বিধানসভা ভোটের আগে ডিজিটাল ময়দানে বিজেপির নতুন অস্ত্র ‘নমো যুবা যোদ্ধা’

বিজেপির দাবি, এই কর্মসূচির লক্ষ্য রাজ্যের যুব সমাজকে রাজনৈতিক যুদ্ধে সক্রিয় করা, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
 
বিধানসভা ভোটের আগে ডিজিটাল ময়দানে বিজেপির নতুন অস্ত্র ‘নমো যুবা যোদ্ধা’

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিজিটাল প্রচারে ঝড় তুলতে নতুন কর্মসূচি শুরু করল বিজেপি। শনিবার কলকাতার আইসিসিআর প্রেক্ষাগৃহে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন দলের নতুন উদ্যোগ — ‘নমো যুবা যোদ্ধা’ (Namo Yuva Yoddha)। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিপ্লব দেব, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ এবং তরুণ বিধায়ক অনুপ সাহা।

দলীয় সূত্রে খবর, এই কর্মসূচির লক্ষ্য রাজ্যের যুব সমাজকে রাজনৈতিক যুদ্ধে সক্রিয় করা, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনও দলের পাল্টা কর্মসূচি নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন ভাবনাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচিরই জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

বিজেপির বক্তব্য, ‘নমো যুবা যোদ্ধা’র মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত ও বিকশিত বাংলা গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যুবকদের অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই সক্রিয় করতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ওয়েবসাইট, যেখানে নাম নথিভুক্ত করা যাবে ‘নমো যুবা ওয়ারিয়র’ হিসেবে। পাশাপাশি, ৭০১৫৯০০৯০০ নম্বরে মিসড কল দিলেও যুক্ত হওয়া যাবে এই অভিযানে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের নির্দেশেই এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। প্রকাশিত লোগোতেও রয়েছে এক প্রতীকী বার্তা— প্রধানমন্ত্রী মোদির ছবির পটভূমিতে ভারতের মানচিত্রের বদলে রাখা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে, এই উদ্যোগ মূলত বাংলাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত।

এর আগে ১৭ অক্টোবর তৃণমূল কংগ্রেস ঘোষণা করেছিল তাদের ডিজিটাল প্রচার অভিযান ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায়, “আজকের যুগে রাজপথের মতো লড়াইয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।” সেই উদ্যোগে বিপুল সাড়া পাওয়ার পর বিজেপির এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ‘ডিজিটাল পাল্টা আক্রমণ’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।

বিজেপির এক নেতার কথায়, “আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে কটাক্ষ করা নয়। আমরা চাই বাংলার তরুণ প্রজন্ম মোদির উন্নয়ন যাত্রায় অংশগ্রহণ করুক।” দুই শিবিরের এই ডিজিটাল প্রচারের প্রতিযোগিতা এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচ্য বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ডিজিটাল যুদ্ধই হতে পারে বাংলার ভোটযুদ্ধের অন্যতম বড় মোড় ঘোরানো পর্ব।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন