SIR: রাজ্য প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ মুখ‌্য নির্বাচন কমিশনার, পুলিশকে ৫ দফা কড়া নির্দেশ

এসআইআর সংক্রান্ত কাজে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। পুলিশ প্রশাসনের জন্য জারি করা হল ৫ দফা নির্দেশ।

SIR: রাজ্য প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ মুখ‌্য নির্বাচন কমিশনার, পুলিশকে ৫ দফা কড়া নির্দেশ

উদয় বাংলা : রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত কাজকর্ম নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার কলকাতায় ফুল বেঞ্চের বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার শুরুতেই কড়া বার্তা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্বাচন কমিশনের তরফে আগে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি। দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও কেন নির্দেশিকা মেনে কাজ করা হয়নি, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও এখনও পর্যন্ত কমিশনের কাছে আসেনি বলে জানান তিনি।

বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কমিশন রাজ্যের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছে এবং কেউই কমিশনের স্ক্যানারের বাইরে নন। যদি কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, কয়েকজন কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে কমিশনের ভাবমূর্তিতে যাতে কোনওরকম নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই কারণেই কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন।

এদিন বৈঠকের শুরুতেই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে পাঁচ দফা কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলছে এবং পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করছে। এই পরিস্থিতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে পর্যবেক্ষকদেরও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোনও পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে হিংসামুক্ত এবং প্রলোভনমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যর্থতা দেখা যায়, তবে কোনও এসপি, সিপি বা জেলা শাসককেও ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন। পাশাপাশি ভোট পরবর্তী হিংসা কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে কড়া মন্তব্যও করতে শোনা যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। রাজ্যে বোমা উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “হয় বোমা থাকবে, না হলে আপনারা থাকবেন।” ভোটারদের ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

এদিন বৈঠকে কয়েকটি কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও কমিশনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। বেআইনি টাকা, মদ এবং মাদক যাতে কোনওভাবেই নির্বাচনের সময় প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় কমিশন। এই নির্দেশ অমান্য করা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অভিযোগ তোলে যে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর-এর কপি তাদের সঙ্গে ভাগ করা হয় না। তবে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা, অন্য প্রশাসনিক বিষয় নয়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন