মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে তৃণমূল-কংগ্রেসকে নিশানা মোদির, পাল্টা আক্রমণে মমতা

বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের সভা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত।

ঝাড়গ্রামের দোকান থেকে ১০ টাকা দিয়ে মুড়ি কিনে খেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রবিবার।
ঝাড়গ্রামের দোকান থেকে ১০ টাকা দিয়ে মুড়ি কিনে খেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রবিবার।

উদয় বাংলা : বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ, সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল।

মোদির দাবি, তৃণমূল চায় না বাংলার বিধানসভা ও সংসদে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ুক, কারণ মহিলারা বেশি সংখ্যায় নির্বাচিত হলে নিজেদের অধিকার নিয়ে সরব হবেন। তিনি বলেন, বাংলার বোনেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তৃণমূল এবং এই ‘অপরাধের’ জবাব ভোটেই দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এদিন বড়জোড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বেলদায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, তাঁর সরকার চেয়েছিল ২০২৯ সাল থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে, কিন্তু বিরোধীদের ষড়যন্ত্রে তা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ও কংগ্রেস মিলে এই বিলের বাস্তবায়ন আটকেছে। অন্যদিকে এই ইস্যুতেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালে বিল পাশ হওয়ার পর এতদিনেও তা কার্যকর করা হয়নি কেন। তাঁর অভিযোগ, বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন জুড়ে দিয়ে আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করতে চেয়েছে কেন্দ্র, যা দেশের বিভাজনের ইঙ্গিত বহন করে।

এদিকে পুরুলিয়ার সভা থেকে মোদি আবারও ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর তত্ত্ব তুলে ধরে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি এবং শিল্পোন্নয়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। কৃষক, শিল্প ও অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই তৃণমূলের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেট ব্যবস্থা উপড়ে ফেলা হবে।

যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টা দাবি করেছে, রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চলে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ বাড়ছে এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটছে।

ঝাড়গ্রামের সভাতেও একই সুরে আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। জনজাতি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে তৃণমূলকে ব্যর্থ বলে দাবি করে বিজেপি ক্ষমতায় এলে একাধিক প্রকল্প ও আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মহিলাদের জন্য বার্ষিক আর্থিক সহায়তা, শিক্ষার খরচ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে কয়লা লুট, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দেন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন