লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির হাতে সরকার গঠনের দাবি পেশ করল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শনিবার শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। ‘চরৈবেতি’ মন্ত্রে বাংলার নবনির্মাণের বার্তা দিলেন তিনি।
![]() |
| লোকভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির হাতে বিধায়কদের স্বাক্ষরপত্র তুলে দিচ্ছেন (বাঁ দিকে থেকে) দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার। |
উদয় বাংলা : পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে শনিবার লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল R. N. Ravi-র হাতে বিজেপি বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি তুলে দিল বিজেপি নেতৃত্ব। বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা তথা হবু মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি Samik Bhattacharya, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Sukanta Majumdar এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী Mohan Charan Majhi। শনিবার কলকাতার Brigade Parade Ground-এ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবারই নিউ টাউনের Biswa Bangla Convention Centre-এ বিজেপির ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রধান পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন শাহ, আর সহকারী পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই নতুন বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত হয়।
বৃহস্পতিবারই সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল লোক ভবন। রাজ্যপালের দফতরের তরফে জানানো হয়, ৭ মে থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ কার্যত আগের সরকারের মেয়াদ শেষ। যদিও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে রাজ্যপাল আনুষ্ঠানিক ভাবে বরখাস্ত করেননি, আবার নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত তাঁকে তদারকি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেও ঘোষণা করা হয়নি। সেই পরিস্থিতিতেই বিজেপি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করল।
রাজ্যপালের হাতে বিজেপি বিধায়কদের স্বাক্ষরপত্র জমা দেওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে শনিবারই বিজেপির নতুন সরকারকে শপথগ্রহণ করাবেন রাজ্যপাল। এর পরেই নিজের প্রথম রাজনৈতিক বার্তায় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করবে। সেই পথ চলার মূল মন্ত্র হবে স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন থেকে নেওয়া শব্দ— “চরৈবেতি”, যার অর্থ এগিয়ে চলা।
বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপি সরকার “আমি নয়, আমরা” নীতিতে চলবে। তাঁর কথায়, মোদীজি যে গ্যারান্টি দিয়েছেন, তা পূরণ করবে নতুন সরকার। “কথা কম, কাজ বেশি”— এই নীতিকেই সামনে রেখে প্রশাসন চালানোর বার্তাও দেন তিনি।
শুভেন্দু আরও জানান, চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার ৪৬ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। আগামী নির্বাচনে সেই সমর্থন ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য। তিনি বলেন, ইতিবাচক কাজ, সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলার মানুষের আস্থা আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে মা-বোনেদের পাশে এনে “সোনার বাংলা” গড়ার ডাক দেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে অমিত শাহের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, সন্দেশখালি থেকে আরজি কর পর্যন্ত যেখানে যেখানে মা-বোন-কন্যাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তেও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে কমিশন গড়ার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন হবু মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির প্রচারে বারবার উঠে এসেছিল ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি বাড়বে বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দু বলেন, “সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস, সব কা প্রয়াস”— এই মন্ত্র নিয়েই বাংলার নবনির্মাণ হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় বাংলায় ভয় এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশের অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। সেই প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার মানুষের ভয় কাটাতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী মানুষের মধ্যে ভরসা তৈরি করেছেন এবং অমিত শাহ, সংগঠনের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই জয় এসেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে শুভেন্দু বলেন, বাংলাকে ভয়মুক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এই লড়াই কোনও ব্যক্তির নয়, সমষ্টিগত প্রয়াসের ফল। তাই তাঁর সরকারের মূল মন্ত্র হবে “আমি নয়, আমরা”। বিজেপির নতুন সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর জনসমর্থন অর্জনের লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবারই নিউ টাউনের Biswa Bangla Convention Centre-এ বিজেপির ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রধান পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন শাহ, আর সহকারী পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই নতুন বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত হয়।
বৃহস্পতিবারই সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল লোক ভবন। রাজ্যপালের দফতরের তরফে জানানো হয়, ৭ মে থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ কার্যত আগের সরকারের মেয়াদ শেষ। যদিও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে রাজ্যপাল আনুষ্ঠানিক ভাবে বরখাস্ত করেননি, আবার নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত তাঁকে তদারকি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেও ঘোষণা করা হয়নি। সেই পরিস্থিতিতেই বিজেপি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করল।
রাজ্যপালের হাতে বিজেপি বিধায়কদের স্বাক্ষরপত্র জমা দেওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে শনিবারই বিজেপির নতুন সরকারকে শপথগ্রহণ করাবেন রাজ্যপাল। এর পরেই নিজের প্রথম রাজনৈতিক বার্তায় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করবে। সেই পথ চলার মূল মন্ত্র হবে স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন থেকে নেওয়া শব্দ— “চরৈবেতি”, যার অর্থ এগিয়ে চলা।
বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপি সরকার “আমি নয়, আমরা” নীতিতে চলবে। তাঁর কথায়, মোদীজি যে গ্যারান্টি দিয়েছেন, তা পূরণ করবে নতুন সরকার। “কথা কম, কাজ বেশি”— এই নীতিকেই সামনে রেখে প্রশাসন চালানোর বার্তাও দেন তিনি।
শুভেন্দু আরও জানান, চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার ৪৬ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। আগামী নির্বাচনে সেই সমর্থন ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য। তিনি বলেন, ইতিবাচক কাজ, সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলার মানুষের আস্থা আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে মা-বোনেদের পাশে এনে “সোনার বাংলা” গড়ার ডাক দেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে অমিত শাহের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, সন্দেশখালি থেকে আরজি কর পর্যন্ত যেখানে যেখানে মা-বোন-কন্যাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তদন্তের জন্য কমিশন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তেও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে কমিশন গড়ার আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন হবু মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির প্রচারে বারবার উঠে এসেছিল ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রসঙ্গ। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি বাড়বে বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দু বলেন, “সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস, সব কা প্রয়াস”— এই মন্ত্র নিয়েই বাংলার নবনির্মাণ হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় বাংলায় ভয় এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশের অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। সেই প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি বাংলার মানুষের ভয় কাটাতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী মানুষের মধ্যে ভরসা তৈরি করেছেন এবং অমিত শাহ, সংগঠনের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই জয় এসেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে শুভেন্দু বলেন, বাংলাকে ভয়মুক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এই লড়াই কোনও ব্যক্তির নয়, সমষ্টিগত প্রয়াসের ফল। তাই তাঁর সরকারের মূল মন্ত্র হবে “আমি নয়, আমরা”। বিজেপির নতুন সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর জনসমর্থন অর্জনের লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন