ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ ধেয়ে আসছে, উপকূলজুড়ে সতর্কতা, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তামিলনাড়ু-অন্ধ্রপ্রদেশে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। আগামী ২৯-৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। 

ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ ধেয়ে আসছে, উপকূলজুড়ে সতর্কতা, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তামিলনাড়ু-অন্ধ্রপ্রদেশে


কলকাতা : বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘মান্থা’, এবং এটি বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মধ্যভাগে অবস্থান করছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিস্টেমটি আরও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দপ্তর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মান্থা এখন ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমমুখী অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় বাতাসের গতি বেড়েছে এবং ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও শুরু হয়েছে। যদি বর্তমান গতিবেগ বজায় থাকে, তাহলে আগামী ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিশালী আকার নিয়ে ভারতের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল হতে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপট্টনম ও তামিলনাড়ুর উত্তর উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায়।

এরই মধ্যে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলজুড়ে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যাঁরা গভীর সাগরে রয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে তীরে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মোকাবিলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় ঘূর্ণিঝড়টি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। মান্থা এখনও পূর্ণ শক্তি অর্জন করেনি, তবে এর গঠনপ্রক্রিয়া স্পষ্ট। যদি এটি ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’-এ রূপ নেয়, তাহলে উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও ৯০-১০০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।”

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মান্থার প্রভাবে ২৮ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর (এনডিআরওফ) ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে। প্রয়োজনে বিপর্যয় প্রবণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা মান্থার গতিপথ ও শক্তিবৃদ্ধির দিকটি পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ফলে উপকূলজুড়ে নজর এখন বঙ্গোপসাগরের দিকেই—যেখানে প্রকৃতির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের আগামী কয়েক দিনের ভাগ্য।

সতর্কতা: উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন