দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-জনিত জটিলতায় ভুগছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সতীশ শাহ।
মুম্বই: ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জগৎ আজ শোকস্তব্ধ। চলে গেলেন এমন এক শিল্পী, যাঁর উপস্থিতিতেই দর্শকদের মুখে ফুটত অমলিন হাসি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করে, কখনও রসিকতার মোড়কে সমাজের গভীর সত্যি উন্মোচন করে, আবার কখনও নিছক হাসির মধ্যেই মানবিকতার আলো ছড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। সেই চেনা মুখ, প্রিয় মানুষ—অভিনেতা সতীশ শাহ আর নেই। শনিবার বিকেল আড়াইটে নাগাদ মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-জনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে পরাজিত হন তিনি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁর দেহ আপাতত হাসপাতালেই রাখা রয়েছে, রবিবার সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
চার দশকের অভিনয় জীবনে সতীশ শাহ ছিলেন ভারতীয় বিনোদন জগতের এক অনন্য উপস্থিতি। ১৯৮৩ সালের কালজয়ী ছবি ‘জানে ভি দো ইয়ারো’-তে একাধিক চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও মনে রেখেছে দর্শক। নিখুঁত কৌতুকবোধ, সংলাপ বলার অনন্য ছন্দ, আর টাইমিং—এই ত্রয়ীর ওপর ভর করেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন রসবোধের এক জীবন্ত প্রতীক। ‘হম সাথ সাথ হ্যায়’, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কল হো না হো’, ‘ওম শান্তি ওম’—একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর চরিত্র কখনও দর্শকদের হেসে গড়িয়ে দিয়েছে, কখনও ছুঁয়ে গেছে মন।
ছোটপর্দাতেও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’-এর ইন্দ্রবদন সারাভাই চরিত্রে তিনি এমন এক মজাদার মধ্যবিত্ত বাবার প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছিলেন, যা ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে আজও অমর। তার আগেই ‘ইয়ে জো হ্যায় জিন্দেগি’-তে তাঁর কৌতুকনির্ভর অভিনয় কোটি দর্শকের প্রিয় হয়ে উঠেছিল।
১৯৫১ সালে জন্ম নেওয়া সতীশ শাহ ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় দর্শকের পরিবারেরই এক সদস্য। তাঁর মুখভঙ্গি, সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর নিঃশব্দ হাসির মুহূর্তগুলো এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছিল মানুষের মনে, যেন প্রতিটি ঘরে এক ‘সতীশ শাহ’ বসবাস করছে।
তাঁর মৃত্যু শুধু এক অভিনেতার প্রয়াণ নয়—এটি এক যুগের অবসান। হাসির আড়ালে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার ক্ষমতা, আর চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার সহজাত দক্ষতা তাঁকে করে তুলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে অমর। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, তাঁর রসিকতা, তাঁর সংলাপ আর তাঁর অভিনয়ের দীপ্তি চিরকাল বেঁচে থাকবে ভারতীয় বিনোদনের আকাশে। সতীশ শাহ চলে গেলেন, রেখে গেলেন এক প্রজন্মের আনন্দ, এক সময়ের স্মৃতি, আর এক অমর উত্তরাধিকার—হাসি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন