‘বিশ্বাস ভঙ্গ করা চলবে না’, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর নেতাদের কড়া বার্তা শাহের

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে দলীয় নেতাদের দায়িত্ববোধের বার্তা দিলেন অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুর জয় নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘বিশ্বাস ভঙ্গ করা চলবে না’, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর নেতাদের কড়া বার্তা শাহের


উদয় বাংলা : পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে গিয়ে শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, দলের নেতাদের জন্য দায়িত্ববোধ এবং সতর্কতার বার্তাও দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদলের বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন শাহ। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিজেপির উপর ভরসা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, জনতার এই বিশ্বাস কোনও ভাবেই ভঙ্গ করা চলবে না।



অমিত শাহ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলায় দীর্ঘদিন ভয় এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও বিজেপির নেতাদের উপর আস্থা রেখে মানুষ যে জনাদেশ দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা দলের দায়িত্ব। শাহের কথায়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে যে বিজয় উপহার দিয়েছেন, তার জন্য তাঁদের কোটি কোটি ধন্যবাদ। একই সঙ্গে তিনি দলের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করতে হবে এবং এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না যাতে জনতার বিশ্বাস ভেঙে যায়। বাংলার মানুষের জন্য বিজেপিকে নিজেদের সেরাটুকু উজাড় করে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুর জয় নিয়েও উচ্ছ্বসিত শোনায় শাহকে। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছিল, শুভেন্দু নিজের এলাকায় লড়েছিলেন। কিন্তু এ বার ভবানীপুরে গিয়ে মমতাকে তাঁর নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটিতেই হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। ভবানীপুরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে শাহ বলেন, এই ফল বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের রাজনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত এখন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে তাঁর আদর্শের অনুসারী সরকার গঠন করা বিজেপির কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শাহের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পতাকা ওড়ানোই ছিল দলের অন্যতম বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, যেখানে থাকুন না কেন, আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিশ্চয়ই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বকে আশীর্বাদ করছেন।

রাজ্যে বিজেপির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রাপথের কথাও স্মরণ করেন শাহ। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে উপনির্বাচনে জয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সূচনা হয়েছিল। ২০১৬ সালে দল তিনটি আসন পেয়েছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ৭৭। আর ২০২৬ সালে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে ক্ষমতায় এসেছে। এই সাফল্যের পেছনে বিজেপির কর্মীদের আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরেন শাহ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসায় বিজেপির ৩২১ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাঁদের আত্মবলিদান কখনও ভুলবে না দল। কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের আর কোথাও এত রাজনৈতিক হিংসা দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের ফল নিয়ে শাহ দাবি করেন, বিজেপির জয় শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, জনসমর্থনের দিক থেকেও অভূতপূর্ব। তাঁর কথায়, বিজেপি প্রার্থীদের গড় জয়ের ব্যবধান প্রায় ২৮ হাজার ভোট। রাজ্যের ন’টি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারেনি। এই ফলকে তিনি বাংলার মানুষের ‘প্রচণ্ড জনাদেশ’ বলে ব্যাখ্যা করেন। একই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও এ দিন প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তোলা হলেও এ বারের ভোটে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ। কোনও ছাপ্পা, কারচুপি বা ভোট-হিংসার অভিযোগ ওঠেনি বলেও দাবি করেন তিনি। কমিশনের পাশাপাশি প্রশাসন এবং পুলিশকেও অভিনন্দন জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।



এ দিনের বক্তব্যে কংগ্রেসকেও একহাত নেন শাহ। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে কংগ্রেস কোনও বড় নির্বাচনে জিততে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন দেশের ভোটপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে তারা। শাহ প্রশ্ন তোলেন, এত বছর ধরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস কেন সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, আত্মসমালোচনা করাই এখন কংগ্রেসের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন