মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম বাড়ার জেরে উদ্বেগ বাড়ছে। জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য ভর্তুকি দিলে আজই কমতে পারে রান্নার গ্যাসের দাম।
উদয় বাংলা : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ভারতের পাশাপাশি বাংলার হেঁশেলেও পড়তে শুরু করেছে। রান্নার গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে অনিয়ম এবং আচমকা মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে উদ্বেগ বাড়তেই কেন্দ্রের নীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার জরুরি প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, সেই বৈঠক থেকেই গ্যাসের দাম কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আর্থিক দিক থেকেও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্য গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে।
সম্প্রতি একযোগে গৃহস্থালির গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে কলকাতায় নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা, যার ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৯০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই গ্যাসের উপর প্রযোজ্য কর কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের উপর আলাদা করে কোনও রাজ্য কর নেই। সারা দেশে একইভাবে ৫ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য, যার মধ্যে আড়াই শতাংশ কেন্দ্র এবং আড়াই শতাংশ রাজ্যের অংশ হিসেবে যায়। হিসেব অনুযায়ী একটি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৩.৩৬ টাকা জিএসটি পড়ে, যার মধ্যে ২১.৬৮ টাকা করে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই পায়।
বুধবার একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে ফোনে সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এলপিজি বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের গ্যাস মজুত ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রের কাছে দেশে মোট কত পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে সেই তথ্য প্রকাশ করার দাবিও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কেন্দ্রের উচিত নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আর্থিক দিক থেকেও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলেই গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাস নিয়ে যে আকস্মিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতেই গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে এবং খাদ্যদপ্তরের সচিবসহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাজারে যাতে কৃত্রিমভাবে গ্যাসের সংকট তৈরি না করা হয় সেদিকে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি এই পরিস্থিতিতে মজুতদারি করে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেন, তবে প্রয়োজনে সেই মজুত বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার প্রয়োজনে গ্রাহকদের সিলিন্ডার পিছু কিছুটা ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, রাজ্য যদি সরাসরি ভর্তুকি দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসের কার্যকর দাম কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। ভারতের একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই নিজেদের বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে এলপিজির দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এমন উদাহরণ রয়েছে। রাজস্থানে দরিদ্র পরিবার ও উজ্জ্বলা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে রাখতে ভর্তুকি দেওয়া হয়। একইভাবে মধ্যপ্রদেশে নির্দিষ্ট শ্রেণির মহিলাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় ৪৫০ টাকায় দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়াও হিমাচল প্রদেশ. গোয়া এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যেও নির্দিষ্ট পরিবারকে কম দামে গ্যাস দেওয়ার জন্য রাজ্যভিত্তিক ভর্তুকি চালু রয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে গ্যাসের সংকট আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সেই কারণেই বৃহস্পতিবারের প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে এখন নজর রাজ্যের সাধারণ মানুষের।
উদয় বাংলা : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ভারতের পাশাপাশি বাংলার হেঁশেলেও পড়তে শুরু করেছে। রান্নার গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে অনিয়ম এবং আচমকা মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে উদ্বেগ বাড়তেই কেন্দ্রের নীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার জরুরি প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, সেই বৈঠক থেকেই গ্যাসের দাম কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আর্থিক দিক থেকেও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্য গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে।
সম্প্রতি একযোগে গৃহস্থালির গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে কলকাতায় নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকা। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা, যার ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১৯৯০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই গ্যাসের উপর প্রযোজ্য কর কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের উপর আলাদা করে কোনও রাজ্য কর নেই। সারা দেশে একইভাবে ৫ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য, যার মধ্যে আড়াই শতাংশ কেন্দ্র এবং আড়াই শতাংশ রাজ্যের অংশ হিসেবে যায়। হিসেব অনুযায়ী একটি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৩.৩৬ টাকা জিএসটি পড়ে, যার মধ্যে ২১.৬৮ টাকা করে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই পায়।
বুধবার একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে ফোনে সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এলপিজি বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ফলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের গ্যাস মজুত ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রের কাছে দেশে মোট কত পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে সেই তথ্য প্রকাশ করার দাবিও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কেন্দ্রের উচিত নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আর্থিক দিক থেকেও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলেই গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাস নিয়ে যে আকস্মিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতেই গ্যাস ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে এবং খাদ্যদপ্তরের সচিবসহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাজারে যাতে কৃত্রিমভাবে গ্যাসের সংকট তৈরি না করা হয় সেদিকে কড়া নজরদারি চালাতে হবে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি এই পরিস্থিতিতে মজুতদারি করে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করেন, তবে প্রয়োজনে সেই মজুত বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার প্রয়োজনে গ্রাহকদের সিলিন্ডার পিছু কিছুটা ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, রাজ্য যদি সরাসরি ভর্তুকি দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসের কার্যকর দাম কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। ভারতের একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই নিজেদের বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে এলপিজির দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এমন উদাহরণ রয়েছে। রাজস্থানে দরিদ্র পরিবার ও উজ্জ্বলা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে রাখতে ভর্তুকি দেওয়া হয়। একইভাবে মধ্যপ্রদেশে নির্দিষ্ট শ্রেণির মহিলাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার প্রায় ৪৫০ টাকায় দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়াও হিমাচল প্রদেশ. গোয়া এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যেও নির্দিষ্ট পরিবারকে কম দামে গ্যাস দেওয়ার জন্য রাজ্যভিত্তিক ভর্তুকি চালু রয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে গ্যাসের সংকট আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সেই কারণেই বৃহস্পতিবারের প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে এখন নজর রাজ্যের সাধারণ মানুষের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন