জম্মু ও কাশ্মীরের নওগাঁও থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৯, পুলিশ জানাল সন্ত্রাসের যোগ নেই

শ্রীনগর পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন—“পরীক্ষা চলাকালীন এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সন্ত্রাসের কোনও যোগ নেই।”

জম্মু ও কাশ্মীরের নওগাঁও থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৯, পুলিশ জানাল সন্ত্রাসের যোগ নেই
এআই সৃষ্ট প্রতিকী ছবি।

শ্রীনগর : জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের নওগাঁও পুলিশ থানায় শুক্রবার রাতে ঘটে গেল ভয়াবহ বিস্ফোরণ। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই দাউদাউ করে আগুনের গোলা ছিটকে বেরোতে দেখা যায় থানা ভবনের দিক থেকে। চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এখনও পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত নয়জন, আহত হয়েছেন ২৭ থেকে ৩২ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণটি কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা নয়। থানা ভবনে আগে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সুরক্ষিতভাবে রাখা ছিল। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সেই বিস্ফোরক পরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চলছিল। সেই সময়েই আচমকা ঘটে যায় প্রবল বিস্ফোরণ। শ্রীনগর পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন—“পরীক্ষা চলাকালীন এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সন্ত্রাসের কোনও যোগ নেই।”

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির তিনজন বিশেষজ্ঞ, রাজস্ব দপ্তরের দুই কর্মী, দুই পুলিশ ফটোগ্রাফার এবং একজন সাধারণ নাগরিক, যিনি তদন্ত-দলে সহায়ক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। থানা চত্বরের ভেতরে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ভবনের একটি অংশ প্রায় ভেঙে পড়ে, আগুন ধরে যায় কয়েকটি সরকারি গাড়িতেও। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। দমকল ও উদ্ধার-দল দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দলের নিরাপত্তা প্রটোকল ঠিকমতো মানা হয়েছিল কি না, কিংবা উদ্ধার করা বিস্ফোরকের সংরক্ষণে কোনও ত্রুটি ছিল কি না—সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার প্রমাণ একেবারেই পাওয়া যায়নি।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকার জানিয়েছে নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহত প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। উপত্যকার নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনার পর থানা চত্বর ঘিরে ফেলে এবং বিস্ফোরণের উৎসবিন্দুতে ফরেনসিক সংগ্রহ ও প্রমাণ সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।

নওগাঁও থানা বিস্ফোরণ আবারও প্রশ্ন তুলে দিল বিপজ্জনক বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ ও নিষ্ক্রিয়করণের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর। নিছক একটি পরীক্ষা কীভাবে প্রাণ কেড়ে নিল এত মানুষের, কেন এমন ত্রুটি থেকে গেল—তার উত্তর দেবে তদন্ত। তবে আপাতত শোকের ছায়ায় ঢেকে রয়েছে উপত্যকা, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তার প্রস্তুতি।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন