সিট-বাই-সিট লড়াইয়ে দেখা গেল, পিকের দল বেশ কয়েকটি জায়গায় সম্মানজনক ভোট পেলেও কোথাও জয়ের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি।
পাটনা : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটেছে জন সুরজ পার্টির (জেএসপি)। আর সেই বিপর্যয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই হারে কী হারালেন দলের মুখ প্রশান্ত কিশোর (পিকে), আর কী হারাল বিহারের সাধারণ মানুষ? কয়েক বছর ধরে ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি হাঁটা, ঘরে ঘরে গিয়ে উন্নয়নের নতুন মডেল বোঝানো, যুবসমাজকে রাজনৈতিক বিকল্পের স্বপ্ন দেখানো—সবই মিলিয়ে প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ’ যাত্রা ঘিরে এক অন্যরকম প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়ল ভোটের ফলাফলে। একটিও আসন জিততে পারল না জেএসপি, যা শুধু দলের জন্য নয়, পিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও একটি বিরাট ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল।
সিট-বাই-সিট লড়াইয়ে দেখা গেল, পিকের দল বেশ কয়েকটি জায়গায় সম্মানজনক ভোট পেলেও কোথাও জয়ের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি। বহু এলাকায় তাদের প্রার্থীরা তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে থেমে গেলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে সুনাম থাকা প্রশান্ত কিশোরের নিজের পরিকল্পনাই যেন এবারে বাস্তব রাজনীতির কঠোর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হল। ভোটের পর জেএসপি নেতৃত্ব জানায়, বিহারের মানুষ তাদের বার্তা ‘পুরোপুরি বুঝতে পারেনি’। সেই ব্যাখ্যা যতটা আত্মসমালোচনা, তার থেকেও বেশি উঠে আসে দলীয় সীমাবদ্ধতা, সংগঠনের ঘাটতি এবং ভোটযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবের ইঙ্গিত।
পিকে হারালেন নিজের গড়ে তোলা রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির স্বপ্নের প্রথম বড় পরীক্ষার সুযোগটি। বিহারবাসীর সামনে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি, পরিবারবাদের বাইরে নতুন এক পরিষ্কার, অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির। তিনি বলেছিলেন, বিহার বদলাতে চাইলে আগে রাজনীতিকে বদলাতে হবে। কিন্তু নির্বাচনী ফল বলছে, অন্তত এখনই সেই বদলের প্রতি জনসমর্থন তৈরি হয়নি। পিকের ব্যক্তিগত বৈভব, প্রতিভা, এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রাপ্ত সম্মান—সব মিলিয়েও মাঠের ভোটারদের মন টানতে পারেনি জেএসপি।
কিন্তু শুধু পিকে নয়, এই ফলাফলে হতাশ বিহারের এক বড় অংশের মানুষও। তাঁরা ভেবেছিলেন পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো নতুন শক্তি হয়তো উঠে আসবে। বছরের পর বছর উন্নয়ন-ঘাটতি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুরবস্থা—এসবের সমাধান দাবি করে বহু ভোটার নতুন পথ খুঁজছিলেন। প্রশান্ত কিশোর সেই পথ দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জন সুরজ প্রথম পরীক্ষায় দাঁড়িয়ে টিকে থাকতে না পারায়, যারা বিকল্প রাজনীতির খোঁজে ছিলেন তারা ফিরলেন হতাশ মনেই।
বিহারের মানুষ হারালেন একটি সম্ভাবনা—একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা, যা ধীরে হলেও ভবিষ্যতে মূলধারার দলগুলিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারত। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যে রয়েছে তা ভোটের মাঠে বোঝা গেলেও, তা সংগঠিত করার শক্তি জেএসপি এখনও তৈরি করতে পারেনি। এখনও এটি প্রমাণ হল, বিহারের রাজনীতিতে ভরসার জায়গা বদলানো এত সহজ নয়; বহু দশকের সামাজিক প্রভাব, জাতপাতের সমীকরণ, পুরনো রাজনৈতিক ঐতিহ্য–সব মিলিয়ে নতুন দলকে জায়গা করে নেওয়ার জন্য দরকার আরও দীর্ঘ লড়াই।
এই লড়াইয়ে প্রথম পর্বে হেরে গেলেও, পিকে ও তাঁর দল আদৌ লড়াই জারি রাখবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে আপাতত স্পষ্ট—এই নির্বাচনী বিপর্যয়ে পিকে হারালেন তাঁর রাজনৈতিক পরীক্ষার প্রথম অধ্যায়, আর বিহারবাসী হারালেন এক সম্ভাব্য নতুন বিকল্পের জন্মের সুযোগ।
![]() |
| প্রশান্ত কিশোর। ফাইল ছবি। |
পাটনা : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটেছে জন সুরজ পার্টির (জেএসপি)। আর সেই বিপর্যয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই হারে কী হারালেন দলের মুখ প্রশান্ত কিশোর (পিকে), আর কী হারাল বিহারের সাধারণ মানুষ? কয়েক বছর ধরে ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি হাঁটা, ঘরে ঘরে গিয়ে উন্নয়নের নতুন মডেল বোঝানো, যুবসমাজকে রাজনৈতিক বিকল্পের স্বপ্ন দেখানো—সবই মিলিয়ে প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সুরাজ’ যাত্রা ঘিরে এক অন্যরকম প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়ল ভোটের ফলাফলে। একটিও আসন জিততে পারল না জেএসপি, যা শুধু দলের জন্য নয়, পিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রেও একটি বিরাট ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল।
সিট-বাই-সিট লড়াইয়ে দেখা গেল, পিকের দল বেশ কয়েকটি জায়গায় সম্মানজনক ভোট পেলেও কোথাও জয়ের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি। বহু এলাকায় তাদের প্রার্থীরা তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে থেমে গেলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে সুনাম থাকা প্রশান্ত কিশোরের নিজের পরিকল্পনাই যেন এবারে বাস্তব রাজনীতির কঠোর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হল। ভোটের পর জেএসপি নেতৃত্ব জানায়, বিহারের মানুষ তাদের বার্তা ‘পুরোপুরি বুঝতে পারেনি’। সেই ব্যাখ্যা যতটা আত্মসমালোচনা, তার থেকেও বেশি উঠে আসে দলীয় সীমাবদ্ধতা, সংগঠনের ঘাটতি এবং ভোটযুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবের ইঙ্গিত।
পিকে হারালেন নিজের গড়ে তোলা রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির স্বপ্নের প্রথম বড় পরীক্ষার সুযোগটি। বিহারবাসীর সামনে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি, পরিবারবাদের বাইরে নতুন এক পরিষ্কার, অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির। তিনি বলেছিলেন, বিহার বদলাতে চাইলে আগে রাজনীতিকে বদলাতে হবে। কিন্তু নির্বাচনী ফল বলছে, অন্তত এখনই সেই বদলের প্রতি জনসমর্থন তৈরি হয়নি। পিকের ব্যক্তিগত বৈভব, প্রতিভা, এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রাপ্ত সম্মান—সব মিলিয়েও মাঠের ভোটারদের মন টানতে পারেনি জেএসপি।
কিন্তু শুধু পিকে নয়, এই ফলাফলে হতাশ বিহারের এক বড় অংশের মানুষও। তাঁরা ভেবেছিলেন পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো নতুন শক্তি হয়তো উঠে আসবে। বছরের পর বছর উন্নয়ন-ঘাটতি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুরবস্থা—এসবের সমাধান দাবি করে বহু ভোটার নতুন পথ খুঁজছিলেন। প্রশান্ত কিশোর সেই পথ দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জন সুরজ প্রথম পরীক্ষায় দাঁড়িয়ে টিকে থাকতে না পারায়, যারা বিকল্প রাজনীতির খোঁজে ছিলেন তারা ফিরলেন হতাশ মনেই।
বিহারের মানুষ হারালেন একটি সম্ভাবনা—একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা, যা ধীরে হলেও ভবিষ্যতে মূলধারার দলগুলিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারত। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যে রয়েছে তা ভোটের মাঠে বোঝা গেলেও, তা সংগঠিত করার শক্তি জেএসপি এখনও তৈরি করতে পারেনি। এখনও এটি প্রমাণ হল, বিহারের রাজনীতিতে ভরসার জায়গা বদলানো এত সহজ নয়; বহু দশকের সামাজিক প্রভাব, জাতপাতের সমীকরণ, পুরনো রাজনৈতিক ঐতিহ্য–সব মিলিয়ে নতুন দলকে জায়গা করে নেওয়ার জন্য দরকার আরও দীর্ঘ লড়াই।
এই লড়াইয়ে প্রথম পর্বে হেরে গেলেও, পিকে ও তাঁর দল আদৌ লড়াই জারি রাখবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে আপাতত স্পষ্ট—এই নির্বাচনী বিপর্যয়ে পিকে হারালেন তাঁর রাজনৈতিক পরীক্ষার প্রথম অধ্যায়, আর বিহারবাসী হারালেন এক সম্ভাব্য নতুন বিকল্পের জন্মের সুযোগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন