মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রীর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলা।
অনুষ্ঠানের বক্তব্যে পারমার দাবি করেছিলেন, ব্রিটিশরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কয়েকজন ভারতীয়কে ‘মিথ্যে সমাজ সংস্কারক’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল এবং তাঁদের অন্যতম ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ইংরেজি শিক্ষার আড়ালে ধর্মান্তরণের চক্র চালু করেছিলেন ব্রিটিশ সরকার, আর সেই চক্র ভাঙার সাহস দেখিয়েছিলেন আদিবাসীদের নেতা বিরসা মুন্ডা। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে মিশনারি স্কু লগুলিই শিক্ষার প্রধান উৎস ছিল এবং স্কুলগুলি ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যেই কাজ করত।
মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রীর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, বাংলার নবজাগরণ ও আধুনিক ভারতীয় সমাজচিন্তার অন্যতম জনককে ‘দালাল’ বলা ইতিহাসের প্রতি চরম অসম্মান। তাঁর কথায়, “রামমোহন সতীদাহ প্রথা রদ করেছিলেন। তাহলে কি বিজেপি সেই প্রথাকে সমর্থন করে? বাংলার মনীষীদের অপমান করা বিজেপির পুরনো অভ্যাস।” তৃণমূলের অফিসিয়াল এক্স পোস্টে বলা হয়, “এটাই প্রথম নয়। বিজেপি বারবার বাংলার মনীষীদের অপমান করেছে—বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা থেকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য—সবই তার প্রমাণ।”
তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, “আমার রাম রামমোহন, আমার ঈশ্বর বিদ্যাসাগর, আমার ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ—তুই তাঁদের অপমান করিস, তুই বিজেপি।” পরে তিনি বলেন, “যারা আসলে ব্রিটিশদের তালে নেচেছে, তারাই আজ রামমোহন রায়কে দালাল বলছে। বাংলার ইতিহাস সম্পর্কে ওদের ন্যূনতম ধারণা নেই।”
কংগ্রেসও এই মন্তব্যকে “লজ্জাজনক” বলে নিন্দা জানায়। দলীয় মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত প্রশ্ন করেন, “সতীদাহ প্রথা রদ করা কি তবে ব্রিটিশ দালালি? ইতিহাসের এত বড় বিকৃতি কী করে সম্ভব?” তিনি দাবি করেন, মন্ত্রীর মন্তব্য তাঁর ইতিহাস জ্ঞানের অভাবই তুলে ধরে।
চাপ বাড়তেই মন্ত্রীর মন্তব্য থেকে দূরত্ব তৈরি করে মধ্যপ্রদেশ বিজেপি। দলের মুখপাত্র শিবম শুক্লা বলেন, “এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত। বিজেপি দেশের জন্য অবদান রাখা সকল মহান নেতাকে সম্মান করে।” এর কিছুক্ষণ পরেই ভিডিয়োবার্তায় নিজের ভুল স্বীকার করেন ইন্দর সিং পারমার। তিনি বলেন, “বিরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভুল করে রাজা রামমোহন রায় সম্পর্কে ভুল মন্তব্য করেছি। আমি দুঃখিত।”
উল্লেখ্য, উনিশ শতকে সতীদাহ প্রথা রদ, নারীশিক্ষার বিস্তার, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও যুক্তিবাদের পথে ভারতীয় সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তাঁকে নিয়ে এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ক্ষমা চাইলেও বিশেষজ্ঞমহল বলছে, এই মন্তব্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, তা সহজে স্তিমিত হওয়ার নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন