বিহারের ফলাফল স্পষ্ট হতেই দলের অন্দরে বহু নেতা মন্তব্য করেন—এবার বাংলার পালা।
নয়াদিল্লি : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ঐতিহাসিক জয়ের পরেই রাজধানী দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের বিজেপি সদর দপ্তর যেন উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। দুপুর থেকেই লাড্ডু, লিট্টি-চোখা, ছাতুর শরবত, মাখানার পায়েস—সব মিলিয়ে ছিল বিজয়ের আভাস। সেই আবহেই সন্ধ্যায় বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য—পশ্চিমবঙ্গ। বিহারের জয়কে বাংলার রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করে তিনি ঘোষণা করলেন, “গঙ্গাজি বিহার থেকে বাংলায় বয়ে গিয়েছে। বিহার বাংলা বিজয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। বাংলার ভাইবোনদের আশ্বস্ত করছি—বাংলা থেকেও জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলবে বিজেপি।”
বিজেপি শিবিরে এতদিন ধরে যে প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছিল, সেদিনই তার বাস্তব রূপ দেখা গেল। বিহারের ফলাফল স্পষ্ট হতেই দলের অন্দরে বহু নেতা মন্তব্য করেন—এবার বাংলার পালা। মোদির ভাষণে প্রকাশ পায় সেই আত্মবিশ্বাসই। তাঁর দাবি, বিহারের এই সাফল্য তামিলনাডু, অসম, পুদুচেরি এবং বাংলাতেও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চার করবে।
স্বাভাবিকভাবেই মোদির মন্তব্যের তাত্পর্য এড়ায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। দ্রুতই পাল্টা সুরে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের তোপ ধেয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর দিকে। তিনি বলেন, “স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু দুঃস্বপ্ন নয়। এত উত্তেজনা ভালো নয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলার মানুষই দেখিয়ে দেবে কিভাবে এই অপমানের জবাব দিতে হয়।” তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের সঙ্গে অগণতান্ত্রিক আচরণ করছেন—“একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে প্রাপ্য পাওনা না দেওয়া—সবটা মিলিয়ে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও প্রধানমন্ত্রীর ‘জঙ্গলরাজ' মন্তব্যকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, “বাংলায় জঙ্গলরাজ ছিল বাম আমলে। এখন নয়। মোদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলছেন। সরকারি পরিসংখ্যানই বলে বাংলা দেশের মধ্যে নিরাপদতম। কাশ্মীর, দিল্লিতে বিস্ফোরণের মধ্যেও বাংলা শান্ত। একের পর এক পরিষেবা, সরকারি প্রকল্প জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে।” কুণালের দাবি, জঙ্গলরাজ চলছে বরং বিজেপি-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেই—“উন্নাও, হাথরস, প্রয়াগরাজ… ধর্ষিতা বিলকিসের পরিবারের হত্যাকারীদের যে ভাবে জেল থেকে বার করে মালা পরানো হয়—সেটাই জঙ্গলরাজ।” তাঁর কথায়, “বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে। বাংলাভাষীকে অপমান করা হচ্ছে। এর জবাব ২০২৬-এ বাংলার মানুষ আরও গণতান্ত্রিকভাবে দেবে।”
এই রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতা থেকে কংগ্রেসকেও বাদ রাখেননি। কংগ্রেসের নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে তিনি দলটিকে আখ্যা দিলেন ‘মুসলিমলিগি মাওবাদী কংগ্রেস (এমএমসি)’! তিনি মনে করিয়ে দিলেন, লোকসভা নির্বাচনের পর দেশের ছয় রাজ্যের ভোটেও কংগ্রেস শতাধিক আসন জিততে পারেনি, অথচ বিহারেই বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি আসন। সামাজিক মাধ্যমে এর আগেই রাহুল গান্ধীর ভোটে হারের রেকর্ড তুলে ধরে সার্কাজম ছড়িয়েছিল বিজেপির আইটি সেলও।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এদিন এসআইআর–এর প্রসঙ্গও উঠে আসে। একই সময়ে, বিহারে এনডিএ ২০০ পার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেখেন, বিহারের ভোট ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের নীতির প্রতি আস্থা’। অনুপ্রবেশে মদতদাতাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে বিহারের মানুষ, এমনই তাঁর দাবি।
বিহারের ফলাফল ঘোষণার পরে বিজেপি সদর দপ্তরে উত্তেজনার ঢেউ প্রবল ছিল। উৎসবের আবহে মাখানার পায়েস খাওয়ার কথা নিজেই ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নীতিশ কুমারের নেতৃত্বকেও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিহারে সু-শাসনের জয় হয়েছে, উন্নয়নের জয় হয়েছে, সামাজিক ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে।”
কিন্তু বিহারের এই রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলা। প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা করছেন—“বিজেপি বাংলায়ও জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলবে”—তখন তৃণমূলও স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, “এটা বাংলার অপমান। এর জবাব দেবে বাংলার মানুষই।”
২০২৬-এর ভোটের আগে তাই বিহারের জল যে বাংলায়ও গড়াতে চলেছে—সেই রাজনৈতিক বার্তাই যেন দিনভর প্রতিধ্বনিত হল দুই পক্ষের বিবৃতিতে।
![]() |
| প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে। |
নয়াদিল্লি : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ঐতিহাসিক জয়ের পরেই রাজধানী দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের বিজেপি সদর দপ্তর যেন উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়েছিল। দুপুর থেকেই লাড্ডু, লিট্টি-চোখা, ছাতুর শরবত, মাখানার পায়েস—সব মিলিয়ে ছিল বিজয়ের আভাস। সেই আবহেই সন্ধ্যায় বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিজেপির পরবর্তী লক্ষ্য—পশ্চিমবঙ্গ। বিহারের জয়কে বাংলার রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করে তিনি ঘোষণা করলেন, “গঙ্গাজি বিহার থেকে বাংলায় বয়ে গিয়েছে। বিহার বাংলা বিজয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। বাংলার ভাইবোনদের আশ্বস্ত করছি—বাংলা থেকেও জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলবে বিজেপি।”
বিজেপি শিবিরে এতদিন ধরে যে প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছিল, সেদিনই তার বাস্তব রূপ দেখা গেল। বিহারের ফলাফল স্পষ্ট হতেই দলের অন্দরে বহু নেতা মন্তব্য করেন—এবার বাংলার পালা। মোদির ভাষণে প্রকাশ পায় সেই আত্মবিশ্বাসই। তাঁর দাবি, বিহারের এই সাফল্য তামিলনাডু, অসম, পুদুচেরি এবং বাংলাতেও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চার করবে।
স্বাভাবিকভাবেই মোদির মন্তব্যের তাত্পর্য এড়ায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। দ্রুতই পাল্টা সুরে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের তোপ ধেয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর দিকে। তিনি বলেন, “স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু দুঃস্বপ্ন নয়। এত উত্তেজনা ভালো নয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলার মানুষই দেখিয়ে দেবে কিভাবে এই অপমানের জবাব দিতে হয়।” তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের সঙ্গে অগণতান্ত্রিক আচরণ করছেন—“একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা থেকে শুরু করে প্রাপ্য পাওনা না দেওয়া—সবটা মিলিয়ে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও প্রধানমন্ত্রীর ‘জঙ্গলরাজ' মন্তব্যকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, “বাংলায় জঙ্গলরাজ ছিল বাম আমলে। এখন নয়। মোদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলছেন। সরকারি পরিসংখ্যানই বলে বাংলা দেশের মধ্যে নিরাপদতম। কাশ্মীর, দিল্লিতে বিস্ফোরণের মধ্যেও বাংলা শান্ত। একের পর এক পরিষেবা, সরকারি প্রকল্প জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে।” কুণালের দাবি, জঙ্গলরাজ চলছে বরং বিজেপি-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেই—“উন্নাও, হাথরস, প্রয়াগরাজ… ধর্ষিতা বিলকিসের পরিবারের হত্যাকারীদের যে ভাবে জেল থেকে বার করে মালা পরানো হয়—সেটাই জঙ্গলরাজ।” তাঁর কথায়, “বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে। বাংলাভাষীকে অপমান করা হচ্ছে। এর জবাব ২০২৬-এ বাংলার মানুষ আরও গণতান্ত্রিকভাবে দেবে।”
এই রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতা থেকে কংগ্রেসকেও বাদ রাখেননি। কংগ্রেসের নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে তিনি দলটিকে আখ্যা দিলেন ‘মুসলিমলিগি মাওবাদী কংগ্রেস (এমএমসি)’! তিনি মনে করিয়ে দিলেন, লোকসভা নির্বাচনের পর দেশের ছয় রাজ্যের ভোটেও কংগ্রেস শতাধিক আসন জিততে পারেনি, অথচ বিহারেই বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি আসন। সামাজিক মাধ্যমে এর আগেই রাহুল গান্ধীর ভোটে হারের রেকর্ড তুলে ধরে সার্কাজম ছড়িয়েছিল বিজেপির আইটি সেলও।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এদিন এসআইআর–এর প্রসঙ্গও উঠে আসে। একই সময়ে, বিহারে এনডিএ ২০০ পার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেখেন, বিহারের ভোট ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে মোদি সরকারের নীতির প্রতি আস্থা’। অনুপ্রবেশে মদতদাতাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে বিহারের মানুষ, এমনই তাঁর দাবি।
বিহারের ফলাফল ঘোষণার পরে বিজেপি সদর দপ্তরে উত্তেজনার ঢেউ প্রবল ছিল। উৎসবের আবহে মাখানার পায়েস খাওয়ার কথা নিজেই ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে নীতিশ কুমারের নেতৃত্বকেও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিহারে সু-শাসনের জয় হয়েছে, উন্নয়নের জয় হয়েছে, সামাজিক ন্যায়বিচারের জয় হয়েছে।”
কিন্তু বিহারের এই রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাংলা। প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা করছেন—“বিজেপি বাংলায়ও জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলবে”—তখন তৃণমূলও স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, “এটা বাংলার অপমান। এর জবাব দেবে বাংলার মানুষই।”
২০২৬-এর ভোটের আগে তাই বিহারের জল যে বাংলায়ও গড়াতে চলেছে—সেই রাজনৈতিক বার্তাই যেন দিনভর প্রতিধ্বনিত হল দুই পক্ষের বিবৃতিতে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন