বিজেপির ‘এসআইআর’ দরকার, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বর কার— প্রশ্ন কুণালের

তৃণমূল নেতার দাবি, বিজেপির ভেতরেই এখন বিভাজনের বাতাস বইছে।

বিজেপির ভিতরেই ‘এসআইআর’ দরকার, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বর কার— প্রশ্ন কুণালের
সংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ফাইল ছবি।
কলকাতা : তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ফের বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের দিকে আঙুল তুললেন। সংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে কুণালের কটাক্ষ, এটা তো নিশ্চয়ই ভাবার যে ওঁর মুখে উচ্চারিত, কিন্তু, আসল স্বরটি কার। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অভিজিতের বক্তব্যে কি মেদিনীপুর যোগ থাকতে পারে? জবাবে কুণাল বলেন, "... সেটা তো বলতে পারব না! কিন্তু অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে দিয়ে ওইসব কথা বলালো কে? ফিসফাস করলেই শোনা যাচ্ছে— কারা যেন এগিয়ে দিচ্ছ- আপনি বলুন, আমরা পিছনে আছি। বিজেপি নেতারা আগে বলুন সেটা। বিজেপির মধ্যেই বিজেপির কথা কে বলাচ্ছে? তাঁর বেদনা তো তাঁর একার নয়। তাঁর সুর, স্বরটি কার? কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এ সব।” তৃণমূল নেতার দাবি, বিজেপির ভেতরেই এখন বিভাজনের বাতাস বইছে, “ওরা সমীক্ষা করুক— অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কারা আছে, কারা দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিজেপির মধ্যেই এখন এসআইআর প্রয়োজন।”

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাকশন দেখে আমার মনে হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতির বদল চায় তারা।” এক সাক্ষাৎকারে তাঁর মন্তব্য, “কেন্দ্র যদি চায় না, তাহলে রাজ্যের অবস্থার পরিবর্তন হবে না।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রশাসনহীন রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারি করা হবে না? এটা আমার কাছে বড় প্রশ্ন।”

নিজ দলের দিকেও আঙুল তোলেন এই প্রাক্তন বিচারপতি। বলেন, “আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানোর লড়াইয়ে যোগ দিতে। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে আমরা সরে গিয়েছি। এর দায় মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের, কারণ তারা কিছুই করেনি।”

শুধু তাই নয়, বাংলার ভোটে হিন্দি বলয়ের নেতাদের এনে প্রচার করানোর কৌশল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। অভিজিতের এই অবস্থান নিয়ে তৃণমূলের ইঙ্গিত স্পষ্ট— বিজেপির মধ্যেই নাকি চলছে অন্তর্ঘাত।

যদিও কুণাল ঘোষ কারও নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর ইঙ্গিত পরিষ্কারভাবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই। কারণ, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদান এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পেছনে শুভেন্দুর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তমলুক থেকে লোকসভা প্রার্থীও হয়েছিলেন— যা অধিকারী পরিবারের গড় হিসেবে পরিচিত। এই প্রেক্ষিতে কুণালের মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে— অভিজিতের স্বর আসলে কার? বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এখন প্রকাশ্যে এসে পড়ছে?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন