ভোটের আগে ‘প্রো-পিপল’ বাজেট: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়তি ৫০০ টাকা, রাজ্য কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬-২৭ অন্তর্বর্তী বাজেটে ৪.০৬ লক্ষ কোটি টাকার ব্যয় প্রস্তাব। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বাড়তি অনুদান, রাজ্য কর্মীদের ডিএ ৪% বৃদ্ধি—ভোটের আগে বড় বার্তা।

ভোটের আগে ‘প্রো-পিপল’ বাজেট: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়তি ৫০০ টাকা, রাজ্য কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি

উদয় বাংলা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪.০৬ লক্ষ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করল। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই বাজেটে একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। সবথেকে বড় ঘোষণা হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তা মহিলাদের জন্য মাসিক অনুদান আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের প্রাপ্য আর্থিক বরাদ্দ আটকে রেখেছে, তবু রাজ্য সরকার মানুষের স্বার্থে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই বাজেট তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, আর্থিক বঞ্চনার মধ্যেও এই বাজেট সম্পূর্ণভাবে ‘জনমুখী’। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে দাবি করেন, রাজ্যের বাজেট সুস্পষ্ট দিশা ও সামাজিক লক্ষ্য নিয়ে তৈরি, যা কেন্দ্রের বাজেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

এই অন্তর্বর্তী বাজেট এমন সময়ে এল, যখন রাজ্যে ভোটের আবহ ক্রমশ ঘন হচ্ছে। মহিলাদের জন্য সরাসরি নগদ সহায়তা বাড়ানোকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ভোটারের সংখ্যা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক, এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই প্রকল্পে অনুদান বৃদ্ধি ভোটের আগে মহিলাদের একটি বড় অংশের কাছে স্পষ্ট বার্তা বহন করছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

শুধু মহিলা নয়, যুব সম্প্রদায় এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্যও বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা বাড়ানোর ইঙ্গিত এই বাজেটে রয়েছে, যা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের একাংশের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, সেটাও এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, এই বাজেটকে অনেকেই আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল সরকারের রাজনৈতিক রণকৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। একদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মেরুকরণ, অন্যদিকে সরাসরি নগদ সহায়তা ও ভাতা বৃদ্ধি—দুয়ের মিশ্রণে তৈরি এই বাজেট ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনই সময় বলবে। তবে এতটুকু স্পষ্ট, এই বাজেট শুধুমাত্র হিসাবের খাতা নয়, নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তাও বয়ে আনছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন