বিহার ভোটের প্রভাব বাংলায় পড়বে না, বলছে তৃণমূল

‘‘এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা,’’ মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের।

বিহার ভোটের প্রভাব বাংলায় পড়বে না, বলছে তৃণমূল
কুণাল ঘোষ। ফাইল ছবি।

কলকাতা : বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা– তার প্রভাব কি ২০২৬-এ বাংলার ভোটে পড়তে পারে? এই প্রশ্নেরই জবাবে পরিষ্কার মত জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিহারের ফলাফল নিয়ে বাংলায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণ একেবারেই আলাদা। বাংলায় নির্বাচনের মুড নির্ধারণ করে উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার ও আত্মসম্মানের প্রশ্ন, আর সেই ক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মানুষের নিরঙ্কুশ আস্থা অর্জন করেছেন। কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে ২৫০-র বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

কুণাল আরও বলেন, বিহারের ফল আবারও প্রমাণ করল কংগ্রেস বিজেপিবিরোধিতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বারবারই সেই অক্ষমতা প্রকট হয়ে ধরা দিচ্ছে। একইসঙ্গে বিহারের বিজেপি–নীতীশ কুমার সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা দেখার আগ্রহ থাকলেও, তার সঙ্গে বাংলার রাজনীতির কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে দাবি তৃণমূল নেতার।

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় SIR-সহ একাধিক ইস্যুতে বিজেপি এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত বাড়বে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হবে। কিন্তু তৃণমূল মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ বজায় রেখে বিজেপির প্রতিটি ফন্দি ব্যর্থ করবে— এই আত্মবিশ্বাসই জানালেন কুণাল ঘোষ।

বিহারের ফল দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিচ্ছেন বিজেপির কিছু নেতা— এমন অভিযোগ তুলেও তিনি বলেন, অন্য রাজ্যের উদাহরণ দেখিয়ে বাংলার মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। বাংলার মানুষের আত্মসম্মান, অধিকার ও নিজস্ব রাজনৈতিক বোধ রয়েছে। ‘‘এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা,’’ মন্তব্য কুণালের। তাঁর দাবি, বিহারসহ একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করছে। তাই বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলের পাশে ছিলেন, আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন