বিহারে এসআইআর চালিয়ে কত রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি ধরা পড়েছে, সেটা কমিশনকে জানাতে হবে, দাবি মুখমন্ত্রী মমতার।
কলকাতা: রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে রাজনীতির অগ্নিগর্ভ আবহে মঙ্গলবার কলকাতার রাজপথে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই এসআইআর আতঙ্কে গত সাত দিনে বাংলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
লালবাজারের কাছে ড. বি. আর. আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয় প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল, যা শেষ হয় জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক হাতে দলীয় পতাকা, পোস্টার, ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন গোটা কলকাতা। মিছিলের সামনের সারিতে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, মাঝেমধ্যেই পথচলতি মানুষের উদ্দেশে হাত নাড়েন, ছাদে বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর সঙ্গে মিছিলে পা মেলান অভিষেক, সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতানেত্রীরাও।
মিছিলের শেষে সমাবেশে বক্তৃতায় মমতা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “বিহারে এসআইআর চালিয়ে কত রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি ধরা পড়েছে, সেটা কমিশনকে জানাতে হবে। বাংলার ভোটার তালিকা থেকে যদি একজনও প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা বিজেপি সরকারকে নামিয়ে দেব।” তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি এখন বাঙালিদের বাংলাদেশি আখ্যা দিচ্ছে, মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে বাংলাকে কলঙ্কিত করতে।”

আধার কার্ড ইস্যু নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “যখন কেন্দ্র প্রতিটি আধার কার্ডের জন্য হাজার টাকা নিয়েছিল, তখন কেন এখন ভোটার তালিকা বা রেশন কার্ডে আধার গ্রহণযোগ্য নয়? কত কার্ড তৈরি করবে কেন্দ্র — রেশন কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, আধার, প্যান, জাতি সার্টিফিকেট, কৃষক কার্ড, শ্রমিক কার্ড! শেষ পর্যন্ত একটাই সমাধান — এই দিল্লির সরকারকে বিদায় করা।”
অভিষেক মঞ্চ থেকে অভিযোগ করেন, “সাত দিনে সাতজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন এসআইআর আতঙ্কে।” তাঁর আহ্বান, “এই মৃত্যুর বিরুদ্ধে সবাইকে দিল্লির রাস্তায় নামতে হবে। আগামী দিনে আমরা দিল্লিতে এক বৃহৎ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করব।”
অভিষেক আরও বলেন, “নোটবন্দি হোক বা নাগরিকত্বের নামে নথি দেখানোর জুলুম — মোদি সরকার নিজের খেয়ালে সাধারণ মানুষের জীবনকে জটিল করে তুলছে। আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই নয়, এই নির্বাচন বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনার লড়াই।”
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াকে বলা হয়েছে ‘নীরব অদৃশ্য ভোট ডাকাতি’। দলীয় নেতাদের দাবি, এই উদ্যোগ আসলে বিজেপির পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের এক গোপন পরিকল্পনা, যাতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার ভোটার তালিকা নিয়ে ছলচাতুরী করা যায়।
অন্যদিকে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা আনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি “ভোটার তালিকা পরিশোধনের” একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই এসআইআর এখন কার্যত হয়ে উঠেছে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগাম ময়দান— একদিকে প্রশাসনিক শক্তি, অন্যদিকে সংগঠনগত শক্তির সংঘর্ষ। দু’পক্ষই এটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে, আর সেই সংঘর্ষের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ফের রাজপথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বার্তা দিয়েছেন— “একজন প্রকৃত ভোটারকেও বাদ দিলে, গণআন্দোলন হবে।”
কলকাতা: রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে রাজনীতির অগ্নিগর্ভ আবহে মঙ্গলবার কলকাতার রাজপথে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই এসআইআর আতঙ্কে গত সাত দিনে বাংলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
লালবাজারের কাছে ড. বি. আর. আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয় প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল, যা শেষ হয় জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক হাতে দলীয় পতাকা, পোস্টার, ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন গোটা কলকাতা। মিছিলের সামনের সারিতে হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, মাঝেমধ্যেই পথচলতি মানুষের উদ্দেশে হাত নাড়েন, ছাদে বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর সঙ্গে মিছিলে পা মেলান অভিষেক, সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতানেত্রীরাও।
মিছিলের শেষে সমাবেশে বক্তৃতায় মমতা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “বিহারে এসআইআর চালিয়ে কত রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি ধরা পড়েছে, সেটা কমিশনকে জানাতে হবে। বাংলার ভোটার তালিকা থেকে যদি একজনও প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা বিজেপি সরকারকে নামিয়ে দেব।” তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি এখন বাঙালিদের বাংলাদেশি আখ্যা দিচ্ছে, মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে বাংলাকে কলঙ্কিত করতে।”

আধার কার্ড ইস্যু নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “যখন কেন্দ্র প্রতিটি আধার কার্ডের জন্য হাজার টাকা নিয়েছিল, তখন কেন এখন ভোটার তালিকা বা রেশন কার্ডে আধার গ্রহণযোগ্য নয়? কত কার্ড তৈরি করবে কেন্দ্র — রেশন কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, আধার, প্যান, জাতি সার্টিফিকেট, কৃষক কার্ড, শ্রমিক কার্ড! শেষ পর্যন্ত একটাই সমাধান — এই দিল্লির সরকারকে বিদায় করা।”
অভিষেক মঞ্চ থেকে অভিযোগ করেন, “সাত দিনে সাতজন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন এসআইআর আতঙ্কে।” তাঁর আহ্বান, “এই মৃত্যুর বিরুদ্ধে সবাইকে দিল্লির রাস্তায় নামতে হবে। আগামী দিনে আমরা দিল্লিতে এক বৃহৎ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করব।”
অভিষেক আরও বলেন, “নোটবন্দি হোক বা নাগরিকত্বের নামে নথি দেখানোর জুলুম — মোদি সরকার নিজের খেয়ালে সাধারণ মানুষের জীবনকে জটিল করে তুলছে। আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই নয়, এই নির্বাচন বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনার লড়াই।”
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াকে বলা হয়েছে ‘নীরব অদৃশ্য ভোট ডাকাতি’। দলীয় নেতাদের দাবি, এই উদ্যোগ আসলে বিজেপির পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের এক গোপন পরিকল্পনা, যাতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার ভোটার তালিকা নিয়ে ছলচাতুরী করা যায়।
অন্যদিকে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা আনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি “ভোটার তালিকা পরিশোধনের” একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই এসআইআর এখন কার্যত হয়ে উঠেছে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগাম ময়দান— একদিকে প্রশাসনিক শক্তি, অন্যদিকে সংগঠনগত শক্তির সংঘর্ষ। দু’পক্ষই এটিকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে, আর সেই সংঘর্ষের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ফের রাজপথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি বার্তা দিয়েছেন— “একজন প্রকৃত ভোটারকেও বাদ দিলে, গণআন্দোলন হবে।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন