মাসে ২১ বার বীর্যপাত করলে কমতে পারে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি, দাবি গবেষকদের

মাসে অন্তত ২১ বার বীর্যপাত করলে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে বলে দাবি গবেষকদের। FCancer-এর নতুন প্রচারাভিযান ঘিরে বাড়ছে আলোচনা।

মাসে ২১ বার বীর্যপাত করলে কমতে পারে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি, দাবি গবেষকদের


উদয় বাংলা ডেস্ক : পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এক অভিনব প্রচারাভিযান শুরু করেছে মার্কিন অলাভজনক সংস্থা FCancer। সংস্থার দাবি, নিয়মিত বীর্যপাত পুরুষদের প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সেই কারণেই তারা ‘Beat Cancer Off’ নামে একটি প্রচার চালিয়ে পুরুষদের মাসে অন্তত ২১ বার বীর্যপাতের পরামর্শ দিচ্ছে।



এই প্রচারের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণার তথ্য। Lorelei Mucci, যিনি Harvard T.H. Chan School of Public Health-এর এপিডেমিওলজির অধ্যাপক, জানিয়েছেন যে ১৯৮৬ সাল থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি পুরুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা নিয়ে হওয়া সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা মাসে ২১ বার বা তার বেশি বীর্যপাত করেন, তাঁদের প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে ১৯ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।

গবেষকদের মতে, ‘২১’ কোনও জাদুকরী সংখ্যা নয়। বরং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এই প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এমনকি মাসে মাত্র আটবার বীর্যপাত করলেও ঝুঁকি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ঘন ঘন বীর্যপাত করলে সম্ভাব্য সুরক্ষা আরও বেশি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে প্রস্টেট ক্যানসার মার্কিন পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। American Cancer Society-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্বকের ক্যানসারের পর এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং প্রতি আটজন পুরুষের মধ্যে একজন জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ফুসফুসের ক্যানসারের পর এটিই পুরুষদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

Beat Cancer Off

বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিতভাবে জানেন না কীভাবে বীর্যপাত এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে তাঁদের ধারণা, নিয়মিত বীর্যপাত প্রস্টেট গ্রন্থি থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে পারে, প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং কোষের জিনগত কার্যকলাপেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Yael Cohen জানিয়েছেন, এই প্রচারের মূল লক্ষ্য শুধুই হাস্যরস নয়, বরং পুরুষদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো। তাঁর কথায়, মজার মাধ্যমে বিষয়টি মানুষের মনে সহজে পৌঁছয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসল উদ্দেশ্য হল মানুষকে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে উৎসাহিত করা, নিয়মিত স্ক্রিনিং করানো এবং নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নির্দিষ্ট কোনও যৌন আচরণ নিয়ে নয়, বরং মোট বীর্যপাতের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তাই এটি ব্যক্তিগত বা যৌন জীবনের কোনও নির্দিষ্ট ধরনকে উৎসাহিত করার প্রচার নয়।



বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শই প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই ধরনের প্রচার পুরুষদের সেই আলোচনা শুরু করতে সাহায্য করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন