সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২৫% বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে

ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ, বাকি ৭৫ শতাংশ নিয়ে কমিটি গঠন।

সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২৫% বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে

উদয় বাংলা : রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) রয়েছে, তার অন্তত ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। এই অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই এই বকেয়ার অংশ কর্মীদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ কোনও অনুদান নয়, এটি সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করেছেন, এই রায়ের মাধ্যমে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত হয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, এতদিন ধরে ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয় বলে যে দাবি করা হচ্ছিল, তা দেশের সর্বোচ্চ আদালত ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াই ও আন্দোলনের পর অবশেষে কর্মীরা তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য পেতে চলেছেন।

এদিন রাজ‌্য বাজেট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের ডিএ সংক্রান্ত নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রায়ের কপি এখনও আমরা হাতে পাইনি। সেটা পড়ে দেখতে হবে। রায় নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। যে কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা আছেন। পশ্চিমবঙ্গের কোনও প্রতিনিধি নেই। আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিঠি গঠন করেছি। আইনি পরামর্শ নেব এবং সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তাঁদের মতামত অনুযায়ী কাজ করব।” কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের প্রসঙ্গ টেনেছেন মুখ‌্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। পশ্চিমবঙ্গে যা পাওয়া যায়, আর কোথাও পাওয়া যায় না। পেনশন বন্ধ করে দিলে আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তা হলে তাঁরা কী করবেন? সরকারি কর্মীদের কথা চিন্তা করে তা সরকার দিয়ে থাকে।”

এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর পরেও যে ৭৫ শতাংশ অর্থ বাকি থাকবে, তা পরিশোধের পদ্ধতি ও সময়সূচি ঠিক করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের এই কমিটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে ও কত কিস্তিতে বাকি অর্থ মেটানো সম্ভব। তবে আদালত এ-ও পরিষ্কার করেছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের কর্মচারীদের বর্তমান ডিএ-র প্রায় ৪০ শতাংশ ফারাকের সঙ্গে এই মামলার কোনও সম্পর্ক নেই। বৃহস্পতিবারের রায় শুধুমাত্র পুরনো বকেয়া ডিএ পরিশোধ সংক্রান্ত।

গত বছর ১৬ মে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ প্রথমে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। পরে রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে জানান, একসঙ্গে ৫০ শতাংশ বকেয়া মেটানো আর্থিকভাবে সম্ভব নয় এবং তাতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। সেই যুক্তি শুনে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে অন্তত ২৫ শতাংশ দেওয়ার কথা বলে। সেই অনুযায়ী ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ বহাল থাকে। পরে রাজ্য সরকার সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দিতে গিয়ে আদালত জানায়, নিজেদের আগের অবস্থানেই তারা অনড় এবং কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ মেটাতেই হবে।

মামলাকারী কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, আদালত আগেই অন্তর্বর্তী নির্দেশে ২৫ শতাংশ বকেয়া দেওয়ার কথা বলেছিল, আর চূড়ান্ত রায়ে সেই নির্দেশ কার্যকর করার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাকি বকেয়া মেটানোর রূপরেখা তৈরির জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছে আদালত। তাঁর কথায়, এই রায়ে পরিষ্কার যে রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ দিতেই হবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন