্রবার বিহারে বিপুল জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বিজেপির জোট শরিক জেডিইউ-এর এই জয়কে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে শত্রুঘ্ন তাঁর পোস্টে লেখেন—বিহারবাসী যে সরকার পাওয়ার যোগ্য, তারা সেটাই পেয়েছে। নীতীশকে তিনি ‘সবচেয়ে প্রশংসিত’, ‘ভদ্র রাজনীতিক’, ‘সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের’, ‘বিশ্বস্ত’, ‘পরীক্ষিত’ এবং ‘সফল মুখ্যমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন। পোস্টের শেষে ‘জয় বিহার, জয় হিন্দ’ লিখে সমাপ্ত করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই পোস্টে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দেশের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক—অরবিন্দ কেজরীওয়াল, শশী থারুর প্রমুখকেও ট্যাগ করেন। সঙ্গে দেন নীতীশের সঙ্গে তাঁর পুরনো কিছু ছবিও।

অভিনেতা-রাজনীতিক শত্রুঘ্নের রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই রঙিন—কখনও বিজেপি, কখনও কংগ্রেস, শেষে তৃণমূলে এসে সাংসদ। সম্প্রতি কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছিল। এমন এক ব্যক্তিত্বের রাজনৈতিক মন্তব্যে প্রশংসার ঝড় উঠলেও নীতীশকে নিয়ে তাঁর নতুন পোস্ট তৃণমূলের অন্দরে দ্বিধা ও বিরক্তির সুর বাড়িয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা শতাব্দী রায় বলেন, “উনি হয়তো বিহার এবং বিহারি পরিচয়ের গরিমা থেকে ব্যক্তিগতভাবে নিজের মতামত জানিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় এই পোস্টে নেই।” দলের অন্দরে এই মতামতই এখন উপচে পড়ছে—ব্যক্তিগত মত হলেও এমন সময়, এমন বক্তব্য একজন তৃণমূল সাংসদের করা উচিৎ হয়নি।

শত্রুঘ্নকে নিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি অবশ্য নতুন নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবারই বলেছেন—মানুষ কী খাবেন, কী পরবেন তা বলে দেওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘আমিষ-নিরামিষ’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। উত্তরাখণ্ড সরকারের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন—দেশ জুড়ে সব আমিষ খাদ্য নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। সেই মন্তব্যে দলে অস্বস্তি তৈরি হলে তাঁকে সতর্ক বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সেই বিতর্কের আঁচ ম্লান হওয়ার আগেই সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের আগে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে শত্রুঘ্ন। নীতীশ কুমারকে নিয়ে তাঁর প্রশংসার বন্যা তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান কতটা বিব্রত করছে, তা নিয়েই এখন দলে আলোচনা বাড়ছে। এবার দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন