সৌরবিদ্যুতের আলোয় রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি, আহিরিটোলা সর্বজনীনে ‘এবার পুজো রবির আলোয়’

আহিরিটোলা সর্বজনীন শারদোৎসব ২০২৬-এ ‘এবার পুজো রবির আলোয়’ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে আলোকিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা কবিতার পাণ্ডুলিপি। টাইটেল স্পনসর বিক্রম সোলার।

সৌরবিদ্যুতের আলোয় রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি, আহিরিটোলা সর্বজনীনে ‘এবার পুজো রবির আলোয়’

কলকাতা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যসৃষ্টির সঙ্গে সৌরশক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে দুর্গাপুজোয় এক অভিনব উদ্যোগ নিল বিক্রম সোলার লিমিটেড। আহিরিটোলা যুবকবৃন্দ আয়োজিত আহিরিটোলা সর্বজনীন শারদোৎসব ২০২৬-এর টাইটেল স্পনসর হিসেবে সংস্থাটি হাজির করেছে ‘এবার পুজো রবির আলোয়’ শীর্ষক বিশেষ ভাবনা।

এই উদ্যোগের মূল আকর্ষণ মণ্ডপের ভিতরে সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি শিল্পস্থাপনা, যেখানে বিক্রম সোলারের সৌর প্যানেলের সাহায্যে দিনরাত আলোকিত রাখা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা একটি কবিতার পাণ্ডুলিপি। পুজোর প্রতিটি দিন দর্শনার্থীরা এই বিশেষ প্রদর্শনী দেখার সুযোগ পাবেন।

রবীন্দ্রনাথের মূল পাণ্ডুলিপিকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে মণ্ডপের ভাবনা। ‘রবির আলো’ শব্দবন্ধের মধ্য দিয়ে বাংলার প্রিয় কবি, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির সম্ভাবনাকে এক সূত্রে বাঁধার চেষ্টা করেছে আয়োজক সংস্থা ও বিক্রম সোলার। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে কবির হাতে লেখা কবিতাকে আলোকিত রাখার এই উদ্যোগে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সৌরপ্রযুক্তির সংযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় এই পুজোমণ্ডপের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং পর্যটন ও সংস্কৃতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। এ ছাড়াও বিক্রম সোলারের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ভারতের অন্যতম প্রধান সৌর মডিউল প্রস্তুতকারী সংস্থা বিক্রম সোলারের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সাংস্কৃতিক উদযাপনের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারকে যুক্ত করতেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে পুনের গণেশোৎসবে সৌরশক্তি নিয়ে প্রচারমূলক উদ্যোগ এবং আইপিএল চলাকালীন ‘সিক্সেস ফর সোলার’ প্রচারাভিযানেও অংশ নিয়েছিল সংস্থাটি। কলকাতার দুর্গাপুজোয় এই উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তির বিকল্প উৎস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিক্রম সোলারের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জ্ঞানেশ চৌধুরী বলেন, দুর্গাপুজো বাংলার শিল্প, বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতির অন্যতম বৃহৎ প্রকাশ। বাংলায় জন্ম নেওয়া একটি সংস্থার কাছে সূর্যের আলোকে উদযাপনের এমন মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করেছে। এ বার সেই সৃষ্টিই পরিচ্ছন্ন সৌরশক্তির মাধ্যমে আলোকিত হবে।

তাঁর কথায়, ‘এবার পুজো রবির আলোয়’ প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য হল, সৌরবিদ্যুৎ যে কোনও দূরবর্তী প্রযুক্তি নয়, বরং ঘরবাড়ি, ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎকে আলোকিত করার বাস্তবসম্মত উপায়, তা মানুষের সামনে তুলে ধরা। গণেশোৎসব থেকে ক্রিকেটের মাঠ, আর এ বার কলকাতার পুজোমণ্ডপ—বিভিন্ন জনসমাগমের জায়গায় পরিচ্ছন্ন শক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যেতে চায় সংস্থা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন