অতিরিক্ত জিম এক্সারসাইজে যৌন সমস্যা: পুরুষদের জন্য সতর্কবার্তা ও সমাধান

ওজন তোলা বা ভুল এক্সারসাইজ কি পুরুষদের যৌন সমস্যার কারণ হতে পারে? পেলভিক ফ্লোরের ক্ষতি, লক্ষণ ও সমাধান দিচ্ছেন সাত‌্যকি

অতিরিক্ত জিম এক্সারসাইজে যৌন সমস্যা: পুরুষদের জন্য সতর্কবার্তা ও সমাধান


পেশি গঠন, ফিটনেস বাড়ানো এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য জিমে গিয়ে নিয়মিত এক্সারসাইজ করা এখন অনেক পুরুষের দৈনন্দিন অভ্যাস হয়ে উঠেছে। ওজন তোলা বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং যেমন শরীরের শক্তি বাড়ায়, তেমনই এটি ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। কিন্তু সব ভালো দিকের পাশাপাশি কিছু ভুল এক্সারসাইজ বা অতিরিক্ত চাপ এমন সমস্যার জন্ম দিতে পারে, যা অনেকেই কল্পনাও করেন না—যৌন সমস্যা।



এই সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাকে বলা হয় পেলভিক ফ্লোর মাংসপেশি। এই মাংসপেশিগুলি আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে ঠিক জায়গায় রাখতে সাহায্য করে এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে যৌন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যখন এই পেশিগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে বা সেগুলি সবসময় টানটান অবস্থায় থাকে, তখনই সমস্যা শুরু হয়।

অনেক পুরুষই স্কোয়াট, ডেডলিফট বা অ্যাবস-ভিত্তিক এক্সারসাইজ করার সময় অজান্তেই শরীরের নিচের অংশ, বিশেষ করে পেলভিক ফ্লোর শক্ত করে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে মাংসপেশিগুলি অতিরিক্ত টানটান হয়ে যায়। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা উত্থানজনিত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শুধু তাই নয়, এই সমস্যার ফলে তলপেটে ব্যথা, যৌন মিলনের সময় অস্বস্তি, এমনকি দৈনন্দিন কাজের সময়ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যারা নিয়মিত সাইকেল চালান বা দীর্ঘ সময় স্যাডলে বসে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি সিটের অবস্থান ঠিক না হয়।

আরও একটি বড় সমস্যা হলো ভুল টেকনিক বা শ্বাসপ্রশ্বাসের ভুল পদ্ধতি। অনেকেই ভারী ওজন তোলার সময় শ্বাস আটকে রাখেন বা সঠিকভাবে শ্বাস নেন না। এতে শরীরের ভেতরের চাপ নিচের দিকে গিয়ে পেলভিক ফ্লোরে জমা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।

তাহলে কি জিম করা বন্ধ করে দেওয়া উচিত? একেবারেই নয়। বরং প্রয়োজন সচেতনতা এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা। প্রথমত, এক্সারসাইজের সময় শরীরকে অতিরিক্ত শক্ত করে না রেখে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে। ভারী ওজন তোলার আগে নিজের সক্ষমতা বুঝে নেওয়া জরুরি।

এছাড়া শরীরকে রিল্যাক্স করার জন্য কিছু স্ট্রেচিং খুবই উপকারী। যেমন হিপ ও গ্লুটসের স্ট্রেচ, ‘চাইল্ডস পোজ’ বা ‘হ্যাপি বেবি পোজ’-এর মতো যোগাসন পেলভিক ফ্লোরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। অনেকেই মনে করেন কেগেল এক্সারসাইজ সব সমস্যার সমাধান, কিন্তু বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ‘রিভার্স কেগেল’ বা মাংসপেশি শিথিল করার অনুশীলন অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি এই ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপিস্ট এই সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা ও ব্যায়ামের পরামর্শ দিতে পারেন।



সারসংক্ষেপে বলা যায়, জিম করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও ভুল পদ্ধতি বা অতিরিক্ত চাপ শরীরের সূক্ষ্ম অংশগুলির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ফিট থাকার পাশাপাশি সচেতন থাকাও সমান জরুরি, যাতে সুস্থ শরীরের সঙ্গে সুস্থ যৌন জীবনও বজায় থাকে।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন